প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ১১ম সংখ্যা, মে ২০১৬, রজব-শাবান ১৪৩৭ হিজরী, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

নিয়ামতের যা কিছু তোমাদের কাছে আছে তা তো আল্লাহর তায়ালার কাছ থেকেই এসেছে


একজন নারী যিনি বিপদের সময় সাহায্যের প্রস্তাব দেন

আত-তাবাকাত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কন্যা ফাতেমাতুয যোহরা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বেশ কিছুদিন ক্ষুধার্ত ছিলেন। একদিন আলী (রা) লক্ষ্য করলেন তার চেহারা মলিন দেখাচ্ছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে ফাতেমা! তোমার কী হয়েছে? সে বলল, তিনদিন যাবত ঘরে খাওয়ার কিছু নেই। আলী (রা) বললেন, তুমি আমায় বলনি কেন? আমার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার বিয়ের রাত্রিতে বলেছিলেন, হে ফাতেমা! যদি আলী তোমার জন্য খাবার আনে তাহলে তুমি খেয়ে নিবে, আর যদি না আনে, তাহলে তার কাছে চেয়ো না।
কিন্তু অধিকাংশ নারীরা তাদের স্বামীর পকেটের শূন্যতার দিকে গুরুত্ব দেয় না। তারা অবস্থা ও পরিস্থিতি না জেনে টাক পয়সার জন্য তাগাদা দেয়। তারা গৃহস্থালীর প্রয়োজনের কথা খুব শক্ত ভাষায় জানায় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তা না আনা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্ত হয় না।
নিঃসন্দেহে যদি কোনো লোক এরকম কারো কবলে পরে, এই সমস্যা কখনো শেষ হবে না এবং ক্রমশ ঝগড়া ফাসাদ বৃদ্ধি পাবে, আর এর পরিণতি দুঃখ কষ্ট এমনকি বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে পারে।
জীবন ছোটর চেয়েও ছোট তাই
এটাকে আরো ছোট করার চেষ্টা কর না।

সফলতা অর্থ তোমার নাম সবার মুখে থাকা

সকল বেহেশতীদের মধ্য থেকে একজন নারী

আতা ইবনে আবু রাবাহ বর্ণনা করেন : ইবনে আব্বাস (রা) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে বেহেশতী মানুষদের মধ্য থেকে একজনকে দেখাব না? আমি বললাম, হ্যাঁ! সে বলল, এই কালো নারী যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসল এবং বলল, আমি মৃগি রোগে আক্রান্ত তাই অসুস্থতার সময় আমি বেপর্দা হয়ে যাই। আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি যদি চাও, তুমি এই রোগ ধৈর্যের সাথে বহন করতে পার এবং বেহেশত তোমার হয়ে যাবে অথবা তুমি যদি চাও তাহলে আমি আল্লাহর কাছে তোমার আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করি। মহিলটি বলল, আমি ধৈর্য ধারণ করব কিন্তু আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন বেপর্দা হয়ে না যাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য দোয়া করলেন। এই ধার্মিক ঈমানদার নারী যিনি এমন একটি সমস্যাকে গ্রহণ করলেন যা তার সমগ্র জীবনেই তার সাথে থাকবে, যাতে সে বেহেশত অর্জন করতে পারে। সে একটি ভালো করল এবং সে একজন বেহেশতী হলো। কিন্তু সে বেপর্দা হতে পছন্দ করতেন না যাতে মানুষ তাকে দেখতে পারে। আওরা (হাত এবং মুখ ছাড়া শরীরের বাকি অংশ ঢাকা থাকে) একজন ধার্মিক, ভদ্র মুসলমান নারীর যথে নয়। তাহলে, সেই সকল নারীদের ব্যাপারে কী বলা উচিত যারা খোলামেলা জামা-কাপড় পরিধান করে, যারা তাদের প্রফ্ল্লুতাকে দেখাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে এবং ভদ্রতার নেকাবকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় এবং পরোক্ষভাবে খোলামেলাই পছন্দ করে। বেহায়ার মতো চলাফেরা করে।

প্রচুর দুঃশ্চিন্তা! ধৈর্য ধারণ কর এবং দৃঢ়তার সাথে বাস্তবতাকে মোকাবেলা কর। তোমার সময়কে পূর্ণ কর এবং এগিয়ে যাও।

সক্ষমতা অনুসারে সাহায্য আসে

বদান্যতা বিপদকে দূরে রাখে

বদান্যতা মনে শান্তি পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যদি সে ভালো কাজ করে, আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীতে তাকে পুরস্কৃত করেন এবং তার জন্য সুখ-শান্তির পূর্ণতা নিশ্চিত করেন। তাই অল্প হলেও দান কর এবং তুমি যা কিছু দাওনা কেন তা অর্থহীন মনে কর না, এমনকি যদি এটি একটি খেজুরও হয়, অথবা এক লোকমা খাবারও হয়, অথবা এক পেয়ালা দুধ অথবা পানিও হয়। তা গরিব এবং অসহায়কে দাও, ক্ষুধার্তকে খাওয়াও এবং অসুস্থকে দেখতে যাও। তাহলে আল্লাহ তোমার দুঃখ-কষ্টকে দূর করে দিবেন। বদান্যতা এমন একটি ওষুধ যা শুধুমাত্র ইসলামের দাওয়াখানায় পাওয়া যেতে পারে।
এক ব্যক্তি ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে আল মুবারক (রা) কে জিজ্ঞেস করল, হে আবু আবদুর রহমান! সাত বছর যাবত আমার হাঁটুতে একটি ফোঁড়া হয়েছে। আমি এই ব্যাপারে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছি এবং সাধারণের ঔষুধ ব্যবহার করেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ইবনে আল মুবারক তাকে বলেন, যাও এবং খোঁজ করে দেখ কোথায় মানুষের পানির প্রয়োজন, সেখানে একটি কূপ খনন করে দাও। আমি আশা করি যখন পানি তোমার হাঁটু পর্যন্ত গড়াবে তখন তোমার পা থেকে রক্ত-পুঁজ পড়া বন্ধ হবে। অতঃপর লোকটি কথা অনুযায়ী সেই কাজ করল এবং সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে গেল। এটা আশ্চর্যজনক কিছু না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমার অসুস্থতাকে কোনো উদার ব্যক্তির কাছে চিকিৎসা করাও এবং তিনি আরো বলেন, বদান্যতা স্রষ্টার ক্রোধকে মিটিয়ে দেয় এবং খারাপীকে দূর করে দেয়।

দুশ্চিন্তা অলসতার বন্ধু

তাবুতে হুররা অপেক্ষমান রয়েছে

মানসিকভাবে সুন্দর হও পৃথিবী সুন্দর দেখবে

এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, আকাশের তারা অনেক সুন্দর। তাদের সৌন্দর্য এক নিঃশ্বাসে চলে যায়। সময় এবং দিন অনুসারে এটা পরিবর্তিত হয়। এটা সকালে একরকম এবং সন্ধ্যায় আরেক রকম হয়। সূর্যাস্তের থেকে সূর্যোদয়ের সময় ভিন্ন হয়। জোৎসনা থেকে অমাবস্যা, পরিস্কার আকাশ থেকে কুয়াশা এবং মেঘাচ্ছন্ন আকাশে পরিণত হয়। এমনকি এটা এক সময় থেকে অন্য সময় ভিন্ন হতে পারে, এক পর্যবেক্ষণ থেকে অন্য পর্যবেক্ষণে এক কোনো থেকে অন্য কোনো। কিন্তু সর্বাবস্থায় এটা সুন্দর এবং শ্বাসরুদ্ধকর। এই একটি তারা যেটি আকাশে মিটি মিটি জ্বলে সেটি যেন ভালবাসায় সিক্ত সুন্দর চোখের আলোর মতো। এই একসাথে থাকা দুটি তাঁরা, এরা যেন হাজার তাঁরার ভিড়ে সকল তাঁরার দলের সাথে কথা বলা, যেন বেহেশতের কোনো এক পার্টিতে বন্ধুদের আলোচনা। এই স্বপ্নময় চাঁদ এক রাত থেকে অন্য রাতকে আশ্চার্যিত করছে। মাঝে মাঝে আলো দেয় আবার মাঝে মাঝে নিভে যায়। কখনো কাছে আবার কখনো দূরে হারিয়ে যায় যেন এক বিস্মৃতি দিগন্তে। এই মহাশূন্য, যার বিশালত্ব দেখতে দেখতে কখনো চোখ ক্লান্ত হয় না, মন পরিশ্রান্ত হয় না। চোখের দৃষ্টি কখনো এর দিগন্ত দেখতে পায় না।
এই সবকিছুই সুন্দর এবং মানুষই একমাত্র দেখে এবং উপভোগ করে, কিন্তু তার মনের সকল কথা দিয়ে তা বর্ণনা করতে পারে না।

যা অপরিহারযোগ্য তা আপনার গ্রহণ করা উচিত কিন্তু আপনি যদি এই ব্যাপারে দুঃখিত হন, সেটা আপনাকে কীভাবে সাহায্য করবে ?

তোমরা ঘরে অবস্থান করবে, পূর্বেকার জাহেলিয়াতের যমানার (নারীদের) মতো নিজেদের প্রদর্শনী করে বেড়াবে না
(সূরা আল আহযাব : আয়াত-৩৩)

১০
একজন সাহসী নারী

খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.) হাবীব ইবনে আল-ফিহিরকে বাইজানটিনসের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নিয়োগ দিলেন। বাইজানটিনস মুসলমানদেরকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলেন। এই সেনাদলের মধ্যে হাবীবের স্ত্রীও একজন সৈনিক ছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে হাবীব সৈন্যদের মধ্যে খুঁজতে শুরু করল এবং তার স্ত্রী আসল এবং তাকে জিজ্ঞেস করল, যখন যুদ্ধ তীব্র থেকে তীব্রতর হবে এবং সৈন্যদলের সারি ঢেউয়ের মতো ভেসে যেতে থাকবে তখন আমরা কোথায় দেখা করব?

সে উত্তর দিল, তুমি আমায় খুঁজে পাবে হয়তো বাইজানটিনের সেনাপ্রধানদের তাবুতে অথবা বেহেশতে যুদ্ধ তীব্র হতে লাগল। হাবীব এবং তার সঙ্গীরা সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করতে লাগল যতক্ষণ না আল্লাহ তায়ালা বাইজানটিসের ওপর তাদের বিজয় দান না করেন। যখন সে তাবুর দরজায় পৌঁছল, সে আশ্চর্যজনক কিছু দেখতে পেল। তার স্ত্রী তার পূর্বেই এখানে রয়েছে এবং ইতোপূর্বে বাইজানটিনের সেনাপ্রধানদের তাবুতে প্রবেশ করে ফেলেছে।

জীবনে অসম্ভব এবং কঠিন বলতে কিছু নেই যতক্ষণ না তুমি কাজ করতে এবং চলাচল করতে সক্ষম।