প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৯ম সংখ্যা, মার্চ ২০১৬, জমা.আউ-জমা.সানী ১৪৩৭ হিজরী, ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

১। শপথ নেই (বাতাসসমূহের), যারা পর পর ও ক্রমাগতভাবে প্রেরিত হয়,
২। পরে প্রচণ্ড ঝড়ের বেগে চলিতে থাকে
৩। এবং (মেঘমালাকে) ঊর্ধ্বে লইয়া (মহাকাশে) ছড়াইয়া দেয়।
৪। পরে (উহাকে) টুকরা টুকরা করিয়া আলাদা করিয়া দেয়,
৫। পরে (লোকদের মনে খোদার) স্মরণ জাগাইয়া দেয়
৬। ওযর হিসাবে, কিংবা ভয় প্রদর্শন রূপে ১।
৭। তোমাদের নিকট যে জিনিসের ওয়াদা করা হইতেছে, তাহা অবশ্যই সংঘটিত হইবে ২।

১ অর্থাৎ কখনও বাতাস রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়ার মানুষের সম্ভব দ্রবীভূত হয় ও তারা অনুতাপ-অনুশোচনাসহ আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে ও তাদের পাপ ত্র“টির জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করতে শুরু করে; আর কখনও এই বাতাস আল্লাহর করুণার ধারা বৃষ্টি আনয়ন করায় লোকে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আবার কখনও এই বাতাসের প্রবল ঝটিকার প্রচণ্ডতা দেখে মানুষের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার হয় এবং ধ্বংসের ভয়ে মানুষ খোদার দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
২ অর্থাৎ বাতাসের এই ব্যবস্থাপনা সাক্ষ্য দেয় এক সময় কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে। বাতাস যদিও সৃষ্টির জীবন রক্ষার জন্যে শুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, কিন্তু আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন এই বাতাসকেই ধ্বংসের কারণ স্বরূপ করতে পারেন এবং তা করে থাকেন।

৮। পরে যখন নক্ষত্রমালা ম্লান হইয়া যাইবে,
৯। আকাশ বিদীর্ণ করা হইবে,
১০। পাহাড় ধুনিয়া ফেলা হইবে
১১। এবং রসুলগণের উপস্থিতির সময় আসিয়া পড়িবে ৩
১২। (সেই দিনই সে জিনিস সংঘটিত হইবে)। কোন্ দিনের জন্য এই কাজটি তুলিয়া রাখা হইয়াছে?
১৩। চূড়ান্ত বিচার ফয়সালার দিনের জন্য।
১৪। সেই ফয়সালার দিনটি কি, তাহা কি তোমার জানা আছে?
১৫। সেই দিন চূড়ান্ত ধবংস ও বিপর্যয় হইবে অমান্যকারী লোকদের জন্য।
১৬। আমরা কি আগের কালের লোকদিগকে চালাইয়া দিব।
১৭। পরে উহাদের পিছনে আমরা পরবর্তী লোকদিগকে চালাইয়া দিব।
১৮। অপরাধীদের সহিত আমরা এইরূপ আচরণই গ্রহণ করিয়া থাকি।

৩ মহান কুরআনের মধ্যে কয়েক স্থানে এ কথা বলা হয়েছে যে, হাশরের ময়দানে মানব জাতির মোকদ্দমা যখন খোদার আদালতে পেশ হবে তখন .সাক্ষ্যদানের জন্য প্রত্যেক মানব গোীর প্রতি প্রেরিত রসূলকে সাক্ষী হিসাবে উপস্থাপিত করা হবে এবং রসূল সাক্ষ্য দান করবেন যে, আল্লাহর পয়গাম তিনি তাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন।