প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬, মুহাররম-সফর ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
৪৬. চিন্তা-ফিকর, মুরাকাবা ও ধ্যান
উপরের হাদীসটি জাল হলেও ইসলামে জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি হিসেবে চিন্তা-গবেষণাকে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। কুরআন ও হাদীসে তাফাক্কুর ও তাদাব্বুর-কে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে, পূর্ববর্তী জাতিগুলোর পরিণতি নিয়ে, মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টি, প্রাণী, গ্রহ, নক্ষত্র, মানবীয় প্রকৃতি ইত্যাদি নিয়ে তাফাক্কুর বা চিন্তা- ভাবনা করতে কুরআনে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ((২) বাকারা: ২১৯, ২৬৬; (৬) আনআম: ৫০; (৭) আরাফ ১৭৬; (১০) ইউনুস ২৪; (১৩) রা’দ: ৩; (১৬) নাহল: ১১, ৪৪, ৬৯; (৩০) রূম: ২১; (৩৯) যুমার: ৪২; (৪৫) জাসিয়া: ১৩; (৫৯) হাশর: ২১…।) তবে প্রচলিত অর্থে ধ্যান করতে কুরআন হাদীসে কোথাও নির্দেশ দেওয়া হয় নি।
এছাড়া পরবর্তী যুগের সূফীগণের মধ্যে প্রচলিত ‘মুরাকাবা অর্থ ধ্যান নয়। মুরাকাবা অর্থ পর্যবেক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণ (supervision/control) ইমাম গাযালীর এহইয়াউ উলূমিদ্দীন ও তাসাউফ বিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থ পাঠ করলে পাঠক দেখবেন যে, তাসাউফের পরিভাষায় মুরাকাবা অর্থ আত্ম-পর্যবেক্ষণ বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণ। অর্থাৎ সর্বদা নিজের কর্মকা- নিজেই পর্যবেক্ষণ করা এবং নিজের আমলের উন্নতি-অবনতির বিষয়ে আত্ম-সমালোচনা ও আত্ম-পর্যবেক্ষণ।
ধ্যান (meditation) বলতে বর্তমানে এক ধরনের মিথ্যা কল্পনার মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখা বুঝানো হয়। এরূপ মিথ্যা কল্পনার মধ্যে ডুবে থেকে কিছু সময়ের জন্য নিজের মনকে বাস্তব দুশ্চিন্তা, হতাশা ইত্যাদি থেকে বিমুক্ত রাখা হয়। আত্ম-উন্নয়ন, মনোসংযোগ বৃদ্ধি, হতাশা-মুক্তি ইত্যাদির জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে নিম্নের বিষয়গুলো লক্ষণীয় :
(ক) এরূপ মিথ্যা কল্পনায় নিমগ্ন থাকাকে ইসলামী তাফাক্কুর অথবা মুরাকাবা বলে আখ্যায়িত করা ইসলামের নামে মিথ্যাচার।
(খ) আত্মউন্নয়ন, মনোসংযোগ এবং দুশ্চিন্তা-হতাশা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর যিকর ও দুআ অনেক বেশি কার্যকর। জোর করে মনকে মিথ্যা কল্পনায় নিমগ্ন না রেখে যথাসম্ভব মনোযোগ সহকারে সামান্য সময় আল্লাহর যিকর ও দুআ করলে অনেক বেশি জাগতিক-মানসিক ফল পাওয়া যায়। পাশাপাশি সাওয়াব ও আত্মিক উন্নতি তো অপরিসীম।
৪৭. মারিফাতের প্রাবল্যে আত্মবিলুপ্তি
যাহিরী ইলম, বাতিনী ইলম, মারিফাত, ফানা ইত্যাদি বিষয়ক দাজ্জাল জালিয়াতদের বানানো একটি গল্প একজন সরলপ্রাণ সুফীর বই থেকে উদ্ধৃত করছি: হজরত (রাসূলুল্লাহ) ঐশী উন্মাদনার মধ্যে এরূপ আত্ম-বিলুপ্ত হইতেন যে, প্রিয় সহধর্ম্মিনী আয়েশাকেও চিনিতে পারিতেন না। একদা আঁ-হযরত স্বীয় স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন: মান আন্তে (তুমি কে)? হযরত আয়েশা বলিলেন, আনা আয়েশাতা (আমি আয়েশা)। পুনরায় আঁ-হযরত জিজ্ঞাসা করিলেন, মান আয়েশাতা (আয়েশা কে)? তিনি বলিলেন, বিন্-তুচ্ছ ছিদ্দীক (প্রথম খলিফা ছিদ্দিক কন্যা)। পুনরায় আঁ-হযরত জিজ্ঞাসা করিলেন, ছিদ্দিক কে? উত্তরে তিনি বলিলেন-মুহাম্মদের শ্বশুর। যখন পুনরায় আঁ-হযরত জিজ্ঞাসা করিলেন, মুহাম্মদ কে? তখন হযরত আয়েশা স্বামীর অবস্থান্তর বুঝিতে পারিয়া নির্বাক রহিলেন। (আলহাজ্জ খান বাহাদুর আহছানউল্লা, ছুফী (ঢাকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২য় সংস্করণ ২০১১) পৃষ্ঠ ১৮।)
মহান আল্লাহ জালিয়াতদেরকে লাঞ্ছিত করুন, জালিয়াতির অপবিত্রতা থেকে তাঁর প্রিয়তম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র আঙ্গিনাকে মুক্ত করুন, জালিয়াতদের বানানো জাল ইসলাম থেকে উম্মাতে মুহাম্মাদীকে রক্ষা করুন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মাতের সকলকে তাঁর রেখে যাওয়া কুরআন কারীম ও বিশুদ্ধ হাদীসের আলোকে জীবন গঠনের তাওফীক প্রদান করুন।
ঈমান বিষয়ক
১. স্বদেশ প্রেম ঈমানের অংশ
একটি অতি প্রচলিত বাক্য :
দেশপ্রেম ঈমানের অংশ।
হাদীসের হিসেবে কথাটি একেবারেই ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট। (সাখাবী, আল-মাকাসিদ, পৃ ১৯৫, নং ৩৮৬, মোল্লা আরী কারী, আল-আসরার, পৃ: ১০৯, নং ৪১৩, আল-মাসনূ’য়, পৃ: ৬৯, নং ১০৬, আজলূনী, কাশফুল খাফা ১/৪১৩, যারকানী, মুখতাসারুল মাকাসিদ, পৃ: ৯৫, নং ৩৬১)
এছাড়া কথাটির অর্থও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ততটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কাজেই একে আলিমগণের কথা বা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলে চালানোরও যৌক্তিকতা নেই। ঈমান ও ইসলাম ঐ সব কর্মের সমষ্টি যা মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় করতে পারে বা অর্জন করতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে বা জন্মগতভাবে সে সকল বিষয় অর্জিত হয় তাকে ঈমানের বা ইসলামের অংশ বলা হয় না। কারণ এগুলো ঐচ্ছিক বা ইচ্ছাধীন কর্ম নয়। জন্মস্থান, আবাসস্থল, বন্ধুবান্ধব, স্ত্রী, সন্তান, পরিজন ও পিতামাতার প্রতি ভালবাসা একটি প্রকৃতিগত বিষয়। মানুষ সৃষ্টিগতভাবে এদের প্রতি ভালবাসা অনুভব করে। এগুলো কোনটিই ঈমানের অংশ নয়। এজন্য পিতামাতার আনুগত্য ও সেবাকে ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা হয়েছে, পিতামাতার ভালবাসাকে নয়। অনুরূপভাবে দেশের প্রতি, আবাসস্থলের প্রতি, পাড়া প্রতিবেশীর প্রতি মুসলিমের অনেক দায়িত্ব রয়েছে, যা তিনি ইচ্ছাধীন কর্মের মাধ্যমে পালন করবেন। কিন্তু প্রাকৃতিক ভালবাসাকে ঈমানের অংশ বলা ইসলামী ধারণার সাথে পুরোপুরি মেলে না।
কেউ যদি প্রকৃতির নিয়মকে লঙ্ঘন করে, নিজ সন্তান, স্ত্রী, পিতামাতা, আবাসস্থল বা দেশকে ভাল না বাসে তাহলে আমরা তাকে অপ্রকৃতিস্থ, পাগল ইত্যাদি বলব। আর যদি এ অবস্থা তাকে উপর্যুক্ত দায়িত্বাদি পালন থেকে বিরত রাখে তাহলে আমরা তাকে পাপী ও আল্লাহর অবাধ্য বলব।
২. প্রচলিত পাঁচ কালিমা ও দুই ঈমান
আমাদের দেশে ইসলামী ঈমান-আকীদার বিবরণের ক্ষেত্রে পাঁচটি কালিমার কথা প্রচলিত আছে। এছাড়া ঈমানে মুজমাল ও ঈমানে মুফাস্সাল নামে দু’টি ঈমানের কথা আছে। কায়েদা, আমপারা, দীনিয়াত ও বিভিন্ন প্রচলিত বই পুস্তকে এ কালিমাগুলো রয়েছে। এগুলোকে অত্যন্ত জরুরী মনে করা হয় এবং বিশেষভাবে মুখস্থ করা। এ বাক্যগুলোর অর্থ সুন্দর। তবে সবগুলো বাক্য এভাবে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়নি। এগুলোকে কুরআনের কথা বা হাদীসের কথা মনে করলে ভুল হবে।
(১) কালিমায়ে শাহাদত
কুরআন ও হাদীসে ইসলামী ঈমান বা বিশ্বাসের মূল হিসাবে দু’টি সাক্ষ্য প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা আমাদের দেশে কালিমা শাহদাত হিসাবে পরিচিত। এ কালিমায় আল্লাহর তাওহীদ এবং মুহাম্মাদ এর রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে একমাত্র কালিমা শাহাদতই হাদীস শরীফে ঈমানের মূল বাক্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সালাতের (নামাযের) তাশাহ্হুদের মধ্যে বাক্যদ্বয় এভাবে একত্রে বলা হয়েছে :
اشهد ان لا اله الا الله و اشهد ان محمدا عبده و رسوله
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ (উসাস্য) নেই এবং আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
এ কালিমা বা বাক্যটি দুটি বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত।
প্রথম বাক্য : اشهد ان لا اله الا الله
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ (উপাস্য) নেই।
এ প্রথম বাক্যটির ক্ষেত্রে কোনো কোনো হাদীসে বলা হয়েছে : لا اله الا الله وحده لا شريك له
আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই।
দ্বিতীয় বাক্য : و اشهد ان محمدا عبده و رسوله
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
আযানের মধ্যে এ বাক্যদ্বয়কে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বাক্যটির ক্ষেত্রে কোনো কোনো হাদীসে অর্থাৎ اشهد আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি কথাটি পুনরাবৃত্তি না করে শুধুমাত্র এবং وان নিশ্চয় বলা হয়েছে। কোনো কোনো হাদীসে বাক্যদ্বয়ের শুরুতে اشهد বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে : وان محمدا رسول الله
দ্বিতীয় বাক্যটির ক্ষেত্রে অনেক হাদীসে ان محمدا رسول الله মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল কথাটির পরিবর্তে ان محمدا عبده و رسوله মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল- বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো কোনো হাদীস সাক্ষ্য প্রদান শব্দের পরিবর্তে বলা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন হাদীসে আমরা এ কালেমাটিকে নিম্নের বিভিন্ন রূপে দেখতে পাই (বুখারী, আস-সহীহ, ১/১২, ২৯, ৩/১২৬৭; মুসলিম, আস-সহীহ ১/৪৫, ৪৭, ৫৭, ৬১)
(১) প্রথম রূপ : اشهد ان لا اله الا الله و اشهد ان محمدا عبده و رسوله
(২) দ্বিতীয় রূপ :اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله
(৩) তৃতীয় রূপ :اشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له وان محمدا عبده ورسوله
(৪) চতুর্থ রূপ :لا اله الا الله وان محمدا رسول الله
(৫) পঞ্চম রূপ :اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا عبده ورسوله
বিভিন্ন হাদীসে আমরা দেখতে পাই যে, সাহাবায়ে কেরাম ইসলাম গ্রহণের সময়ে উপরে উল্লিখিত এ সকল বাক্যের কোনো একটি পাঠ করে ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করতেন। (বুখারী, আস-সহীহ ১/১৭৬, ৩/১২১১: মুসলিম, আস-সহীহ ১/৩০২, ৩/১৩৮৬; নাসাঈ, আস-সুনান ১/১০৯)
(২) কালিমায়ে তাইবিয়া
আমাদের দেশে কালিমা তাইবিয়া বা পবিত্র বাক্য বলতে বুঝানো হয় তাওহীদ ও রিসালাতের একত্রিত ঘোষণা :
কুরআন কারীমে আল্লাহ জাল্লা শানুহু বলেন :أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ
তুমি কি দেখ নি, কিভাবে আল্লাহ একটি উদাহরণ পেশ করেছেন: একটি কালিমায়ে তাইয়িবা বা পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র বৃক্ষের মত, তার মূল প্রতিষ্ঠিত এবং তার শাখা-প্রশাখা আকাশে প্রসারিত। (সূরা (১৪) ইবরাহীম: আয়াত ২৪)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) ও অন্যান্য মুফাস্সির থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এখানে কালিমা তাইয়িবা বলতে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু তাওহীদের এ বাক্যটিকে বুঝানো হয়েছে। (ইবনু কাসীর, আত-তাফসীর ২/৫৩১) কিন্তু (লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) দুটি বাক্য একত্রিতভাবে কোনো হাদীসে কালিমা তাইয়িবা হিসাবে উল্লেখ করা হয়নি।
আমরা দেখেছি যে, কালিমা শাহাদাতকে অনেক সময় শাহাদাত শব্দ উহ্য রেখে নিম্নরূপে বলা হয়েছে :لا اله الا الله وان محمدا رسول الله
কিন্তু মাঝখানে وان বাদ দিয়ে উভয় অংশ একত্রে لا اله الا الله محمد رسول الله
এভাবে কালিমা হিসাবে সহীহ হাদীসে কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায় না। কোনো কোনো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, এভাবে এ বাক্যদ্বয় একত্রে আরশের গায়ে লিখা ছিল। আমরা ইতোপূর্বে দেখেছি যে, এ হাদীসগুলো সহীহ নয়। কোনো কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঝান্ডা বা পতাকার গায়ে লিখা ছিল :لا اله الا الله محمد رسول الله
এ অর্থের হাদীসগুলোর সনদে দুর্বলতা আছে। (হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৩২১)
ইবন হাজার আসকালীন ইমাম হাকিম নাইসাপুরীর সূত্রে উদ্বৃত করেছেন যে, আবূ যার গিফারী (রা) রাসূলুল্লাহ -কে প্রশ্ন করেন :
আমরা আপনার বক্তব্য শুনতে এসেছি। তখন তিনি বলেন :اقول لا اله الا الله محمد رسول الله
আমি বলি: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।”
হাদীসটির সনদ সহীহ। ইমাম হাকিমের মুসতাদরাক গ্রন্থে হাদীসটি প্রায় হুবহু বিদ্যমান।
তবে সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য নিম্নরূপ :اقول لا اله الا الله و اني رسول الله
আমি বলি: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্নী রাসূলুল্লাহ : আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল (হাকিম, আল-মুসতাদরাক ৩/১২১; ইবনু তহাজার আসকালানী, আল-ইসবাহ ৬/৪৬৩)
এখানে উল্লেখ্য যে, কালিমা তাইয়িবার দুটি অংশ পৃথকভাবে কুরআন কারীমে ও হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় বাক্যই কুরআনের অংশ এবং ঈমানের মূল সাক্ষ্যের প্রকাশ। উভয় বাক্যকে একত্রে বলার মধ্যে কোনো প্রকারের অসুবিধা নেই। এজন্য আমরা ইসলামের প্রাচীন গ্রন্থগুলো দেখি যে, তাবিয়ীগণের যুগ থেকে ইমাম, ফকীহ, মুহাদ্দীসগণ কালিমা শাহাদতের মূল ঘোষণা হিসাবে এ বাক্যটির ব্যবহার করেছেন। এ বাক্যটি ব্যবহারের বিষয়ে কেউ কোনো আপত্তি করেন নি। কুরআনে কালিমাতুত্ তাকওয়া তাকাওয়ার বাক্য বলা হয়েছে (সূরা (৪৮) ফাত্হ : ২৬ আয়াত)। এর ব্যাখ্যায় তাবিয়ী আতা আল-খুরাসানী (১৩৫ হি) বলেন: কালিমায়ে তাকওয়া হলো (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) তাবারী, আত-তাফসীর ২৬/১০৫)।
(৩) কালিমায়ে তাওহীদ
কালিমায়ে তাওহীদ নামে আমাদের দেশে নিম্নের বাক্যটি প্রচলিত :
لا اله الا انت واحد لا ثاني لك محمد رسول الله امام المتقين و رسول رب العالمين
এ বাক্যটির অর্থ সুন্দর। তবে এ বাক্যটির কোনোরূপ গুরুত্ব এমনকি এর কোনো প্রকারের উল্লেখ বা অস্তিত্ব কুরআন বা হাদীসে পাওয়া যায় না।
(৪) কালিমায়ে তামজীদ
কালেমায়ে তামজীদ হিসাবে নিম্নের বাক্যটি প্রচলিত :
لا اله الا انت نورا يهدى الله لنوره من يشا محمد رسول الله امام المرسلين خاتم النبيين
এ বাক্যটির অর্থও সুন্দর। কিন্তু এভাবে এ বাক্যটি বলার কোনো নির্দেশনা, এর কোনো গুরুত্ব বা অস্তিত্ব কুরআন বা হাদীসে পাওয়া যায় না।
(৫) কালিমায়ে রাদ্দে কুফর
কালেমায়ে রাদ্দে কুফর নামে কয়েকটি বাক্য প্রচলিত আছে, যেমন :
শিরক থেকে আত্মরক্ষার একটি দুআ হাদীসে বর্ণিত। (দুআটি দেখুন: রাহে বেলায়াত, পৃষ্ঠা ৫৪২) এ কালিমার মধ্যে উক্ত মাসনূন দুআর সাথে কিছু কথা সংযুক্ত করা হয়েছে। বাক্যগুলোর অর্থ ভাল। কিন্তু বাক্যগুলো এভাবে কোনো হাদীসে পাওয়া যায় না।
(৬) ঈমানে মুজমাল
ইমানে মুজমাল নামে প্রচলিত বাক্যটির অর্থ সুন্দর ও সঠিক। তবে এরূপ কোনো বাক্য কোনোভাবে কোনো হাদীসে উল্লেখ করা হয়নি।
