প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৬, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৭ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
আর তোমরা নিজেরাও কাফের মেয়ে-লোকদিগকে নিজেদের বিবাহে আটকাইয়া রাখিও না। তোমরা যে মোহরানা তোমাদের স্ত্রীদিগকে দিয়াছিলে তাহা তোমরা ফেরত চাহিয়া লও। আর যে মোহরানা কাফেররা তাহাদের মুসলমান স্ত্রীদের দিয়াছিল তাহা তাহারা ফেরত চাহিয়া লউক। ইহা আল্লাহতায়ালার নির্দেশ। তিনি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করিয়া দেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সুবিজ্ঞানী।

১১. তোমাদের কাফের স্ত্রীদিগকে দেওয়া মোহরানা হইতে কিছু অংশ যদি তোমরা কাফেরদের নিকট হইতে ফিরাইয়া না পাও, আর ইহার পরই তোমাদের সময় উপস্থিত হয় তাহা হইলে যাহাদের স্ত্রীরা ঐ দিকে রহিয়া গিয়াছে তাহাদিগকে এতটা সম্পদ আদায় করিয়া দাও যাহা তাহাদের দেওয়া মোহরানার সমান হইবে। আর সেই খোদাকে ভয় করিতে থাক যাঁহার প্রতি তোমরা ঈমান আনিয়াছ।

১২. হে নবী! তোমার নিকট মুমিন স্ত্রীলোকেরা যদি এই কথার ওপর বায়আত করার জন্য আসে ১ এবং এই কথার প্রতিশ্রতি দান করে যে, তাহারা আল্লাহর সহিত কোন জিনিসই শরীক করিবে না, চুরি করিবে না,জ্বিনা-ব্যাভিচার করিবে না, নিজেদের সন্তান হত্যা করিবে না, নিজেদের সামনে কোন মিথ্যা দোষারোপ রচনা করিয়া আনিবে না ২, এবং কোন স্পষ্ট পরিচিত ন্যায্য ব্যাপারে তোমার অবাধ্যতা করিবে না ৩, তবে তুমি তাহাদের বায়আত গ্রহণ কর এবং তাহাদের জন্য আল্লাহর নিকট মাগফিরাতের দুআ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

১৩। হে লোকেরা যাহারা ঈমান আনিয়াছ, সেই লোকদিগকে বন্ধু বানাইও না যাহাদের ওপর আল্লাহতায়ালা গযব নাযিল করিয়াছেন, যাহারা পরকাল সম্পর্কে তেমনি নিরাশ, যেমন কবরে সমাধিস্থ কাফেররা

১ এ আয়াত মক্কা বিজয়ের কিছু পূর্বে দাখিল হয়েছিল। এরপর যখন মক্কা বিজয় হলো তখন কুরাইশরা দলে দলে হুযুরের বায়আত করার জন্যে উপস্থিত হতে শুরু করলো। তিনি সাফা পাহাড়ের উপর নিজে পুরুষদের বায়আত গ্রহণ করেন এবং স্ত্রীলোকদের বায়আত গ্রহণের জন্যেও এই আয়াতে উল্লেখিত বিষয়সমূহের অঙ্গীকার লওয়ার জন্যে তিনি নিজের পক্ষ থেকে হযরত ওমরকে (রা.) নিযুক্ত করেন। এর পর মদীনায় প্রত্যাবর্তন করে তিনি একটি স্থানে আনসারদের স্ত্রীলোকদের একত্র করতে নির্দেশ দেন এবং হযরত ওমরকে (রা.) তাদের বায়আত গ্রহণের জন্যে প্রেরণ করেন।

২ এর দ্বারা দুই প্রকার মিথ্যা দোষারোপ বোঝানো হয়েছে। প্রথম কোন স্ত্রীলোকের পক্ষে স্ত্রীলোকের বিরুদ্ধে পরস্পরের সঙ্গে প্রেম করার অপবাদ দেয়া এবং এই প্রকারের কাহিনী লোকদের মাঝে প্রচার করা। দ্বিতীয় স্ত্রীলোকের পক্ষে পর পুরুষের ঔরষে সন্তান জন্ম দিয়ে স্বামীকে বিশ্বাস দান করা যে, এ তোমারই সন্তান।

৩ এই সংক্ষিপ্ত বাক্যাংশে দুইটি বড় গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আনুগত্যের বিষয়েও ভালো কাজের আনুগত্য-এর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অথচ হুযুর সম্পর্কে এ ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহের অবকাশ ছিল না যে, তিনি কখনও খারাপের হুকুম দিতে পারেন। এর দ্বারা স্বতঃই সুস্পরূপে বোঝা যায় যে, দুনিয়াতে কোন সৃ বস্তুর আনুগত্য খোদায়ী কানুনের সীমালঙ্ঘন করে করা যেতে পারে না; কেননা আল্লাহর রাসূলের আনুগত্য পর্যন্ত যখন ভালো কাজে আনুগত্য এই শর্তযুক্ত, তখন অন্য কারুর এ মর্যাদা কি করে হতে পারে যে সে শর্তহীন আনুগত্য পাওয়ার হকদার হবে এবং কি করে তার এরূপ কোন হুকুমের বা আইনের বা পদ্ধতির ও প্রথার অনুসরণ করা যেতে পারে বা খোদায়ী কানুনের প্রতিকূল? এই আয়াতে ৫টি নেতিবাচক হুকুম দেয়ার পর ইতিবাচক হুকুম মাত্র একটিই দেয়া হয়েছে। আইনগত দিক দিয়ে এ ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্ত ভালো কাজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ পালন করতে হবে। মন্দ কাজ সম্পর্কে সেই বড়বড় দোষগুলি উল্লেখ করা হল জাহেলিয়াতের যুগে স্ত্রী লোকেরা যাতে লিপ্ত ছিল, এবং সে দোষগুলি থেকে বেঁচে থাকার অঙ্গীকার গ্রহণ করা হল। কিন্তু ভালো কাজ সম্পর্কে, ভালো কাজের কোন তালিকা পেশ করে অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়নি যে, তোমরা অমুক অমুক কাজ করবে। বরং এই প্রতিশ্র“তি লওয়া হয়েছিল যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সৎকাজের হুকুম দান করবেন তা তোমাদের পালন করতে হবে।