প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৫ম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৭, মুহাররম-সফর ১৪৩৯ হিজরী, কার্তিক-অগ্রহায়ন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

আর যে কেহই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনিবে এবং নেক আমল করিবে, আল্লাহ তায়ালা তাহাকে এমন সব জান্নাতে দাখিল করিবেন যাহার নীচ হইতে ঝর্ণাধারাসমূহ সদা প্রবহান থাকিবে। এই লোকেরা তাহাতে চিরকাল ও সব সময়ই বসবাস করিবে। এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তায়ালা অতীব উত্তম রিয্ক রাখিয়া দিয়াছেন।

১২. আল্লাহতো তিনিই যিনি সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করিয়াছেন এবং পৃথিবী-পর্যায় হইতেও উহার মতো১। এই দুই এর মধ্যে বিধান নাযিল হইতে থাকে। (এই কথা তোমাদিগকে এই জন্য বলা হইতেছে) যেন তোমরা জানিতে পার যে, আল্লাহ সব কিছুর ওপর শক্তিমান এবং এই যে, আল্লাহর জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করিয়া আছে।

টীকাঃ

১ ‘উহারই’ মতো’ -এর অর্থ এই নয় যে- যতগুলি আসমান সৃষ্টি করেছেন ততগুলি যমীনও সৃষ্টি করেছেন। বরং এর অর্থ হচ্ছে- যেমন তিনি কতিপয় আসমান তৈরি করেছেন সেরূপ তিনি কতকগুলি যমীনও সৃষ্টি করেছেন, এবং ‘যমীনের ন্যায়’-এর অর্থ যেরূপ এই যমীন যার উপর মানুষ অবস্থান করছে নিজের উপরিহিত জিনিসের পক্ষে শয্যা ও দোলনা স্বরূপ, সেরূপ আল্লাহ তায়ালা এই সৃষ্টির মধ্যে অন্য এমন যমীনসমূহও নির্মাণ করে রেখেছেন যেগুলি নিজের উপরিস্থিত বসতির পক্ষে শয্যা ও দোলনা স্বরূপ। অন্য কথায়- আসমানে এই যে অসংখ্য গ্রহ-তারা দৃষ্টিগোচর হয় এ সমস্ত শূন্য পতিত হয়ে নেই, বরং পৃথিবীর মতো সেগুলির অনেকের মধ্যে বহু দুনিয়া আবাদ হয়েছে।

(৬৬) সূরা তাহরীম (আয়াত ১-২)

১. হে নবী! তুমি কেন সেই জিনিস হারাম কর যাহা আল্লাহতা’আলা তোমার জন্য হালাল করিয়াছেন১? (তাহা কি এই জন্য যে) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তোষ পাইতে চাও২? – আল্লাহ্ ক্ষমাদানকারী অনুগ্রহকারী।

২. আল্লাহতা’আলা তোমাদের জন্য নিজেদের কসমের বাধ্যবাধকতা হইতে নিষ্কৃতি পাওয়ার পন্থা নির্দিষ্ট করিয়া দিয়াছেন৩। আল্লাহ্ তোমাদের মনিব-মালিক। আর তিনিই সর্বজ্ঞ ও সুষ্ঠু সুদৃঢ় কর্ম-সম্পাদনকারী।

টীকাঃ

১ প্রকৃতপক্ষে এ প্রশ্ন নয়- এ না পছন্দ করার অভিব্যক্তি; অর্থাৎ নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এ কথা জানা উদ্দেশ্য নয় যে- তিনি কেন এ কাজ করেছেন; বরং এর উদ্দেশ্য- তাঁকে এ বিষয়ে সতর্ক করা যে- আল্লাহর নির্ধারিত হালাল জিনিসকে নিজের উপর হারাম করে দেওয়ার যে কাজ তাঁর দ্বারা সংঘটিত হয়েছে আল্লাহতা’আলা তা পছন্দ করেন না। যেহেতু তাঁর স্থান ও মর্যাদা এক সাধারণ মানুষের মতো নয়; বরং তিনি হচ্ছেন আল্লাহর রাসূল; তিনি কোন জিনিস নিজের উপর হারাম করে দিলে এ আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে যে- উম্মতও সে জিনিসকে হারাম বা কমপক্ষে মকরূহ (অপছন্দনীয়) ধারণা করতে থাকবে। এজন্যে আল্লাহতা’আলা তাঁর এ কাজের দোষ ধরেছেন এবং তাঁকে এই ‘হারাম করা’ থেকে বিরত হতে আদেশ দিয়েছেন। এর থেকে এ কথাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ও নিজের পক্ষ থেকে কোন জিনিসকে হালাল বা হারাম করার অধিকার নেই।

২ এর দ্বারা জানা গেল- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম করার এই কাজ- নিজে নিজের কোন ইচ্ছাবশে করেননি, বরং তাঁর বিবিরা চেয়েছিলেন যে তিনি এরূপ করুন এবং তিনি মাত্র তাঁর বিবিদের সন্তুষ্ট করার জন্যে একটি হালাল জিনিসকে নিজের জন্যে হারাম গণ্য করেছিলেন। হাদীসের বিশ্বস্ত বর্ণনা থেকে জানা যায়- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক বিবির (হযরত যয়নব রা.) গৃহে কোন স্থান থেকে মধু এসেছিল, হুযুর যা বড় পছন্দ করতেন। এ জন্যেই তিনি তাঁর সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রমে তাঁর ঘরে বেশি সময় অবস্থান করতে থাকেন। এতে অন্য কোন কোন বিবির ঈর্ষা সৃষ্টি হয়, এবং তাঁরা পরামর্শ করে এই মধুর প্রতি তাঁর এরূপ ঘৃণা জন্মানো যে- তিনি তা ব্যবহার না করার অঙ্গিকার করেন।

৩ মর্ম হচ্ছে- কাফ্ফারা দিয়ে শপথের বাবাধ্যবাধকতা হতে মুক্ত হওয়ার যে পদ্ধতি আল্লাহতা’আলা সূরা মায়েদার ৮৯তম আয়াতে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তা পালন করে তিনি সে অঙ্গিকার ভঙ্গ করেন যার দ্বারা তিনি হালাল জিনিসকে নিজের উপর হারাম করে দিয়েছিলেন।