প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৪র্থ সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৭, জিলহজ-মুহাররম ১৪৩৯ হিজরী,আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজ হাত দ্বারা সাহায্য করেন’
(সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩)
৬
জাকজমক এবং অপচয়হীন একটি জীবন
একজন নেক নারী তার প্রয়োজন অনুসারে খাবার তৈরি করে। তাই তার থেকে অবশিষ্ট খাবারের অপচয় এবং খারাপ ব্যবস্থাপনার চিন্তা আসে না। এই ব্যাপারে তার উদাহরণ হলো ঈমানদারদের মা আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হাদীস। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাওয়ার পর থেকে যাওয়া রুটি বেশিও হতো না অল্পও হতো না।’
অন্য এক বর্ণনায় আছে ঃ ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাওয়ার পর অবশিষ্ট খাবার থাকত না’। অপচয়ের ব্যাপারে ইসলামে একটি জিনিস নিষিদ্ধ যে, খাবার-দাবারের জন্য প্রচুর পরিমাণ স্বর্ণ-রূপা ব্যবহার করা। উম্মে সালামা (রা.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণ অপচয় করে তাকে জাহান্নামের আগুন গ্রাস করে ফেলবে।’
যদিও, ইসলামে এই নিষিদ্ধের ব্যাপারে যথেষ্ট নির্দেশ রয়েছে, এই সকল চাকচিক্য দ্বারা বিলাসবহুল জীবনের বৈশিষ্ট্যকে বুঝায়। ইসলাম সর্বদা চায় তার অনুসারীরা সাদা-মাটা জীবন যাপন করুক। চাকচিক্য নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ ইবনে জাবালকে বলেন, যখন তিনি তাকে ইয়ামেনে পাঠান: ‘চাকচিক্য থেকে সাবধান, যারা চাকচিক্য বিলাসবহুল জীবন-যাপন করে তারা আল্লাহর বান্দা নয়।’
‘যখন তুমি তোমার অভ্যন্তরীণ দুঃখ খোঁজা বন্ধ করবে, তাহলে তুমি সুখী হবে।’
‘নিন্দার ঊর্ধ্বে থাক’
৭
সঠিক কাজ কর মন আনন্দে ভরে উঠবে
আয়েশা (রা.) বলেন-‘একজন গরিব নারী তার দুই সন্তান নিয়ে আমার কাছে আসল। আমি তাদের একজনকে খেজুর দিলাম। সে খেজুরটি তার মুখে পুরে দিল এবং খেয়ে ফেলল এবং তার মেয়ে তার কাছে আরো খেজুর চাইল। তাই সে তার মুখের খেজুরকে দুই টুকরা করল এবং এক টুকরা অন্যজনকে দিল। আমি তার এই কাজে অভিভূত হলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই ঘটনা বললাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘আল্লাহ তার জন্য বেহেশত মঞ্জুর করেছেন এবং তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিবেন।’
উম্মে সালামা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার সন্তানের পিছনে অর্থ ব্যয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন ঃ ‘আমি কি আবু সালামার সন্তানের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে এর প্রতিফল পাব। যেকোনোভাবেই তাদেরকে আমি অবহেলা করতে পারিনা। কেননা, তারা তো আমারি সন্তান।’
তিনি আশ্বস্ত হলেন যে, সে তাদেরকে অবহেলা করবে না। আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রকৃতগত হ্যাঁ সূচক উত্তরের পূর্বে সে এটা করেছিল।
ইসলাম ভালো কাজে, এতিমের প্রতি দয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে উৎসাহ দান করেছেন। ক্রমশ সহযোগিতা এবং সমাজের প্রতি ভালবাসা সন্তানদেরকে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
‘সুখী হও…এখানেই সত্যিকারের সুখ’
‘নারীরা হলো ফুলের কলি, যাযাবর পাখির থেকে রক্ষা করবেন
৮
আল্লাহ আমাদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন
বিমান অনেক উঁচুতে উড়ছিল, পৃথিবী এবং আকাশের মধ্যে ঝুলছিল, যখন বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিল। পাইলট এবং যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে গেল, পুরুষেরা কাঁপতে লাগল, নারীরা চিৎকার করতে লাগল এবং বাচ্চারা ভয়ার্ত হয়ে গেল দিশেহারাভাব বিরাজ করতে লাগল। তারা হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! ডাকতে লাগল। অতঃপর আল্লাহর দয়া এবং সহযোগিতা নেমে আসল, মানুষজন শান্ত হলো এবং বিমান নিরাপদে নিচে অবতরণ।
বাচ্চা গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার সময় ডেলিভারী অনেক কঠিন হয়ে যায়। মা বুঝতে পারেন যে, সে মৃত্যুর মুখে চলে গেছে। সে রকম দুঃখ-কষ্টের মুক্তিদাতা আল্লাহর মুখাপেক্ষী হলো। তিনি একক সত্তাব যিনি সকল প্রয়োজন পূর্ণ করতে পারেন এবং চিৎকার করে ডাকলেন, ‘হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! অতঃপর তার ডেলিভারী সমস্যার সমাধান হয়ে গেল এবং বাচ্চা নিরাপদে ভূমিষ্ঠ হলো। একজন পণ্ডিত কঠিন সমস্যার মুখামুখী হলেন এবং দ্বিধান্বিত হয়ে গেলেন। সঠিক উত্তর খুঁজতে লাগলেন কিন্তু খুঁজে পেলেন না। সে নিজেকে বিনয়ী হয়ে আল্লাহকে ডাকতে লাগলেন।
হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! আপনি ইবরাহীম (আ.)-কে শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং সুলায়মান (আ.)-কে বুঝার ক্ষমতা দান করেছিলেন। হে আল্লাহ! জীবরাঈল, মিকাঈল এবং ইসরাফিল এর স্রষ্টা, দুনিয়া এবং আসমানের সৃষ্টিকর্তা, দৃশ্যমান এবং গায়েব সম্পর্কে জানেন। আপনি আপনার দ্বিধান্বিত বান্দার প্রতি ন্যায় বিচার করুন। আপনার রহমতে আমাকে সত্যপথে পরিচালিত করুন। আপনি যাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখিয়েছেন আমাদেরকেও তাই করুন।’
অতঃপর ঐশী সাহায্য আসল এবং সব বাধা-বিপত্তি দূর হয়ে গেল, সমস্ত মহিমা আল্লাহর তিনি কত দয়ালু।
‘সবচেয়ে সুখী মানুষ ঐ ব্যক্তি যিনি
অনেক মানুষকে সুখী করতে পারে।’
‘নারীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর’
৯
অবহেলা থেকে সাবধান
অবহেলা হতে সাবধান, আল্লাহর যিকিরকে ভুলে যাওয়া হতে সাবধান। নামাযে অবহেলা করা, কুরআন পাঠকে অবহেলা করা, উপকারী শিক্ষা এবং বক্তব্য ছুটে যাওয়া থেকে সাবধান। এগুলো সব অবহেলার কারণ, এগুলো মানুষের মনকে অবচেতন করে এবং অন্তরে মোহর মেরে দেয়, ‘যদি কারো ব্যাপারে এমন হয়, সে কখনো ভালো কিছুকে স্বীকৃতি এবং খারাপ কিছুকে অস্বীকার করবে না এবং আল্লাহর ধর্ম সম্পর্কে কিছুই বুঝবে না; সে কঠিন হৃদয়ের মানুষ হবে, দ্বিধা-বিভক্ত এবং দুঃখী হবে। এইগুলো হলো এই পৃথিবীকে অবহেলা করার প্রতিফল। তাই তুমি পরকালের ব্যাপারে কতটুকু সাবধান?
তোমাকে অবশ্যই উপরিউক্ত অবহেলার কারণগুলোকে পরিহার করতে হবে। আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহর স্মরণে তোমার কণ্ঠকে ভিজিয়ে রাখ, তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর এবং তাহমীদ পাঠ কর। ক্ষমতার জন্য দোয়া কর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরূদ পাঠ কর, দাঁড়ানো, বসা, শোয়া, সর্বাবস্থায়। তাহলে তুমি তোমার মনের মধ্যে সুখের পরশ অনুভব করবে। এগুলো হলো যিকিরের প্রতিফলন, সর্বদয়ালু এবং সর্বমহিমান্বিত আল্লাহকে স্মরণ করার প্রতিফল। তিনি বলেন- যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এবং আল্লাহর যিকিরে তাদের অন্তকরণ প্রশান্ত হয়। জেনে রেখ, আল্লাহর যিকিরই অন্তরসমূহকে প্রশান্ত করে। (সূরা আর-রা’আদ : আয়াত-২৮)
‘সুখি হতে অপেক্ষা কর না যা তুমি হেসে উড়িয়ে দাও কিন্তু সুখী হতে হলে আস’
‘দুঃখ ছাড়া, সুখ আশা কর না’
১০
জীবনের হাসি
আপনার মন দুঃখে পরিপূর্ণ যখন আপনি হাসেন, আপনার মনের আঘাতকে দূর করেন এবং দরজা খুলে বের করে দেন। হাসার সময় আতংকিত হবেন না। কেননা, এই হাসির মধ্যে এক ধরনের পূর্ণ উদ্যোম কাজ করে। এটাকে দমন করুন। এটা আপনাকে হাসার সময় ক্ষতি করবে না, এমনকি যখন আপনি অন্যের সাথে আন্তরিক হয়ে জরুরি ব্যাপারে কথা বলবেন। এটা কত সুন্দর যে, আমাদের মুখ যখন হাস্যোজ্জ্বল ভাষায় কথা বলে!
একজন পশ্চিমা বলেন, ‘হাসি হলো সামাজিক বিধি’ তার কথাটি সঠিক। কেননা, বুঝতে হবে যে, যদি আপনি অন্য মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে অমায়িক হতে হবে। সামাজিক জীবনে দক্ষতা প্রয়োজন যা তোমাকে পেশাদার করবে, যার একটি তোমার জীবনকে হাস্যোজ্জ্বল করবে। এটা সামাজিক ব্যাপার, যা সবার জন্যই সমান। যখন তুমি মানুষের সাথে হাসবে, তোমার সুন্দর এবং গতিশীল আশাবাদী জীবন অন্যের সাথে অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু তুমি যদি সহানুভূতিহীন মুখ নিয়ে তাদের সাথে দেখা কর, তোমাকে যদি বিরক্তিকর এবং উত্যক্তকর দেখায়, কিভাবে তুমি তাদের দুঃখের কারণকে গ্রহণ করতে পারে?
‘তাদের কাছে গৌরব-মহিমা কখনোই
গ্রহণযোগ্য হয় না, যারা এটার স্বপ্ন দেখে।’
শেষ কথা
এই লেখাগুলো পড়ার পরে আপনি দুঃখকে শেষ করে দিতে পারেন, হতাশা-দুঃশ্চিন্তা দূর করে দিতে পারেন। দুঃশ্চিন্তার জায়গা থেকে দূরে সরে থাকেন এবং আপনার হতাশা এবং দুর্দশার মাত্রাকে বিশ্বাসের সুউচ্চ মিম্বারে উঠান। আল্লাহর নির্দেশের কাবা হলো বান্দার সাথে স্রষ্টার আন্তরিকতা সন্তুষ্টির ধাপ, একে নতুন জীবন শুরু করার জন্য তার পূর্ব-গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু একজন সুখী ব্যক্তির কি হবে; যার কাছে একই রকম সুন্দর, ভয়হীন, দুঃশ্চিন্তাহীন, বিরক্তহীন, কষ্টহীন যার জীবনের প্রতিটি দিন। কারো জীবন যদি এমন হয়, বিশ্বাস এবং আস্থার আহ্বায়করা তোমাকে আশার পাহাড় থেকে ডাকবে, সুসংবাদ সম্ভাষণ করবে উপত্যকা থেকে।
‘আপনি হলেন (পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী নারী)’
