প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৬, রমাদান-শাওয়াল ১৪৩৭ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

৪। তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তাহার সঙ্গী-সাথীদের মধ্যে একটা উত্তম আদর্শ রহিয়াছে। তাহারা তাহাদের জনগণকে স্পষ্ট ভাষায় বলিয়া দিয়াছেঃ আমি তোমাদের হইতে এবং খোদাকে ছাড়িয়া যে-মাবুদের তোমরা পূজা-উপাসনা কর তাহাদের হইতে সম্পূর্ণ নিঃসম্পর্ক ও বিমুখ। আমরা তোমাদের অস্বীকার করিয়াছি ১ এবং আমাদের ও তোমাদের মাঝে চিরকালের জন্য শত্রতা স্থাপিত হইয়াছে ও বিরোধ-ব্যবধান শুরু হইয়া গিয়াছে যতক্ষণ তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান না আনিবে। তবে ইব্রাহীমের তাঁহার পিতার জন্য এই কথা বলা (ইহা হইতে স্বতন্ত্র ব্যাপার) যে, আমি আপনার জন্য মাগফিরাত চাহিয়া অবশ্যই আবেদন করিব। আর আল্লাহর নিকট হইতে আপনার জন্য কিছু আদায় করিয়া লওয়া আমার সাধ্যের বাহিরে ২। (আর ইব্রাহীম ও তাহার সঙ্গী-সাথীদের প্রার্থনা ছিল এই) হে আমাদের রব্ব! তোমার ওপরই আমরা ভরসা ও নির্ভরতা রাখিয়াছি ও তোমার দিকেই আমরা প্রত্যাবর্তন করিয়াছি এবং তোমার সমীপে আমাদিগকে প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে।

৫। হে আমাদের খোদা! আমাদিগকে কাফেরদের জন্য ফিতনা বানাইয়া দিও না ৩। হে আমাদের রব, আমাদের অপরাধগুলিকে মাফ করিয়া দাও। নিঃসন্দেহ যে, তুমিই মহাপরাক্রমশালী ও সুবিজ্ঞ-বিচক্ষণ।

৬। এই লোকদের কর্মপদ্ধতিতেই তোমাদের জন্য ও এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উন্নত মানের আদর্শ রহিয়াছে যে আল্লাহ ও পরকালের দিনের আকাক্সক্ষী। তাঁহার দিক হইতে যে লোক বিমুখ হইবে তবে আল্লাহ্ তো অনন্য নির্ভর এবং স্বতঃই প্রশংসিত।

৭। অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ্ তোমাদের ও সেই লোকদের মধ্যে কখনও বন্ধুত্ব-ভালোবাসার সঞ্চার করিয়া দিবেন, যাহাদের সহিত আজ তোমরা শত্রতার সৃষ্টি করিয়া লইয়াছ ৪।

১ অর্থাৎ আমরা তোমাদের কাফের (অমান্যকারী)। তোমরা সত্যপন্থী বলে আমরা মানিনা এবং তোমাদের ধর্মকে মানি না।
২ অন্য কথায় এর অর্থ হচ্ছে তোমাদের জন্য হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর এই কথা অনুসরণযোগ্য যে, তিনি নিজের কাফের ও মুশরেক কওমকে পরিষ্কারভাবে তাঁর অসন্তুষ্টি ও সম্পর্কচ্ছেদের কথা ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে নিজের মুশরেক পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন এবং কার্যতঃ তাঁর জন্য প্রার্থনা করেছিলেন এ বিষয়টি তোমাদের জন্যে অনুকরণীয় নয়।
৩ কাফেরদের পক্ষে ফিতনা স্বরূপ হওয়া কয়েক প্রকারে হতে পারে যথা কাফেররা মুমিনের উপর বিজয়ী হয়ে নিজেদের এই জয়কে এ কথার প্রমাণ স্বরূপ গণ্য করে যে আমরা সত্যের উপর আছি এবং মুমিনরা অসত্যের উপর আছে; বা মুমিনের উপর কাফেরদের যুলুম অত্যাচারের বাড়াবাড়ি মুমিনদের ধৈর্য্যরে সীমা অতিক্রম করে এবং অবশেষে মুমিনরা কাফেরদের কাছে অবনত হয়ে নিজেদের ধর্মের ও চরিত্র বিক্রয় করতে প্রস্তুত হয়; অথবা সত্য ধর্মের প্রতিনিধিত্বের উচ্চ মর্যাদায় অধিতি থাকা সত্ত্বেও মুমিনরা সেই মর্যাদার উপযোগী নৈতিক শ্রেত্ব থেকে বঞ্চিত থাকে এবং জগৎ তাদের চরিত্র ও ব্যবহারের মধ্যে সেই একই দোষ লক্ষ্য করে যা জাহেলিয়াতের সমাজে সাধারণভাবে ব্যাপ্ত হয়ে আছে। এতে কাদেরদের এ কথা বলার সুযোগ হয় যে এই ধর্মে কি এমন ভাল জিনিস আছে যার জন্য আমাদের কুফরীর উপর তার শ্রেত্ব আছে বলে মানা যাবে?
৪ উপরোক্ত আয়াতে মুসলমানদেরকে নিজের কাফের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের শিক্ষা দেয়ার পর এ আশাও দেয়া হয়েছে যে, এমন সময়ও আসতে পারে যখন তোমাদের এই আত্মীয়-স্বজন মুসলমান হয়ে যাবে এবং আজকের শত্র“তা কাল পুনরায় বন্ধুত্বে পরিবর্তিত হয়ে যাবে।