প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৭, জমা.সানি-রজব ১৪৩৮ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২৩-২৪বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

‘পূর্ণতা হলো অশেষ সম্পদ’

একজন মহান নারী নরকের যজ্ঞকে
বেহেশতে পরিণত করেন

একজন মহান সাহাবী আবু তালহার স্ত্রী উম্মে সোলায়েম। তিনি ধৈর্যের মহান উপমা পেশ করেন। তার সন্তান হারিয়ে যায় এবং মহান ক্ষমতাধর দয়ালু আল্লাহ তায়ালা তাকে মহা ক্ষতিপূরণ দান করেন।
আনাস (রা.) বলেন, আবু তালহার সন্তান অসুস্থ ছিল। আবু তালহা (রা.) বাহিরে গেল এবং ছেলেটি পরকালে চলে গেল। যখন আবু তালহা ফিরে আসল আর বলল, ‘আমার সন্তান কোথায়’? উম্মে সুলায়েম তথা বাচ্চার মা বলল, ‘সে এখন আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে।’ অতঃপর রাতে খাওয়ার সময় তাকে নিয়ে আসল এবং সে খেল। অতঃপর সে তার সাথে মিলিত হলো: তা শেষ হবার পর, উম্মে সুলায়েম বলল, ‘ছেলেকে সমাহিত কর’। সন্ধ্যায় আবু তালহা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল এবং সমস্ত ঘটনা বলল। ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলল, ‘তোমরা শেষ রাত্রে মিলিত হয়েছিল? ‘আবু তালহা বলল, হ্যাঁ।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে বলল, ‘হে আল্লাহ! তাদের প্রতি তুমি রহম কর।’

আবু তালহা আমাকে বলল, তার স্ত্রী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দান করেছে। ‘তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে আসল এবং সে তার কাছে কিছু খেজুর পাঠাল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি কি তার সাথে আরো কিছু এনেছ?’ আমি বললাম, হ্যাঁ, খেজুর।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু খেজুর নিয়ে চিবুকের এবং তার মুখ থেকে বের করে বাচ্চার মুখে দিলেন। অতঃপর তার নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ।
‘মাতৃত্ব ছাড়া আর কিছুই নারীর পদ-মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে না।’

‘রাত্রে শেষভাগে সুসংবাদ দাও তাহলে সেটা নিশ্চিত আসবে’

জয়ী হতে হলে ধৈর্যশীল হও

হারিদাহ ইবনে সোরাকার মা উম্মে রুবাইয়া বিনতে আল বারা হতে বর্ণিত। সোরাকা বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই আশা নিয়ে আসলেন যে, তাকে শহীদদের সম্পর্কে কিছু কথা বলবে, যা তার মনকে প্রশমিত করবে। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি হারিদাহ সম্পর্কে কিছু বলবেন না?’
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হে হারিদার মা; বেহেস্তে অনেকগুলো স্তর আছে এবং তোমার সন্তান বেহেশতে যায়, তার সাথে দেখা করবে ইনশাআল্লাহ। তাহলে সে ধৈর্যধারণ করতে পারবে, যা বেহেস্তে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। কিন্তু যদি তা না হয় তাহলে সে তার সন্তানের জন্য করুণ কান্না করবে। যেন সে তার আদরের সন্তানকে চিরতরে হারিয়েছে। এর সবই তিনি করতে পারতেন। কেননা, সে তার সন্তানের কাছে আদরের এবং প্রিয় মা ছিলেন। কিন্তু সে মহান দয়ালু আল্লাহর পুরস্কারের আশায় ধৈর্য ধারণ করেন।
‘যদি একজন সুন্দর নারী অলংকার হয়,

তাহলে একজন নেক নারী সম্পদ’

‘নারী হলো সূর্য যা কখনো ডুবে না’

দুঃখের সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই

যখন মাথায় দুঃশ্চিন্তা আসে, সাথে দুঃখ এবং অভাব মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তাকে অসহায় করে ফেলে এবং সে ভাবতে থাকে যে এখান থেকে বের হবার কোনো উপায় নেই। সে চিৎকার দিয়ে বলে, ‘হে আল্লাহ!…. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল-আযীম আল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বি আল-আরশ আল রাব্বি আল-আরশ আল করিম (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, সর্বক্ষমতা নয়। আল্লাহর রাজত্ব তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, তিনি বেহেশতের প্রভু, পৃথিবীর প্রভু এবং সমস্ত রাজত্বের প্রভু), অতঃপর তার দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়ে যায় এবং হতাশা থেকে মুক্তি লাভ করেন।

অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাকে (তার মানসিক) দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আর এভাবেই আমি আমার মোমিন বান্দাদের সব সময় মুক্তি দেই। (সূরা আল-আম্বিয়া : আয়াত-৮৮)

নিয়ামতের যা কিছু তোমাদের কাছে আছে তা তো আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকেই এসেছে। অতঃপর তোমাদের যদি কোনো দুঃখ দৈন্য-দুদর্শা স্পর্শ করে তখন (তা দূর করার জন্য) তাকেই তোমরা বিনীতভাবে শরীক বানিয়ে নেও। (সূরা নাহল : আয়াত-৫৩)

যখন সুস্থতা প্রকট আকার ধারণ করে এবং দেহ দুর্বল হয়ে যায়, তখন সে অসহায় এবং একাকিত্ব অনুভব করে। ডাক্তার কিছু করতে অক্ষম হয়ে যায়, তার মন হতাশায় ভরে যায়, হাত অবশ হয়ে যায় এবং সে তার হৃদয়ে হাহাকার অনুভব করে। অতঃপর সমস্ত ক্ষমতাধর আল্লাহর ডাকে তার অসুস্থতা দূর হয়ে যায় এবং বলে; হে আল্লাহ! অতঃপর তার অসুস্থতা দূর হয়ে যায় এবং সে সুস্থ হতে শুরু করে এবং আল্লাহ তার প্রার্থনার উত্তর দেন।

(স্মরণ কর) যখন আইয়ুব তার মালিককে ডেকে বলেছিল (হে আল্লাহ), আমাকে এক কঠিন অসুখে পেয়ে বসেছে, (আমায় তুমি) নিরাময় কর। কেননা, তুমিই হচ্ছো দয়ালুদের সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
অতঃপর আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম, তার যে কষ্ট ছিল তা আমি দূর করে দিলাম। তাকে (যে শুধু) বরং তাদের (সবাইকে) আমার কাছ থেকে বিশেষ দয়া এবং আমার বান্দাদের জন্য উপদেশ হিসেবে আরো সমপরিমাণ (অনুগ্রহ) দান করলাম। (সূরা আম্বিয়া : আয়াত, ৮৩-৮৪)

‘একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তার বিশ্বস্ত স্ত্রী’

‘নারী হলো ক্ষণস্থায়ী বোতলের মতো,
তাদের যত্নের সাথে চালাও।’


সে কি তোমার ঘড়ের চেয়ে বেশি উত্তম নয় যে তোমার হতাশার সময় সাড়া দেয় এবং তুমি ডাকলে সাড়া দেয়?

আল্লাহ করুণাময় ও দয়ালু। তিনি কখনো কাউকে নিরাশ করেন না, যে তার ওপর আশা রাখে আর যে তাকে ডাকে তিনি তাকে অবহেলা করেন না। ব্যক্তি অনুসারে তার কতটুকু প্রয়োজন এবং সে আল্লাহর প্রতি প্রার্থনা করে কতটুকু বিনয়ী এবং কতটুকু মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তার প্রার্থনার উত্তর দিবেন এবং তার প্রার্থনাকে মঞ্জুর করবেন। যদিও এটা তার দয়া যে, তিনি অমুসলিমদের ডাকেও সাড়া দেন। যদি সে আল্লাহর কাছে বিনয় এবং ভদ্রভাবে প্রার্থনা করে এবং তার দয়া এবং সহানুভুতির ওপর আশা রাখে। তাহলে সে তার ডাকে সাড়া দেন আল্লাহ তার রহমত দয়া দ্বারা তার হতাশাকে দূর করে দেন, তারা তাকে ভালবাসেন। তাই মানুষ তার প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তার রহমত এবং দয়ার কথা ভুলে যায় এবং তার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। মহা ক্ষমতাধর আল্লাহ তায়ালা বলেন-

যখন এরা জলযানে আরোহণ করে (নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়), তখন তারা নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ তায়ালাকেই ডাকে। জীবনবিধান একমাত্র তার জন্য (নিবেদন করে)। কিন্তু তিনি যখন তাদের মুক্তি দিয়ে স্থলে নামিয়ে নিরাপদ করে দেন, তখন তারা (আল্লাহ তায়ালার সাথেই) শরীক করতে শুরু করে।
‘নারীদের ঘরে থাকা উচিত। কেননা, তারা মাটির পাত্রের মতো যা খুব সহজে ভেঙ্গে যায়।’ (সূরা আনকাবুত : আয়াত-৬৫)

অথবা তিনিই (শ্রেষ্ঠ)- যিনি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেন, যখন (নিরূপায় হয়ে) সে তাকেই ডাকতে থাকে। তখন (তার) বিপদ আপদ তিনি দূরীভূত করে দেন এবং তিনি তোমাদের এ যমীনে তার প্রতিনিধি বানান। (এসব কাজে) আল্লাহ তায়ালার সাথে আর কোনো মাবুদ কি আছে? (আসলে) তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। (সূরা আন-নামল: আয়াত-৬২)

‘অন্যের ক্ষতি করা থেকে সাবধান।
কেননা, এটা পরাজয়ের লক্ষণ।’
১০
যারা কার্পণ্য করে তারা প্রকারান্তরে
নিজেদের সাথে কার্পণ্য করে

উম্মে আল-বানিন বিনতে আবদুল আযিয সম্পর্কে একটি জনপ্রিয় কথা প্রচলিত আছে। যিনি উমর ইবনে আবদুল আযীযের বোন ছিলেন। তার উদারতাই বলে তিনি কেমন ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি নারীদেরকে তার বাড়িতে দাওয়াত দিতেন এবং নতুন জামা এবং দিনার দিতেন। তিনি বলতেন : ‘এই নতুন জামা তোমার জন্য, কিন্তু এই দিনারগুলো তোমার মতো গরিবদের, ‘এভাবে তিনি মানুষদের দানশীল হওয়ার শিক্ষা দিতেন। এটা বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন, ‘ধিক কৃপণতার! আল্লাহর রহমতে যদি এটা পোশাক হয় আমি কখনো এই পোশাক পরিধান করব না। যদি এটা আদর্শ হয় তাহলে আমি কখনো অনুসরণ করব না। তাঁর কথায় উদারতা ছিল নিম্নরূপ-
‘প্রত্যেককেই আকাক্সক্ষা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আমার আকাক্সক্ষা দানশীলতার দিকে। আল্লাহর রহমতে আমার ভালো খাবার, তৃষ্ণা-কাতর পানীয় আর দামী কাপড়ের চেয়ে অন্যকে সাহায্য করা বেশি প্রিয়।’

যেহেতু সে সঠিকভাবে দান করতে আগ্রহী এবং অন্যদের সাহায্য করতে সক্ষম আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রহম করুক। তিনি বলেন-

‘আমি মানুষকে সাহায্য করা ছাড়া অন্যকিছুর জন্য দাওয়াত করি না, আমি মানুষকে দিতে পছন্দ করি।’
এই ছিল উম্মে আল বানিন, এই ছিল তার কর্ম এবং কাজ। বর্তমানে এমন মুসলিম নারী পাওয়া দুষ্কর?

‘কৃপণতার মৃত্যু সত্যিকারের সুখ’