প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৬, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৭ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

৭৭. ব্যবসা-বাণিজ্যের অত্যাধিক প্রসার ও মহিলাদের তাতে অংশগ্রহণ

১. অত্যাধিক ব্যবসা-বাণিজ্যের কিয়ামাতের আরেকটি আলামত। ব্যবসা-বাণিজ্যের তখন এতো অধিকহারে সম্প্রসারিত হবে যে, মহিলারাও তাতে অংশ গ্রহণ করবে। আব্দুল্লাহ বিন্ মাস্উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন কিয়ামাতের পূর্বে শুধু বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদেরকেই সালাম দেয়া হবে এবং ব্যবসা – বাণিজ্য অধিক হারে বিস্তার লাভ করবে। এমনকি মহিলারাও ব্যবসা-বাণিজ্যে পুরুুষের সহযোগী হবে। (মুসনাদে আহ্মাদ ৫/৩৩৩ হাকিম ৪/৪৪৫-৪৪৬)
২. আমর বিন্ তাগ্লিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন কিয়ামাতের অন্যতম আলামত এই যে, ধন- সম্পদ বেড়ে যাবে এবং ব্যবসা – বাণিজ্য অধিক হারে বিস্তার লাভ করবে। ( নাসায়ী,হাদীস ৭/২৪৪ আহমাদ ৫/৬৯)
৩. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় পাননি । বরং তিনি ভয় পেয়েছেন ধনাধিক্য ও দুনিয়া কামাইয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতার । আমর বিন্ আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দরিদ্রতার ভয় পাচ্ছি না। বরং ভয় পাচ্ছি এ ব্যাপারে যে, তোমাদের উপর দুনিয়া উন্মুক্ত করে দেয়া হবে যেমনিভাবে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে পূর্ববর্তীদের উপর। অতঃপর তোমরা তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে। যেমনিভাবে ওরা প্রতিযোগিতা করেছে এবং এ দুনিয়াই তোমাদেরকে ধ্বংস করবে যেমনিভাবে ওদেরকে ধ্বংস করেছে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, এ দুনিয়াই তোমাদেরকে গাফিল করবে যেমনিভাবে ওদেরকে গাফিল করেছে। (বুখারী ৪০১৫,৬৪২৫;মুসলিম ২৯৬১)

৭৮. সারা বাজারে মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীর প্রভাব

১. আমর বিন্ তাগলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন- কিয়ামাতের নিদর্শনাবলীর অন্যতম হচ্ছে, ধন স¤পদের ব্যাপক ছড়াছড়ি, ব্যাপক বাণিজ্য,ব্যাপক মূর্খতা, একজন অপরজনের কাছে ক্রয় বিক্রয় কালে বলবে-অমুকের সাথে বুঝাপড়া না করে লেনদেন করব না। সারা গ্রাম তালাশ করেও লেখতে জানে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। (সুনানে নাসায়ী)
২. হাদীসে বুঝাপড়া বলে মূলধনের অধিকারী বড় বড় ব্যবসায়ী বা আমদানী-রপ্তানী বিষয়ক তৃণমূল ব্যবসায়ীদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তারা-ই মূলত বাজার-দর কন্ট্রোলে রাখবে, যদ্দরুন ছোট ছোট ব্যবসায়ী বিনা অনুমতিতে ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
অথবা অন্য ব্যবসায়ীর সদিচ্ছার উপর ক্রয়-বিক্রয়ে শর্তারোপ থাকবে।
৩. অপর হাদীসে-লেখালেখি অধিক হয়ে যাবে । এই হাদীসে- লিখতে জানে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, কেবল উচ্চারণে-ই অটো-লিপি হয়ে যায়-এরকম প্রযুক্তি আবিস্কারের ফলে অদূর ভবিষ্যতে এমন প্রজন্ম আসবে যারা তারা হস্তলিপি বুঝবে না বা লিখতে পারবে না-হাদীসের মাধ্যমে তা উদ্দেশ্য হতে পারে।
৪. অথবা হালাল- ব্যবসা সংক্রান্ত বিধি-বিধান জানে এবং মানুষের মাঝে সবকিছু ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখে বন্টন করতে পারে -এমন কাউকে পাওয়া যাবে না।

৭৯. ব্যাপক লেখালেখি ও কলামিস্টদের ছড়াছড়ি

১. আগের যুগে লেখালেখি এবং প্রচার-মাধ্যম এত ব্যাপক ছিল না। একটি গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কত ক, কত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হত। কিন্তু এখন…। প্রেক্ষাপট কত বদলে গেছে। অধিক লেখালেখি, বই পুস্তক প্রকাশ এবং কলামিস্টদের আধিক্যকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামাতের নিদর্শনরূপে চিহ্নিত করেছেন।
২. ইবন্ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন কিয়ামাতের পূর্বমুহূর্তে নিম্নোক্ত বিষয়াবলী অধিক হারে ঘটতে থাকবেঃ ১। ব্যক্তি বিশেষ সালাম প্রদান
২। ব্যাপক ব্যবসা-বাণিজ্য। এমনকি স্ত্রীও ব্যবসায় স্বামীকে সাহায্য করবে।
৩। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকরণ
৪। মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান
৫। সত্য সাক্ষ্য গোপন
৬। কলম প্রকাশ। (মুসনাদে আহমাদ ৫/৩৩৩-৩৩৪)
৩. কলম প্রকাশ- বলতে সম্ভবত লেখালেখি এবং অধিক হারে বই পুস্তক প্রকাশের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। প্রকাশনা এবং ছাপানোর জন্য অত্যাধুনিক মেশিন আবিস্কার ও মাধ্যম সহজ হওয়ার ফলে যে কেউ চাইলে পুস্তক প্রকাশ করতে পারবে। এতকিছুর পর-ও দ্বীনী এবং ইসলামী শিক্ষায় মানুষের মধ্যে মুর্খতা প্রকাশ পাবে।