প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৫, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭ হিজরী, অগ্র-পৌষ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

৩০. দুনিয়া থেকে নেককার লোকদের বিদায়

  1. নেককার লোকদের দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া এবং খারাপ লোকের আধিক্য কিয়ামাতের আরেকটি আলামাত। এমনকি পরিশেষে শুধু খারাপ লোকই দুনিয়ার বুকে বেঁচে থাকবে। আর তখনই তাদের উপর কিয়ামাত কায়িম হবে।
  2. আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ্ তা\’আলা তাঁর প্রিয় বান্দাহদেরকে এ বিশ্ব ভুবন থেকে উঠিয়ে নেন। অত:পর এ দুনিয়াতে বেঁচে থাকবে শুধু নিকৃষ্ট জন সাধারণ। তারা ভালোকেও ভালো বলবে না এবং খারাপকেও খারাপ বলবে না। (আহ্মাদ্ ১১/১৮১-১৮২ হাকিম ৪/৪৩৫) । কারো কারোর মতে উক্ত হাদীসটি দুর্বল। তবে ইমাম হাকিম, যাহাবী ও আল্লামাহ আহ্মাদ শাকির হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
  3. আমর বিন্ শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষকে চালন দিয়ে চালিয়ে তথা যাচাই-বাছাই করে ভালো লোকদেরকে উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন শুধুমাত্র খারাপ লোকই বেঁচে থাকবে। তাদের কোন আমানত ও অঙ্গীকার ঠিক থাকবে না। তারা পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবে। যেন এক হাতের আঙ্গুলকে অন্য হাতের আঙ্গুলের মাঝে ঢুকানো হয়েছে। (আহমাদ ১২/১২ হাকিম ৪/৪৩৫)

৩১. সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের বিলুপ্তি ও মূর্খদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি

  1. কিয়ামাত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, সমাজ থেকে জ্ঞানী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের বিলুপ্তি ঘটবে। মূর্খ ও নির্বোধেরা তাদের স্থল-বর্তি হবে। আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- ঐ সত্তার শপথ- যার হাতে আমার প্রাণ নিহিত। কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের বিলুপ্তি ঘটবে। মূর্খদের জনপ্রিয়তা ও মাতব্বরি বেড়ে যাবে। (মুন্তাদরাকে হাকিম)
  2. সমাজের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে বা প্রচার মাধ্যমের কল্যাণকে কাজে লাগিয়ে তারা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। অপরদিকে সম্ভ্রান্ত, গুণী ও উপদেশদাতা ব্যক্তিগণ পর্দার আড়ালে থেকে যাবে, ব্যাপক অশ্লীলতার কারণে মিডিয়া থেকে তারা নিজেদের দূরে রাখবে। ফলে যারা নাচ-গান ভাল করতে পারে, দ্রুত অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে পারে- তারাই প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। উৎকৃষ্ট ও প্রতিভাধর কারোর-ই কোন চান্স থাকবে না। নিদর্শনটি বর্তমান কালে স্বত:সিদ্ধ ও প্রসিদ্ধ।
  3. যদি-ও এখনো কিছু কিছু ভাল ব্যক্তিদের অবস্থান রয়েছে। অধিকাংশ মুসলিম দেশসমূহে জ্ঞানী ও দ্বীনের দায়ীদেরকে যথেষ্ট সম্মান ও মর্যাদার চোখে দেখা হচ্ছে। কুরআনের মাহফিলে যথেষ্ট লোক সমাগম হচ্ছে। ইসলামী চ্যানেলে পর্যায়ক্রমে দর্শকের সংখ্যা বাড়ছে। এমনকি দ্বীনি আলোচনা-অনুষ্ঠানে আজকাল অমুসলিমদের-ও ব্যাপক আনাগোনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

৩৩. অত্যাচারী ব্যক্তিদের আত্মপ্রকাশ

  1. কিয়ামাতের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে অত্যাচারী শাসকদের সহায়তাকারী ব্যক্তিদের আত্মপ্রকাশ। ষাঁড়ের লেজ সদৃশ এক প্রকার চাবুক দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে। চাবুক পশম থেকেও হয়, বৃক্ষের ঢাল থেকেও চাবুক হয়, বৈদ্যুতিক চাবুকও পাওয়া যায় এবং রবার-এর প্রসারণ-যোগ্য চাবুকও প্রচলিত আছে।
  2. আবূ উমামা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- শেষ জামানায় এমন কিছু লোকের আত্মপ্রকাশ ঘটবে, যাদের সাথে ষাঁড়ের লেজ সদৃশ এক প্রকার চাবুক থাকবে। আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে তারা সকাল-সন্ধ্যা যাপন করবে। (মুসনাদে আহমদ, ৫/২৫০)
  3. অন্য বর্ণনায় রয়েছে: শেষ যুগে এমন কিছু পুলিশ বেরুবে। যারা সকাল বেলা অতিবাহিত করবে আল্লাহ্ তাআলার অসন্তুষ্টি নিয়ে এবং বিকেল বেলাও অতিবাহিত করবে তাঁরই অসন্তুষ্টি নিয়ে। তুমি অবশ্যই তাদের সহাযোগী হওয়া থেকে বেঁচে থাকবে। (সহীহুল্ জামি, হাদীস ৩৫৬০ ইত্হাফুল্ জামাআহ্ ১/৫০৭-৫০৮)
  4. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ জাতীয় ব্যক্তিদেরকে জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: দু জাতীয় মানুষ জাহান্নামী। যাদেরকে আমি এখনো দেখিনি। তাদের মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে এমন লোক যাদের হাতে থাকবে গাভীর লেজের ন্যায় লম্বা লাঠি। যা দিয়ে তারা মানুষকে অযথা প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে এমন মহিলারা যারা হবে কাপড় পরিহিতা; অথচ উলঙ্গা। অন্যকে আকর্ষণকারিণী এবং নিজেও হবে অন্যের প্রতি আকৃষ্টা। তাদের মাথা হবে খুরাসানী উটের ঝুলে পড়া কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি উহার সুগন্ধও পাবে না। অথচ উহার সুগন্ধ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। (মুসলিম ২১২৮)
  5. আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- আয়ূ থাকলে তুমি এমন কিছু লোককে দেখতে পাবে, যারা আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপের মধ্য দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা যাপন করবে। তাদের হাতে ষাঁড়ের লেজ সদৃশ কিছু একটা থাকবে। (মুসলিম)। তারা খুব-ই অত্যাচারী হবে। দুশ্চরিত্রের দরুন তারা আল্লাহর অভিশাপের পাত্রতে পরিণত হবে।

৩৪. দাসীর গর্ভ থেকে মনিবের জন্মগ্রহণ

  1. দাসীর পেট থেকে মনিবের জন্মগ্রহণ কিয়ামাতের আরেকটি আলামাত। হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যখন কোনো দাসী তার মুনিবকে জন্ম দিবে তখন তা কিয়ামাতের একটি আলামাত। (মুসলিম, ৯)
  2. প্রেক্ষাপটটি এভাবে তৈরি হতে পারে যে, একজন স্বাধীন ব্যক্তির একটি দাসী আছে। সহবাসের ফলে গর্ভবতী হয়ে দাসী একটি পুত্র সন্তানের জনক হয়েছে। পিতা স্বাধীন হওয়ার ফলে ও বড় হয়ে স্বাধীন হয়েছে। পিতা জীবিত থাকলে মাতা এখনো দাসী-ই রয়ে গেছে। এভাবে পুত্র মনিব-তুল্য হয়েছে।
  3. কেউ কেউ উদ্দেশ্য করেছেন যে, দাসীরা রাজকুমার জন্ম দেবে। রাজকুমার বড় হয়ে রাজা হলে মাতা তার প্রজার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
  4. অনেকেই বলেছেন যে, শেষ জামানায় ছেলেরা মায়ের সাথে দাস-দাসীর মত আচরণ করবে। মা-কে ঘর থেকে বের করে দেবে। মায়ের খোজ খবর নেবে না। মায়ের কথা ভুলে যাবে। মায়ের অবাধ্য হয়ে যাবে। মাকে গালিগালাজ করবে…. ইত্যাদি। ফলে বহিরাগত কেউ দেখলে দাসীর সাথে মনিবের আচরণ ধারণা করবে। (আল্লাহ সকলকে হেফাযত করুন)
  5. শেষ যুগে দাসীরা অত্যধিক সম্মান পাবে। তখন তাদেরকেই প্রভাবশালীরা বিবাহ্ করবে এবং তাদের ঘর থেকেই তখন তাদের মনিব জন্ম নিবে। আল্লামা ইব্নু কাসীর (রহ.) উক্ত মত ব্যক্ত করেন।

৩৫. বানোয়াট মিথ্যা হাদীস বর্ণনাকারীর আবির্ভাব

  1. আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: অচিরেই আমার উম্মতের শেষাংশে এমন কিছু লোক আবির্ভূত হবে যারা তোমাদেরকে এমন কিছু হাদীস শুনাবে যা তোমরা ইতিপূর্বে কারো থেকে শুনোনি। না তোমাদের বাপ-দাদা শুনেছে। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তারাও যেন তোমাদের থেকে দূরে থাকে। (মুসলিম ৬)
  2. অন্য বর্ণনায় রয়েছে, শেষ যুগে এমন কিছু মিথ্যুক দাজ্জাল বেরুবে যারা তোমাদেরকে এমন কিছু হাদীস শুনাবে যা তোমরা ইতিপূর্বে কারো থেকে শুনোনি। না তোমাদের বাপ-দাদা শুনেছে। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তারাও যেন তোমাদের থেকে দূরে থাকে। তারা যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে এবং ফিতনায় ফেলতে না পারে। (মুসলিম ৭)
  3. আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা শয়তান মানুষের রূপ ধারণ করে কোন একজন সমষ্টির নিকট এসে তাদের নিকট মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করবে। উক্ত জন সমষ্টি ভেঙ্গে যাওয়ার পর তাদের কেউ কেউ বলবে: আমি এমন এক ব্যক্তি থেকে হাদীস শুনেছি যার চেহারা চিনি; অথচ তার নাম জানি না। (মুসলিম, ভূমিকা, হাদীস ৭ এর অধীন)

৩৬. ব্যাপকহারে শিরক ছড়িয়ে পড়া

  1. মুসলমানদের মাঝে শিরকের ব্যাপক বিস্তার কিয়ামাতের আরেকটি আলামাত। বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র শিরক ও শিরক জাতীয় আমল অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কবর পূজা, মূর্তি পূজা আজ মুসলিম বিশ্বের আনাচে-কানাচে পুরোদমেই চলছে। ওলীদের কবর থেকে হরদম বরকত নেয়া হচ্ছে। মানুষ তাকে চুমু খাচ্ছে ও অতি সম্মান করছে। কবরের জন্য যে কোন বস্তু মানত করা হচ্ছে। ওলীদের কবরকে নিয়ে বার্ষিক ওরস মাহফিলও করা হচ্ছে। বরং এ যুগের অনেক কবর পূর্বেকার লাত, উয্যা, মানাতকেও ছাড়িয়ে গেছে।
  2. সউবান (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: যখন আমার উম্মতের মধ্যে হত্যাকাণ্ড শুরু হবে তখন তা আর কিয়ামাত পর্যন্ত উঠিয়ে নেয়া হবে না। কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের মধ্য থেকে কোন না কোন সম্প্রদায় মুশ্রিকদের সাথে মিশে যায় এবং মূর্তি পূজা করে। (আবূ দাউদ/আউনুল্ মাবুদ্ ১১/৩২২-৩২৪ তিরমিযী ৬/৪৬৬ স\’হীহুল্ জা\’মি\’, হাদীস ৭২৯৫)
  3. আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দাউস্ গোত্রের মহিলারা পাছা নাচিয়ে যুল্খালাসা নামক মূর্তির তাওয়াফ করবে। (বুখারী ৭১১৬; মুসলিম ২৯০৬ বাগাওয়ী, হাদীস ৪২৮৫ ইব্নু হিব্বান, হাদীস ৬৭১৪ আব্দুর রায্যাক, হাদীস ২০৭৯৫)। যুল খালাসা হচ্ছে মূর্খতা যুগে দাউস গোত্রের পূজ্য বৃহৎ মূর্তির নাম। অর্থাৎ মূর্তির সম্মানার্থে তারা মূর্তির আশপাশে প্রদক্ষিণ করবে। উল্লেখ্য- আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দাউস গোত্রের বসবাস।
  4. আয়িশা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: দিন-রাত নি:শেষ হবে না তথা কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না লাত ও \’উয্যার পূজা করা হয়। (মুসলিম ২৯০৭)
  5. আয়িশা (রা:) বলেন: আমি উক্ত হাদীস শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললাম : হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মনে করতাম, যখন আল্লাহ্ তাআলা নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেছেন:

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ

অর্থাৎ তিনিই সেই সত্তা যিনি স্বীয় রাসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত তথা কুর\’আন এবং সত্য ধর্ম দিয়ে। যেন তিনি বিজয়ী করতে পারেন উক্ত ধর্মকে সকল ধর্মের উপর। যদিও তা মুশরিকরা অপছন্দ করে। (তাওবাহ্: ৩৩)

আমি তো মনে করতাম যে, যখন আল্লাহ্ তাআলা উক্ত আয়াত নাযিল করেছেন তখন ইসলাম ধর্ম অবশ্যই পরিপূর্ণরূপে পুরো বিশ্বে প্রকাশ পাবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা শুনে বললেন:
তুমি যা মনে করতে তাই হবে। তবে যতো দিন আল্লাহ্ তাআলা ইচ্ছে করবেন। অত:পর আল্লাহ্ তা\’আলা এমন এক ধরনের উত্তম হাওয়া বইয়ে দিবেন যা প্রত্যেক মু\’মিন বান্দাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যাবে যার অন্তরে একটি রাইয়ের দানা পরিমাণও ঈমান রয়েছে। এরপর এমন সব লোক বেঁচে থাকবে যাদের মধ্যে কোন কল্যাণই থাকবে না এবং তারা সবাই নিজ বাপ-দাদার ধর্মের দিকে আবারো ফিরে যাবে।

সৌদি প্রবাসী শাইখ মোস্তাফিজুর রহমান বিন্ আব্দুল আজিজ আল মাদানী তাঁর কিয়ামাতের ছোট-বড় নিদর্শনসমূহ কিতাবে লিখেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উক্ত ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হয়েছে। দাউস্ ও তার আশেপাশের গোত্রগুলো একদা যুল্খালাসা নামক মূর্তির পূজা শুরু করেছে। তখন শায়েখ মুহাম্মাদ বিন্ আব্দুল ওয়াহ্হাব (রহ.) তাদেরকে তাওহীদের দিকে ডাকলেন। শায়েখের দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইমাম আব্দুল আজিজ বিন্ মুহাম্মাদ বিন্ সঊদ্ (রহ.) যুল্খালাসা অভিমুখে দায়ীদের একটি দল পাঠান। যাঁরা সবাইকে বুঝিয়ে শুনিয়ে উক্ত মূর্তি ধ্বংস করতে সক্ষম হন। তবে অত্র এলাকায় সঊদ্ বংশের ক্ষমতা কিছু দিনের জন্য অকার্যকর হলে মূর্খরা আবারো যুল্খালাসার পূজা শুরু করে দেয়। অত:পর স\’ঊদ্ বংশের প্রভাবশালী রাষ্ট্রপতি আব্দুল আজীজ বিন্ আব্দুর রহমান আবারো ক্ষমতায় আরোহণ করলে তিনি তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেন। (কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসের আলোকে কিয়ামাতের ছোট-বড় নিদর্শনসমূহ, পৃ. ৮৪)

৩৭. সুদী লেনদেনের ব্যাপক বিস্তার

  1. সুদী লেনদেনের ব্যাপক বিস্তার কিয়ামাতের আরেকটি আলামাত। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্\’ঊদ্ (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: কিয়ামাতের পূর্বক্ষণে সমাজের সর্বস্তরে সুদ বিস্তার লাভ করবে। (আত্তারগীবু ওয়াত্ তারহীব ৩/৯)
  2. আর তা এ কারণেই হবে যে, তখন মানুষ শুধু সঞ্চয়ের পেছনেই পড়ে থাকবে। এ কথা সে কখনোই মাথায় নিবে না যে, তা হালাল পথে আসছে না কি হারাম পথে।
  3. আবূ হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: মানুষের উপর এমন এক সময় আসবে যখন কোন ব্যক্তি এ কথা ভাববে না যে সে কিভাবে তার সম্পদগুলো সঞ্চয় করেছে; হালাল পথে না কি হারাম পথে। (বুখারী ২০৬৯, ২০৮৩)
  4. বর্তমানে সুদি ব্যাংকের কোন অভাব নেই। বরং পুরস্কারে ভূষিত করে এ সব ব্যাংকগুলোকে আরো উৎসাহিত করা হচ্ছে। তাই এদের গ্রাহকও দিন দিন আরো বেড়েই চলছে এবং এদের মাধ্যমেই আজ সমাজে সুদের বিপুল বিস্তার ঘটেছে।