প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা,অক্টোবর ২০১৭, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৯ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
প্রশ্ন-৮৬ : খানা মুখে দেয়ার সময় লুকমাহ পড়ে গেলে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করতেন বা কী করতে উপদেশ দিয়েছেন?
উত্তর : হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কারো লুকমাহ (খাবারের গ্রাস) পড়ে গেলে তা তুলে নাও এবং মাটি বা ময়লা পরিষ্কার করে তা খেয়ে নাও। শয়তানের জন্য ফেলে রেখোনা’। (সহীহ মুসলিম, আত-তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)
অন্যত্র জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান সর্বাবস্থায় তোমাদের সকল কাজে হাজির হয়। এমনকি তোমাদের আহারের সময়ও সে এসে উপস্থিত হয়। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কারো খানার লুকমাহ পড়ে গেলে সে যেনো ময়লা দূর করে তা খেয়ে ফেলে, শয়তানের জন্য রেখে না দেয়। আহার শেষে সে যেনো আঙ্গুলগুলো চেটে খায়। কেননা সে জানে না যে খাদ্যের কোন্ অংশে বরকত নিহিত আছে।’ (সহীহ মুসলিম)
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (সহীহ মুসলিম)
নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পতিত খানা দস্তরখানা থেকে উঠিয়ে খেয়ে নিতেন।
সুপ্রিয় পাঠক! সাধারণত দেখা যায় যে, কারো মুখ থেকে খাওয়ার সময় কোনো খাবার মাটিতে পড়ে গেলে তা অনেকে ফেলে দেয়, আবার অনেকে তা তুলে পরিষ্কার করে খেয়ে নেয়। তবে খাবার বস্তুটি যদি খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায় তবে তা ফেলে দেয়াই ভালো। কিন্তু তা না হলে কুড়িয়ে নিয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া উত্তম। কারণ শয়তান আমাদের খাওয়ার সময় আশেপাশেই থাকে। তাকে সে খাদ্য গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া উচতি নয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি মুরগির রান হঠাৎ করে হাত থেকে পড়ে যায়, তবে তা ফেলে দেয়া কি ঠিক হবে? কখনই না। আর যদি তরল বা আধা তরল জাতীয় খাবার পড়ে যায়, তবে তা কুড়িয়ে নেয়া যায়না। এ হাদীসগুলোতে সেসব খাবারের কথা বলা হয়নি। বস্তুত এই হাদীসের গুরুত্ব অনুধাবন করে পীর-মাশায়েখ, আলেম-দরবেশ ও জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি খাবার সময় যদি ১টি ভাতও দস্তরখানে পড়ে যায়, তাও তারা তুলে খেয়ে নেন আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে থাকেন এটা খুবই বরকতপূর্ণ কাজ। এটিই good eating practice of the Prophet (SAWS).
প্রশ্ন-৮৭ : রাস্তায় চলতে-ফিরতে বা বাজারে ঘোরাঘুরির সময় খাওয়া-দাওয়া সম্পর্কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো উপদেশ থাকলে বুঝিয়ে বলবেন ?
উত্তর : আবু উমামা আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বাজারে বা shopping place-এ কোনো কিছু খাওয়া নিম্নমানের কাজ।’ (আল-মু’জামূল কাবীর লিত-তবারানী)
হযরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হেঁটে-চলে, দাঁড়িয়ে পানাহার করতাম। (আত-তিরমিযী)
উপরোক্ত হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে হাঁটা-চলার সময় বা দাঁড়িয়ে পানাহার অপছন্দনীয়, তবে হারাম বা নাজায়েয নয়, সেহেতু সাহাবায়ে কিরামের আমল রয়েছে। তবে বাজারে চলাফেরা বা হাঁটাহাঁটির সময়, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে যাওয়ার পথে বা হাঁটতে হাঁটতে খাওয়া ভদ্রতা ও সভ্যতার পরিপন্থি। চলতে ফিরতে এটা-সেটা মুখে দেয়া মানুষের সুন্দর স্বভাবের আওতায় পড়েনা। তবে ব্যাপকভাবে সবার ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। কারো ক্ষেত্রে বাজারে খাওয়া দাওয়া করা রুচি বহির্ভূত ও বদহজমীর কারণ হতে পারে এবং তার জন্য এটা উৎকৃষ্ট স্বভাব এবং ভদ্রতার পরিপন্থি। আবার কারো জন্য এটা কোন খারাপ বা অসুবিধা নয়। বরং যে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তার জন্য এটা ভদ্রতার পরিপন্থি নয়। তদ্রƒপ তবে কেউ যদি ক্ষুধার্ত হয় বা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তবে নিকটবর্তী কোনো স্থানে বা fast food shop – এ গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে বসে খেলে কোনো অসুবিধা নেই। যেমন চিড়িয়াখানায় গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে কোনো ভালো জায়গায় বসে ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে খানা খাওয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন-৮৮ : রাতের খাবার গ্রহণ সম্পর্কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশ জানাবেন কী ?
উত্তর : হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কখনো রাতে না খেয়ে ঘুমাতে যেয়ো না। যদিও তা এক মুঠো খেজুরও হয়। কারণ রাতে আহার ত্যাগ করলে তার বার্ধক্য ঘনিয়ে আসে।’ (ইবনে মাজাহ)
এ হাদীসের সনদে ইবরাহীম ইবনে আব্দুস সালাম নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি যয়ীফ (দুর্বল)। অপরদিকে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই রাতে আহার করবে, যদিও তা এক মুঠ খেজুরও হয়। কেননা রাতের খাবার ত্যাগ বার্ধক্যের কারণ।’ (আত-তিরমিযী)
ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) বলেছেন। এ হাদীস দুটোর বক্তব্য একই। এটি আধুনিক medical science-এর নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনো চিকিৎসক এটি অস্বীকার করতে পারবেন না।
সুপ্রিয় পাঠক! এবার চলুন এ হাদীস দুটো চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করি। সাধারণত আমরা যে আহার করি, তা ৫-৬ ঘণ্টার ভেতর হজম হয়ে যায়। এ জন্যই পরবর্তিতে ক্ষুধা লাগে। সুতরাং ক্ষুধা লাগলে খাওয়ার বিধান আছে। যদি দুপুরে আপনারা খানা খান, মনে করুন ১-২ টার দিকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে রাত ৮টার দিকে আপনার ক্ষুধা লাগবে। যদি আপনি রাতে না খান তাহলে আপনার পেটে ১৫-১৬ ঘণ্টা কোনো খাবার থাকবে না। এতে স্বাভাবিকভাবেই পেটের physiological process বাধাগ্রস্ত হবে। এটিই তো medical science ; নিয়মিতভাবে দীর্ঘক্ষণ যদি আপনার পেটে খাবার না থাকে তবে gastric acidity হতে পারে।
সুপ্রিয় পাঠক! আমি সম্মানিত medical scientist দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বার্ধক্য সম্পর্কে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেকথা বলেছেন তা প্রমাণ করার জন্য controlled conditions-এ clinical trial দিতে হবে। আমরা ২০-২৫ জন সুস্থ মানুষকে, যাদের বয়স ৪০-৫০ বছর এমন লোকদের নির্বাচন করতে পারি। এই লোকদেরকে দুটি দলে বিভক্ত করে এক দলকে নিয়মিত সকালে, দুপুরে ও রাতে খাবার দেবেন আর অন্য দলকে সকালে ও দুপুরে খাবার দেবেন, আর রাতে কোনো খাবার দেবেন না। তারপর তিন মাস পর বার্ধক্যের চিহ্ন গুলো measure করতে হবে। Aging characteristic গুলো হচ্ছে চুল পাকা, শরীরের ওজন কমে যাওয়া, গায়ের চামড়া কুঁচকানো, চলাচল কম হওয়া, গায়ের পানির অপ্রতুলতা, চেহারার লাবণ্যহীনতা ইত্যাদি। এ characteristic গুলো মাপলেই বোঝা যাবে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সত্যতা। কোনো clinical pharmacist তার জন্য এই M. Phil. degree প্রজেক্ট হাতে নিতে পারেন।
প্রশ্ন-৮৯ : রাতের খাবার গ্রহণের পরপরই ঘুমাতে যাওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কী বর্ণনা হাদীস শরীফে এসেছে অনুগ্রহপূর্বক জানান ?
উত্তর : আবু নু’য়াইম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন যে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের খাবার গ্রহণের পরপরই ঘুমাতে যেতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘খানা আল্লাহর নামে এবং দু’য়ার মাধ্যমে হজম করো এবং রাতের খানা খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যেয়োনা। কারণ এটি তোমার কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে।’ (আস-সুয়ূতী)
এ হাদীসটি আবু নু’য়াইম রহমাতুল্লিাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন তার তিববুন নববী গ্রন্থে। আর ইমাম আস-সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহ তার তিববুন নববী কিতাবে রিওয়ায়াতটি উদ্ধৃত করেছেন। তবে অন্য কোন কিভাবে হাদীসটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ইদানিং অনেক পরিবারে লক্ষ্য করছি যে, তারা অনেক দেরিতে অর্থাৎ রাত ১২-১ ঘটিকার সময় ঘুমাতে যায়। তারা রাতের খাবার খায় রাত প্রায় ১ ঘটিকার দিকে এবং খাওয়ার পর দেরি না করেই বিছানায় শুয়ে পড়ে। এটি স্বাস্থ্যগত কারণেই সঠিক নয় এবং medical science এটি সমর্থন করেনা। এটি সঠিকভাবে খাদ্যদ্রব্য হজম করতে বাধার সৃষ্টি করে এবং পেটের হজমশক্তিকে কমিয়ে দেয়।
তাই নবী করীম রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপদেশ দিয়েছেন, খাদ্যকে যিকির ও নামায দিয়ে হজম করতে এবং আহারান্তে সঙ্গে সঙ্গে শয়ন না করতে। তিনি দুপুরের খাবারের পর কিছুটা বিশ্রাম নিতে উপদেশ দিয়েছেন। অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি বলেন যে রাতের খাবারের পর ইশার নামায পড়া শ্রেয়। অনেক চিকিৎসক রাতে আহারের পর ৪০ কদম হাঁটা উচিত বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন-৯০ : তাড়াতাড়ি খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে রসূল পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশ কী?
উত্তর : খানা খাওয়ার সময় নবী করীম রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করেছেন। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বরেন যে নবী করীম রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যদি খানা প্রস্তুত হয়ে যায় এবং সামনে আনা হয় এবং নামাযের ইকামতও হয়ে যায় তবুও নামায আদায়ের আগেই খেয়ে নাও।’ (সহীহ আল বুখারী)
এই হাদীস থেকে আমরা এ শিক্ষা লাভ করি যে যখন কেউ ক্ষুধার্ত হয় এবং খানাও প্রস্তুত থাকে; আর তা সামনে আনা হয়, তখন ভালোভাবে খানা খেয়ে পরে নামায পড়বে। যদি ঘটনাক্রমে খাবার সামনে চলে আসে আর অপরদিকে নামাযের ইকামত শোনা যায়, তখন নামাযের পূর্বে খানা খাওয়ার জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন।
সুপ্রিয় পাঠক! নামাযের পূর্বে খানা সামনে আসলে এবং খাওয়া শুরু করলে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাড়াহুড়ো করতে নিষেধ করেছেন। এর কারণ ক্ষুধার্ত ব্যক্তি সুষ্ঠুভাবে একাগ্রচিত্তে নামায পড়তে পারেনা। তাই খেয়ে নিয়ে তারপর নামায পড়বে। ফলে খাওয়াও সুষ্ঠুভাবে হবে, আর নামাযও ঠিকমতো পড়া হবে।
তবে এটি একটি উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে বলা। এই হাদীসের অর্থ এই নয় যে, প্রতিদিন নামাযের আযানের সময় খাবার আসবে আর আপনিও আস্তে আস্তে খেয়ে জামাত কাযা করবেন। বস্তত মাগরিব নামাযের পর এবং ইশার নামাযের পূর্বে রাতের খাবার সেরে নেয়া উত্তম। কারণ রাতের খাবারের পর কমপক্ষে ৪০ কদম হাঁটার জন্য নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপদেশ দিয়েছেন।
প্রশ্ন-৯১ : পেঁয়াজ-রসুন খাওয়ার ব্যাপারে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশ কী? পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া কী নিষেধ না হারাম ?
উত্তর : আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্গন্ধমুক্ত খাদ্য অপছন্দ করতেন। যেমন পেঁয়াজ, রসুন বা এই ধরনের কোনো কোনো খাদ্যদ্রব্য। হযরত জাবির ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদা হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তৈরি করা কিছু খাদ্য পাঠালেন। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে খাদ্য খেলেন না। তখন আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাজির হয়ে বিনীতভাবে খানা না খাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেন, এর মধ্যে (কাঁচা) পেঁয়াজ কিংবা রসুন মিশ্রিত ছিলো। তখন তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘পেঁয়াজ বা রসুন কি হারাম?’ তখন রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হারাম নয় বটে, তবে দুর্গন্ধের কারণে আমি এটা পছন্দ করি না।’ (আত-তিরমিযী)
এ হাদীসটি সহীহ মুসলিম একটু অন্যভাবে এসেছে। আবু আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একটি রসুনমিশ্রিত খাবার পাঠালে তিনি তা খেলেন না। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, এটি কি হারাম? তিনি জবাব দিলেন, এটি হারাম নয়। তবে আমি এটির গন্ধ পছন্দ করি না। তখন আমি বললাম, আপনার অপছন্দনীয় দ্রব্য আমিও পছন্দ করবো না।’ (সহীহ মুসলিম)
আবু আইয়ুব আনসারী রদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী উম্মে আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবী করীম রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য খাদ্য তৈরি করলাম, যার মধ্যে শাকসবজি এবং সম্ভবত পেঁয়াজ ছিলো। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত খাদ্য খেতে পছন্দ করলেন না। তিনি সাহাবীদের বললেন, তোমরা খেয়ে নাও। আমি তোমাদের মতো নই। আমার ভয় হয়, এ খানার কারণে আমার সাথীদের তথা ফেরেশতাদের কষ্ট হবে। কারণ যাদের সাথে আমি কথা বলি, তোমরা তাদের সাথে কথা বলোনা।’ (আত-তিরমিযী)
