প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৬, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭-৩৮ হিজরী, অগ্রহায়ন-পৌষ ১৪২৩বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

প্রশ্ন-৬২। হাঁচি আসলে দু‘আ পাঠ ছাড়া আর কী করতে হবে? এ বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনো উপদেশ আছে কী? যা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সমর্থন করে?

উত্তর :মেডিকেল সায়েন্স নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁচি দেয়ার সময় যা করতেন তা পুরোপুরি সমর্থন করে।
In medical science a sneeze is defined as a sudden uncontrollable noisy outburst of air through nose or mouth. It is usually caused by irritation in the nose from dust or when one has a cold. It may be triggered by irritation of a small foreign object or substance of the URT. Sneezing is an involuntary action. It removes offending materials from nasal passages and upper respiratory tract. It clears URT. It also prevents foreign particles from entering the LRT.
হাফিয শায়খ আবু হাইয়্যান ইসফাহানী (রহ.) আখলাকুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামক একটি বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ সংকলন করেছেন, যে গ্রন্থটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ একদল বিদগ্ধ আলেম দ্বারা অনুবাদ করিয়ে প্রকাশ করেছে। আবু দাউদ শরীফেও হাদীসগুলো উদ্ধৃত আছে। সেই বইটিতে তিনি ৬টি সহীহ হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন, যার প্রত্যেকটি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন

(১) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁচি দেওয়ার সময় নিজ আওয়াজকে যথাসম্ভব ছোট করে নিতেন এবং নিজের মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলতেন। (আখলুকুন্নবী)

(২) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন তখন এক টুকরা কাপড় কিংবা আপন বাম হাতের সাহায্যে নিজের মুখমণ্ডল ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির আওয়াজ ছোট করতেন। (আখলাকুন্নবী)

(৩) হাঁচি এলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক টুকরা কাপড় (যাকে আমরা রুমাল বা handkerchief বলি) দ্বারা স্বীয় মুখমণ্ডল (চেহারা মুবারক) ঢেকে নিতেন এবং দুই হাত কপাল মুবারকের উপর রাখতেন। অর্থাৎ হাদের তালুদ্বয় নিজের ভ্রুদ্বয়ের উপর স্থাপন করতেন। (আখলাকুন্নবী)

এ তিনটি বর্ণনা হলো হাঁচি এলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করতেন। বাকি তিনটি হাদীসের ভাষ্যগুলোও অনুরূপ। সামান্য ২/৩টি শব্দ কমবেশি করা হয়েছে। তাই সে হাদীসগুলো উপস্থাপন করা হলোনা।
এই তিনটি হাদীসে যে বর্ণনা এসেছে তা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত। কারণ অনেক ক্ষেত্রে হাঁচি দেয়ার সময় নাক থেকে পানি ঝরতে পারে যাতে জীবাণু থাকে। তাই কাপড় বা হাত দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে দেয়া উত্তম। ফলে আশপাশের কারো দেহে সে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারবেনা। বিশেষ করে যাদের ঠা-া লাগে বা যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগে ভোগে, তাদের ঘন ঘন হাঁচি আসে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাঁচিদাতার উত্তর দিতে হবে তিনবার। এর অধিকবার কেউ হাঁচি দিলে সে ঠান্ডায় আক্রান্ত। (আত-তিরমিযী)

তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতে আমাদেরও হাঁচি দেবার সময় মুখমণ্ডল নিয়মিত ঢেকে নেয়া উচিত। এটি একটি good medical and hygienic practice. It prevents airborne diseases from spreading, যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আর জেনে হোক বা না জেনে হোক, আমাদের অনেকেই এ হাদীসটি মেনে চলে আসছি। অনেকে হয়তোবা বলবেন, এ উপদেশগুলো আমরা ডাক্তারি বইতে পেয়েছি। কিন্তু ডাক্তারি বই তো লেখা হয়েছে তাঁর বক্তব্যের বহু শতাব্দী পরে।

প্রশ্ন-৬৩। আচ্ছা মুহতারাম, আপনি এ আলোচনার শুরুতে তিরমিযী শরীফের একটি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন যে আল্লাহ পাক হাই তোলা পছন্দ করেননা। এই হাই তোলা কী? কীভাবে এর উৎপত্তি হয় ? হাই এলে আমাদের কি করা উচিত ? এসব বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আছে কি ?

উত্তর : এ তিনটি প্রশ্নের উত্তর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস থেকে দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ যা সহীহ আল বুখারীতে লিপিবদ্ধ করা আছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা হাঁচি পছন্দ করেন এবং হাই তোলা অপছন্দ করেন। তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় এবং আলহামদুলিল্লাহ বলে তখন যতসব মুসলমান তা শুনবে তাদের প্রত্যেককে এর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলতে হবে। পক্ষান্তরে হাই আসে শয়তানের দিক হতে। সুতরাং তোমাদের কারো হাই আসলে সে যেনো যথাসাধ্য তা রোধ করে (অর্থাৎ মুখে হাত দিবে)। কেননা, তোমাদের কেউ হাই তুললে শয়তান তার প্রতি হাসতে থাকে (ঠাট্টা করে)। (সহীহ আল বুখারী)

সম্মানিত পাঠক! In medical terms হাই তোলা বা yawning means taking a deep breath with the mouth wide open as when one is sleepy or honed. Yawning is an involuntary action. Yawning causes one to take a deep breath when one needs some extra oxygen. Yawning is induced by hypoxia, that is, low level of oxygen in the blood stream.

প্রশ্ন-৬৪। আচ্ছা মুহতারাম সাধারণত কি অবস্থায় বা কোন সময় হাই আসে ?

উত্তর : সাধারণত ক্লান্তি বা খারাপ জল্পনা-কল্পনার কারণে হাই এসে থাকে বা যখন ঘুমের প্রভাব বৃদ্ধি পায়, তখন বারবার হাই আসতে থাকে। অনুরূপভাবে অনিচ্ছা বা অনাগ্রহও হাই আসার কারণ হয়। উদাহরণ স্বরূপ, কোনো আলোচনা সভায় বা বক্তৃতা দেবার সময় শ্রবণকারী বক্তব্য শুনতে শুনতে বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সুশ্রী মানুষের আকৃতিও বিগড়ে যায়, যা খুবই দৃষ্টিকটু। ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাত্রদের হাই তোলা, আর বক্তৃতা শোনার সময় শ্রোতাদের হাই তোলা শিক্ষক ও বক্তা উভয়েরই মনোকষ্টের কারণ হয়। Sigh is a mark of disregard to a teacher or speaker. তাই কোনো মেহমান হাই তুলতে লাগলে মেজবানের নিকট তা অসহ্য মনে হয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা হাঁচি পছন্দ করেন আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে, তখন তখন সকল শ্রোতা জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে। আর যখন তোমাদের কারো হাই ওঠে, তখন যথাসম্ভব সে যেনো তা ফিরিয়ে রাখে এবং হা হা না বলে। কেননা, এটি শয়তানের তরফ থেকে হয় এবং সে হাসতে থাকে। (সহীহ আল বুখারী, আবু দাউদ, আত-তিরমিযী ও আন-নাসাঈ)

অপরদিকে হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, একবার দুই ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাঁচি দিলো। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের একজনের হাঁচির জবাব দিলেন, অন্যজনের হাঁচির জবাব দিলেন না। তখন সেই ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি তার হাঁচির জবাব দিলেন অথচ আমার হাঁচির জবাব দিলেন না? তিনি বললেন, সে আলহামদুলিল্লাহ বলেছে আর তুমি আলহামদুলিল্লাহ বলোনি। (সহীহ আল বুখারী)

তাই এসব বাস্তবতার নিরিখেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, হাই তোলা শয়তানের কাজ, যথাসম্ভব তা ফিরিয়ে রেখো। আর যদি অনিচ্ছাকৃত হাই এসেই পড়ে, তবে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা উচিত যেনো আওয়াজ বের না হয় এবং অন্য কেউ হা করা মুখ দেখতে না পায়।

হাই তোলা সম্পর্কে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষ্য হচ্ছে, হাই তোলার দ্বারা মন-মেজাজ ও প্রকৃতির অলসতা ও জড়তা বৃদ্ধি পায়। ফলে সে উদাসীনতা ও অলসতার মাঝে হারিয়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই আল্লাহ্ তা অপছন্দ করেন। আর শয়তান তাতে আনন্দবোধ করে, কারণ বান্দার ক্ষতিতেই শয়তানের আনন্দ। পক্ষান্তরে হাঁচি মানুষের মন-মস্তিষ্ক পরিষ্কার করে, জড়তা দূর করে। তাই এটি মানুষের জন্য কল্যাণকর। যাহোক, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চললে আমাদের স্বাস্থ্য অটুট থাকবে, রোগ ব্যাধি সহসা আক্রমণ করবেনা। অপরদিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস মেনে চলার জন্য আমরা পরকালেও কল্যাণ লাভে সামর্থ হবো ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন-৬৫। মলমূত্র ত্যাগ করা সকল মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর প্রাকৃতিক বিধান। আর উত্তমরূপে শৌচকার্য করা পবিত্রতা লাভের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। এ বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো নির্দেশনা আছে কি? বিশেষ করে তিনি কোন হাতে শৌচকার্য সম্পাদন করতে বলেছেন এবং কোন হাতে শৌচকার্য করতে নিষেধ করেছেন জানাবেন কী ?

উত্তর : জি হ্যাঁ, আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত হচ্ছে প্রস্রাব-পায়খানার পর প্রথমে ঢিলা ব্যবহার করা এবং অতঃপর পানি দিয়ে ধুয়ে পবিত্রতা অর্জন করা। কোনো স্বাস্থ্য সচেতন লোক নিজের মলমূত্র নিজহাতে স্পর্শ করেনা। এটি বিরোধী ও অত্যন্ত অপবিত্র কাজ। এটি স্বাস্থ্যসম্মতও নয়। কারণ মলমূত্র থেকে অনেক জীবাণু হাতের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন স্থানে সংক্রমিক হতে পারে। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ সম্পর্কিত সুন্নাতগুলো পুরোপুরি আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানসম্মত। এ বিষয়ে আমি বেশ কয়েকটি হাদীস আলোচনায় আনবো যা থেকে পরিষ্কারভাবে জানা যাবে যে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে কী কী কাজ নিষেধ করেছেন। আর কী কী অভ্যাস চালু রাখতে বলেছেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র ইস্তিনজা বা শৌচকার্য সম্পাদনের জন্য বেশ কয়েকটি বক্তব্য রেখেছেন যা হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইন্তিনজা করার সময় ডানহাত ব্যবহার করবেনা এবং কোনো বরতন বা পাত্রে মলমূত্র ত্যাগ করবেনা।(আবু দাউদ ও আন-নাসাঈ) সহীহ আল বুখারী শরীফে উদ্ধৃত হাদীস দুটো বর্ণনা করেছেন হযরত আবু কাতাদাহ (রা.)। (সহীহ আল বুখারী)

হযরত আনাস (রা.) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবার লোকদের বললেন, আল্লাহ্ তোমাদের পবিত্রতার খুবই প্রশংসা করেছেন। তিনি কুবার লোকদের নিকট জানতে চাইলেন, এর রহস্য কী? তারা উত্তর দিলেন, আমরা ঢিলা ও পানি উভয়টি দ্বারাই পবিত্রতা অর্জন করি। (মুসনাদে আহমাদ ও আবু দাউদ)

দ্বিতীয় হাদীসটি হচ্ছে, ইন্তিনজার পর পবিত্রতা লাভের জন্য বাম হাত ব্যবহার করবে। (আবু দাউদ)

তৃতীয় হাদীসটি হচ্ছে, পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের আগে ঢিলা ব্যবহার করবে। (আবু দাউদ ও আন-নাসাঈ)

ঢিলা বলতে মাটির টুকরাকে বোঝানো হয়েছে। বর্তমানে এর স্থান দখল করেছে টিস্যু পেপার। এ সম্পর্কিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীসমূহ প্রত্যেক হাদীস গ্রন্থের কিতাবুত তহারাত অধ্যায়ের পরিচ্ছেদে বিশদভাবে উদ্ধৃত হয়েছে।
প্রিয় পাঠক! যে সকল লোক মলত্যাগের পর পানি দ্বারা শৌচকার্য করেনা বা শুধুমাত্র কাগজ ব্যবহার করে, তাদের বেশ কয়েক ধরনের রোগ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন মলদ্বারের আশপাশে ফোঁড়া এবং গোদের মধ্যে পুঁজ, যা প্রস্রাবের সময় বের হয়ে আসে। তাই পানি দ্বারা মলমূত্র ত্যাগের স্থানসমূহ পরিষ্কার করার আগে কোনো ঢিলা বা টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নেয়া উচিত। তবে গোবরের ঢিলা ব্যবহার করতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
হযরত আবু কাতাদাহ (রা.) বর্ণনা করেন, আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে সালমান (রা.)-কে বলা হলো, আপনাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন; এমনকি পায়খানা-পেশাবের শিষ্টাচার পর্যন্ত। সালমান (রা.) বলেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদের কিবলামুখী হয়ে পায়খানা-পেশাব করতে, মল ত্যাগের পর ডানহাত দিয়ে ইন্তিনজা (মল ত্যাগের জায়গা পরিষ্কার করা ও পবিত্রতা অর্জন করা) করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কাউকে তিনটি ঢিলার কম দিয়ে ইস্তিনজা করতে এবং শুকনো গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করতে নিষেধ করেছেন। (আত-তিরমিযী ও আন নাসাঈ)

আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেনো পানি পান করার সময় পাত্রে নিশ্বাস না ফেলে। আর পায়খানায় এসে কেউ যেনো ডানহাত দ্বারা পুরুষাঙ্গ স্পর্শ না করে এবং সে যেনো ডানহাত দ্বারা শৌচক্রিয়া না করে। (সহীহ আল বুখারী)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-ও এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস বর্ণনা করেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শুকনো গোবর আর হাড় দিয়ে ইন্তিনজা করবেনা। (আত-তিরমিযী ও আন-নাসাঈ)

এ বিষয়ে হযরত আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডানহাত ছিলো খাদ্য গ্রহণ ও পবিত্রতা অর্জনের জন্য, আর বামহাতে ছিলো শৌচকর্ম ও এ ধরনের নিকৃষ্ট কাজের জন্য। (আবু দাউদ)
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৌচ করার পর মাটিতে তাঁর হাত ঘষে পরিষ্কার করতেন এবং উযু করতেন। (আন-নাসাঈ)

হযরত জাবীর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি একদা পায়খানায় গেলেন এবং প্রয়োজন সমাধা করে বলেন, হে জাবীর! পানি আনো। অতএব আমি তাঁকে পানি এনে দিলাম। তিনি পানি দিয়ে শৌচকার্য করেন এবং পরে পানি দিয়ে হাত মাটিতে ঘষেন। (আন-নাসাঈ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের পিতৃতুল্য। আমি তোমাদের দ্বীনের বিষয়সমূহ শিক্ষা দেই। যখন কেউ টয়লেটে যায়, যে যেনো কিছুতেই কিবলামুখী হয়ে বা কিবলাকে পেছনের দিকে রেখে না বসে। আর মলত্যাগের পর উক্ত স্থান যেনো ডানহাত দিয়ে পরিষ্কার না করে। (আবু দাউদ ও আন-নাসাঈ)

ঠিক এমনি একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রা.)। তিনি বলেন যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কেউই কিবলামুখী হয়ে বা কিবলা পেছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগ করবেনা। (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম ও আন-নাসাঈ)

আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রা.) আরো বলেন, আমরা যখন সিরিয়ায় এলাম তখন দেখতে পেলাম সেখানকার টয়লেটগুলো কিবলামুখী করে নির্মাণ করা হয়েছে। তখন আমরা আমাদের মুখ অন্য দিকে ফিরিয়ে নিই এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। (সহীহ মুসলিম ও আবু দাউদ)

আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ ও আন-নাসাঈ)। এর সম্ভাব্য কারণ গর্তে সাপ বা বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ থাকতে পারে যা বের হয়ে কামড় দিতে পারে। অপরদিকে দুর্বল কীট-পতঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হাদীসগুলো সবই যৌক্তিক ও বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যশীল।