প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৫, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭ হিজরী, অগ্র-পৌষ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
৪। কুফরকারীদের জন্য আমরা শিকল, কণ্ঠকড়া ও দাউ দাউ করিয়া জ্বলা আগুন প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছি।
৫। নেককার লোকেরা (জান্নাতে) শরাবের এমন সব পাত্র পান করিবে যাহার সহিত কর্পুর সংমিশ্রণ হইবে।
৬। ইহা একটি প্রবাহমান ঝর্ণা হইবে, যাহার পানির সঙ্গে আল্লাহর বান্দারা শরাব পান করিবে এবং যেখানে ইচ্ছা অতি সহজেই উহার শাখা প্রশাখা বাহির করিয়া লইবে।
৭। ইহারা সেই লোক হইবে যাহারা (দুনিয়ায়) মানত (১) পূরণ করে, এবং সেই দিনটিকে ভয় করে যাহার বিপদ সর্বত্র বিস্তৃত হইবে।
৮। এবং আল্লাহর ভালোবাসার মিসকীন, ইয়াতীম ও কয়েদীকে খাবার খাওয়ায়।
৯। (আর তাহাদিগকে বলে) আমরা তোমাদিগকে কেবল আল্লাহর জন্যই খাওয়াইতেছি। আমরা তোমাদের নিকট হইতে না কোন প্রতিদান চাহি, না কৃতজ্ঞতা।
১০। আমরা তো খোদার প্রতি সেই দিনের আযাবের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত, যে দিনটি কঠিন বিপদের অতিশয় দীর্ঘ দিন হইবে।
১১। অতএব আল্লাহ তায়ালা তাহাদিগকে সেই দিনের অমঙ্গল হইতে রক্ষা করিবেন এবং তাহাদিগকে সতেজতা ও আনন্দ-সুখ দান করিবেন।
১২। আর তাহাদের ধৈর্য্য-সহিষ্ণুতার (২) বিনিময়ে তাহাদিগকে জান্নাত ও রেশমী পোশাক দান করিবেন।
১৩। তথায় তাহারা উচ্চ আসনসমূহে ঠেশ দিয়া বসিবে। তাহাদিগকে না সূর্যতাপ জ্বালাতন করিবে, না শীতের প্রকোপ।
১৪। জান্নাতের ছায়া তাহাদের উপর অবনত হইয়া থাকিবে এবং উহার ফলসমূহ সর্বদা তাহাদের আয়ত্তাধীন থাকিবে।(তাহারা ইচ্ছামত উহা পাড়িতে পারিবে)।
***
১. মানত অর্থ খোদার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ফরযের অতিরিক্ত কোন সৎকর্ম সম্পন্ন করার জন্য খোদার কাছে প্রতিশ্রুতি দান করা।
২. ঈমান আনার পর জীবনের শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত খোদার আদেশ-নিষেধ পালন করার এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকার অর্থে এখানে সবর (ধৈর্য্য-সহিষ্ণুতা) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
