প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৬, রমাদান-শাওয়াল ১৪৩৭ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

প্রশ্ন-৪৯ : বগল ও নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা সুন্নত এবং তা সুস্বাস্থ্যের জন্যই প্রয়োজন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বর্ণনা হাদীস শরীফে এসেছে কি? মেডিকেল সায়েন্স কী বলে?

উত্তর : নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার বিষয়ে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাভির নিচের লোম পরিষ্কারের জন্য চুন বা লোমনাশক ব্যবহার করতেননা; বরং লোম বেড়ে উঠলে তিনি তা ক্ষুর দিয়ে পরিষ্কার করে নিতেন। (আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকী)
এ হাদীস থেকে বুঝতে পারা যায় যে পুরুষদের জন্য বিনা প্রয়োজনে নাভির নিচের লোম পরিষ্কারের জন্য Ca(OH)2 বা CaO ব্যবহার করার কিংবা কোনো লোমনাশক সাবান ব্যবহার নিষেধ। কারন চুন বা চুন জাতীয় কোনো রাসায়নিক পদার্থ মানুষের চামড়ার ক্ষতিসাধন করে থাকে। এটি চামড়া penetrate করে internal tissue কেও ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।

বস্তুত বগলে ও নাভির নিচের পশম বা লোম কামিয়ে ফেলা ও পরিষ্কার রাখা একটি উত্তম ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজ। এটি মানুষকে বিভিন্ন রোগ জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে থাকে। তাছাড়া এগুলো পরিষ্কার না রাখলে দুর্গন্ধে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। এসব লোকের আশেপাশে যারা বসে থাকেন তারা এসব দুর্গন্ধ পেয়ে কষ্ট অনুভব করেন। আর স্বাভাবিকভাবে মানুষ এসব ব্যক্তি থেকে দূরে থাকে বা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

আবু নুআইম রহমাতুল্লাহ আলাইহি একটি রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন, যেখানে বলা হয়েছে, নাভির নিচে লোম পরিষ্কারে ক্ষুর ব্যবহার করা হলে তা সহবাসের আকাঙ্খাকে জাগিয়ে তোলে।(আস-সুয়ূতী)

প্রশ্ন-৫০ : এসব স্বভাবজাত উৎকৃষ্ট কাজগুলো করার বিষয়ে কোনো সময়সীমা আছে কি ?

উত্তর : হযরত আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোঁফ ছোট করতে, নখ কাটতে এবং নাভি ও বগলের নিচের লোম পরিষ্কারের জন্য সর্বোচ্চ চল্লিশ দিন সময় নির্ধারণ করেছেন। (মুসলিম, আবূ দাঊদ, আত-তিরমিযী ও আন-নাসাঈ)

অন্যত্র এক বর্ণনায় জানা যায়, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুল আঁচড়িয়ে পরিপাটি করে রাখার হুকুম দিতেন (যাতে আজমী লোকদের বিপরীত করা হয়)। তিনি মাসে একবার বগলের ও নাভির নিম্নাংশের চুল পরিষ্কার করতেন এবং প্রতি ১৫ দিন পর পর নখ কাটতেন। আস-সুয়ূতী রহমাতুল্লাহ আলাইহি একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতি বৃহস্পতিবার আঙ্গুলের নখ কর্তন করো এবং নাভির নিচের ও বগলের নিচের লোম কামিয়ে ফেলো। (আস-সুয়ূতী ও জামে সগীর)

আবূ আবদুল্লাহ আল-আগার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত শুক্রবার জুমুআর নামাযে যাওয়ার পূর্বে গোঁফ ও নখ কাটতেন। (আখলাকুন্নবী ও আল-আনোয়ার ফী শামাইলিন নাবিয়্যিল মুখতার)

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তিত নখ ও চুল মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দিতেন। (জামে সগীর ও নাওয়দিরুল উসূল)

অপর এক বর্ণনায় জানা যায় যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের বাড়তি নখ কেটে ফেলো, কর্তিত জিনিসগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলো এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়া স্থানগুলো ডলে মেজে পরিষ্কার করে রেখো। (জামে সগীর ও নাওয়াদিরুল উসূল)

হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কর্তিত নখ, রক্ত ও চুল মাটিতে পুঁতে রাখা উত্তম। (আস-সুয়ূতী)

বস্তুত যেসব লোক নিয়মিত চুল কাটেন না বা গোঁফ ছাঁটাননা এবং বগল ও নাভির নিচের অংশ পরিষ্কার রাখেননা তাদেরকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করতেন। এমনকি তিনি খাওয়ার সময় এসব লোকের সঙ্গ পরিত্যাগ করতে উপদেশ দিয়েছেন। সুতরাং আমাদের উচিত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত পুরোপুরি মেনে চলা। কারণ তা সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য সম্মত।