প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা,অক্টোবর ২০১৬, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৭-৩৮ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

পবিত্র কোরআনে সূরা আরাফের ২০৫ নং আয়াতের তাফসীরে আছে…………………………………………

অর্থাৎ স্মরণ কর তোমার প্রভুকে স্বীয় অন্তরে সকাতরে ও ভয়ভীতির সাথে মধ্যম আওয়াজে, একেবারে চুপেও নয় এবং উচ্চ স্বরেও নয় দিনের প্রথম ভাগে ও শেষ ভাগে এবং আল্লাহর জেকের হইতে যারা বিরত থাকে তাহাদের মধ্যে তুমি পরিগণিত হইও না। জামেউল উসূল কিতাবে লিখিত আছে……………………………………………

– আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করার জন্য একমাত্র জেকেরই নির্ভরযোগ্য পন্থা। জেক্রে দাওয়াম ব্যতীত কেহই আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে সমর্থ হইবেনা। কেননা এইরূপ জেকরে দাওয়াম অভ্যাস করার আদেশ বহু সংখ্যক দলীল দ্বারা প্রমাণিত আছে। আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে অত্যাধিক স্মরণ কর এবং ছোবহে-শাম তদীয় গুণকীর্তন কর।

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন, হে আদম সন্তান! আমাকে স্মরণ করাই তোমার কৃতজ্ঞতা এবং আমাকে ভুলিয়া যাওয়াই আমার প্রতি তোমার অকৃতজ্ঞতা। হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আল্লাহকে স্মরণ করা যাবতীয় আমল হইতে শ্রেষ্ঠ। প্রত্যেক বস্তু পরিষ্কারের যন্ত্র আছে, অন্তর পরিষ্কার করার জন্য যন্ত্র হইল আল্লাহ তায়ালার জেকের। উক্ত কিতাবে আরো আছে, জেকের করার জন্য কোন নির্ধারিত সময় নাই বরং ফরজ ও মোস্তাহাব নির্বিশেষে মনে মুখে দিবা রাত্রিই জেকের করিবার আদেশ রহিয়াছে। কুরআন শরীফে বর্ণিত আছে, জ্ঞানী তাহারাই যাহারা উঠিতে, বসিতে ও শয়নে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে।
উক্ত কিতাবে আরও আছে, ছররি হইতে কোশায়ারি বর্ণনা করিতেছেন যে, কোন কোন আছমানী কিতাবে উল্লিখিত আছে, যখন আমার বান্দা আমাকে অধিক স্মরণ করে, তখন সে আমার আশেক হয়ে যায়, আর আমি তাহাকে অধিক ভালোবাসি। সূরা আরাফের শেষ রুকুতে আছে…………………………………………………

অর্থাৎ- তোমার প্রতিপালককে সভয়ে, সকাতরে, মৃদু স্বরে ছোবহে শাম অন্তরে অন্তরে স্মরণ কর এবং তুমি উহা হইতে অন্য মনস্ক হইওনা।
উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে কবীরের ৪র্থ খণ্ডে লিখিত আছে…………………………………………

অর্থাৎ- উক্ত আয়াতের মধ্যে ছোবহে শাম জেকের করার কথা উল্লেখ করা হইয়াছে। উহার মর্ম দিবা রাত্রি আল্লাহর জেকের করা এবং সাধ্যানুযায়ী উহার অভ্যাস করা। তাফসীরে রুহুল বয়ানেও এইরূপ লিখিত আছে।
তাফসীরে কবিরে আরও আছে…………………………………………………………

অর্থাৎ- হযরত ইবনে আব্বাছ (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, দণ্ডায়মান, উপবেশন ও শয়ন এই তিন অবস্থা ব্যতীত মানুষের যদি অন্য কোন চতুর্থ অবস্থা থাকিত, সে অবস্থায়ও আল্লাহ তায়ালা তাহাকে জেকের করিতে আদেশ করিতেন। ইহা দ্বারা সহজেই বুঝা যায় যে, মানুষ যে কোন অবস্থায়ই থাকুক না কেন, উঠা, বসা ও শয়নে সকল সময়েই খোদার জেকের করিতে হইবে।
উক্ত তাফসীরে করিবের দ্বিতীয় খণ্ডে উল্লেখ আছে…………………………………………………

অর্থাৎ- উক্ত আয়াতের মর্ম এই যে, মানুষ তাহার প্রতিপালককে অবিরাম স্মরণ করিবে। কেননা, যে তিন অবস্থার কথা কুরআন শরীফে উক্ত হইয়াছে, উহা ব্যতীত মানুষের অন্য কোন চতুর্থ অবস্থা নাই। উক্ত তাফসীরে (তোমরা কদাচ অন্য মনস্ক হইওনা)।
এই আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় লিখিত আছে…………………………………………………………………

অর্থাৎ- উল্লিখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে যে, মানুষের যথাসাধ্য শক্তি সামর্থ অনুযায়ী মহান প্রতিপালকের মহিমা ও গৌরব প্রতি মুহূর্তে স্মরণ রাখিতে চো করিবে; এবং এক মুহূর্তের জন্যও যেন বিস্মৃত না হয়। উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রূহুল মায়ানীর ৯ম খণ্ডে লিখিত আছে………………………………………

অর্থাৎ- খোদাতায়ালাকে অন্তরে ও মুখে প্রাণপণে স্মরণ কর। জেকেরের জন্য কোন সময় বিশেষ নাই। বরং অহর্নিশ আল্লাহ তায়ালাকে জেকের করা এবং তাহার সহিত সম্বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যই উক্ত আয়াতে প্রকাশ পাইতেছে। অর্থাৎ সদাসর্বদা তথা প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাসে তাঁহাকে স্মরণ কর। (পাছে-আনফাছ)