প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১০ম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৭, জমা.সানি-রজব ১৪৩৮ হিজরী, চৈত্র-বৈশাখ ১৪২৩-২৪বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

১০৯. প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ

১. কিয়ামাতের অন্যতম আলামত হচ্ছে এমন বর্ষণ, যা মাটি ও পাথরে নির্মিত সকল স্থাপনা ভাসিয়ে নেবে। তবে উটের জন্য নির্মিত কাপড়ের ছোট তাঁবু নিস্তার পেয়ে যাবে।

২. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না আকাশ প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করে। তা থেকে মাটির ঘর কিছুতেই রক্ষা করতে পারবে না। তবে তখনকার তাঁবু এবং বর্তমান যুগের পাকা ঘরই তা থেকে রক্ষা করতে পারবে। ( মুসনাদে আহমদ)

১১০. বেশি বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ফসল কম হওয়া

১. কিয়ামাত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে- ফসলাদি উৎপন্ন করে না- এমন প্রবল বর্ষণ।
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- “কিয়ামাতের পূর্বমুহূর্তে আকাশ থেকে অবিরাম বর্ষণ হবে, কিন্তু তা থেকে সামান্য ফসল-ও অঙ্কুরিত হবে না।” (মুসনাদে আহমদ ৩/১৪০)

২. কোন সন্দেহ নেই -ভূ- পৃষ্ঠের বরকত নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় এরকম ঘটবে যেমনটি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- “বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাওয়া দুর্ভিক্ষ নয়; বরং অবিরাম বর্ষণ সত্তেও জমিনে ফসল না ফলানো দুর্ভিক্ষ।” ( মুসনাদে আহমদ)
দুর্ভিক্ষ মানে বৃষ্টি না হওয়া নয়। বরং অচিরেই এমন দুর্ভিক্ষ আসবে যখন বৃষ্টি হতেই থাকবে। তবে জমিন তখন কিছুই ফলাবে না।’ (মুসলিম ২৯০৪)

১১১. আরব উপদ্বীপ বৃক্ষলতা ও নদী নালায় ভরে উঠবে

১. আরব উপদ্বীপের প্রায় ৭০% এলাকা-ই হচ্ছে তৃণ-বিহীন মরুভূমি। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলে গেছেন- কিয়ামাতের পূর্বমুহূর্তে আরব উপদ্বীপ বৃক্ষলতা ও নদীনালায় পূর্ণ হয়ে উঠবে। চারিদিকে গাছ -পালা শস্য- শ্যামল ও উদ্ভিদপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করবে।

২. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- “কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না আরবের ভূমি সুউচ্চ বাগিচা এবং নদী নালায় ভরে উঠবে। – যতক্ষণ না সুদূর ইরাক থেকে মক্কা নগরী পর্যন্ত মানুষ ভ্রমণ করবে, পথিমধ্যে পথ হারানো ব্যতীত ভয় থাকবে না। যতক্ষণ না সংঘাত বেড়ে যাবে। সংঘাতের অর্থ জিজ্ঞেস করা হল নবীজী বললেন- হত্যাযজ্ঞ।” (মুসনাদে আহমদ)

৩. একই বর্ণনাকরীর অপর হাদিসে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- “কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ধন- সম্পদ ছেয়ে যাবে। যাকাত দিতে গেলে গ্রহিতা পাওয়া দুষ্কর হবে।- যতক্ষণ না আরব ভূ-খন্ড সুউচ্চ বাগিচা ও নদীতে ভরে উঠবে।” (মুসলিম)

৪. মুয়ায বিন জাবাল (রাঃ) বলেন- তাবুক যুদ্ধের বছর আমরা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে বের হলাম। (ভ্রমণকালে) নবীজী দুই নামাযকে একত্রে পড়তেন। জুহর- আসর এবং মাগরিব- এশা একত্রে পড়ে নিতেন। যথরীতি বের হয়ে নবীজী যোহরের নামায কিছুক্ষণ দেরী করে জুহর- আসর একত্রে পড়ে নিলেন। মাগরিবের সময় হলে মাগরিব -এশা একত্রে পড়ে নিলেন। অতঃপর বললেন- আগামী কাল ইনশাল্লাহ তোমরা তাবুকে (ঐতিহাসিক) ঝর্ণার কাছে পৌঁছে যাবে। প্রভাত-রবি উদ্ভাসিত হওয়ার আগে সেখানে পৌঁছতে পারবে না। আমি না পৌঁছা পর্যন্ত ঐ ঝর্ণার পানি তোমরা পান করবে না! অতঃপর যথাসময়ে ঝর্ণার কাছে এসে পৌঁছলাম। আমাদের আগেই দু-জন এসে পৌঁছেছিল। ঝর্ণাটি জুতার ফিতার ন্যায় সরু ছিল। খুব-ই স্বল্প পানি সেখানে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নবীজী এসে -তোমরা কেউ পানি স্পর্শ করেছো?” জিজ্ঞেস করলে ঐ দু-জন বলল-জ্বি হ্যাঁ..!! নবীজী তখন রাগত- স্বরে তাদেরকে কিছু কটু কথা বললেন।

অতঃপর সবাই ঝর্ণা থেকে অঞ্জলি ভরে একটু করে পানি এনে এক পাত্রে জমা করলেন। নবীজী পাত্রের পানি দিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে পানিকে পুনরায় ঝর্ণার প্রবাহ-পথে রেখে দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্রোতের মত পানি আসতে লাগল। আমরা সকলেই সেখান থেকে পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করলাম। অতঃপর নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন- ওহে মুয়ায! আয়ূ থাকলে ভবিষ্যতে এই স্থানকে তুমি বাগ-বাগিচায় পূর্ণ দেখতে পাবে।” (মুসলিম)৭০৬)

৫. আবহাওয়াবিদগণ সম্প্রতি তুষারপাতের প্রবাহ আরব উপদ্বীপের দিক ধেয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন। ফলে নিকট ভবিষ্যতে আরব দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি ও শীতল আবহাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যদি হয়, তবে কোন সন্দেহ নেই আরব বিশ্ব সবুজ-শ্যামল পরিবেশ এবং নদীনালায় পূর্ণ হয়ে উঠবে। নিদর্শনটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অচিরেই হবে।

৬. কেউ কেউ বলেছেন, আরব বিশ্বের চিরাচরিত সেই ধূ ধূ মরু চেহারা এখন আর অবশিষ্ট নেই। আধুনিকতার ছোঁয়ায় পুরো আরব বিশ্ব আজ সবুজ- শ্যামল প্রান্তরে পরিণত হয়েছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বড় বড় শহর নির্মিত হয়েছে। বিশ্বের অত্যাধুনিক মহা সড়ক, মহা নগর এবং সুউচ্চ টাওয়ার এখন আরব বিশ্বে। গাড়ীতে করে আপনি পুরো আরব বিশ্ব ঘুরতে পারবেন। এটাই কিয়ামাত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন।

৭. বৃহত্তম কৃষি প্রকল্পের আওতায় তাবূক প্রান্তরে আজ বিশাল বিশাল ফলের বাগিচা গড়ে উঠেছে।