প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১১ম সংখ্যা, মে ২০১৭, রজব-শাবান ১৪৩৮ হিজরী, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ….’ সংখ্যায়
১১২. ফুরাত নদীর তলদেশ থেকে স্বর্ণের খনি আবিস্কৃত হবে
১. ইরাকের বক্ষ দিয়ে প্রবাহিত নদী-দ্বয়ের মধ্য ফুরাত অন্যতম। এক সময় এতে প্রচুর পানি ছিল। এখনও আছে, তবে ক্রমেই নিম্নে চলে যাচ্ছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ফুরাত নবী শুকিয়ে বহন পথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। অতঃপর স্বর্ণের খনি উন্মোচিত হবে। সকল পরাশক্তি স্বর্ণ দখলে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। সেখানে অজস্র লোকের মরণ হবে।
২. স্বর্ণের খনি প্রকাশকালে সেখানে যাওয়া কিংবা স্বর্ণের লোভে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া থেকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কড়া ভাষায় নিষেধ করে গেছেন।
আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- “কিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ফুরাত নদী থেকে স্বর্ণের খনি/প্রকাশ হবে। স্বর্ণ দখলের লোভে সবাই এখানে যুদ্ধ করতে থাকবে। ৯৯% যোদ্ধা-ই সেখানে নিহত হয়ে যাবে। বেঁচে থাকা প্রত্যেকেই – আমি-ই শুধু বেঁছে আছি- মনে করবে।” (মুসলিম,২৮৯৪)অপর বর্ণনায়- “তোমাদের মধ্যে যারা তখন বেঁচে থাকে, কেউ যেন ওখান থেকে কিছু গ্রহণ না করে।” (বুখারী, মুসলিম-২৮৯৪)
৩. উবাই বিন কাব (রাঃ) বলেন- দুনিয়ার পেছনে সবসময় ছুটাছুটি করবে। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আমি বলতে শুনেছি- “অচিরেই ফুরাত নদীতে স্বর্ণের ভান্ডার প্রকাশ পাবে, শুনা মাত্রই সবাই সেখানে চলে যাবে। স্থানীয় লোকেরা বলবে- ব্যবস্থা না নিলে সবটুকু স্বর্ণ-ই মানুষ দখল করে নিয়ে যাবে। ফলে তারাও সেখানে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। ৯৯% যোদ্ধা-ই সেখানে নিহত হয়ে যাবে।” (মুসলিম)
৪. সম্ভবত বহন পথ পরিবর্তনের ফলে ফুরাত নদীর পানি কমে যাবে। এভাবে কমতে কমতে-ই হয়ত স্বর্ণের খনি প্রকাশ পাবে। মুসলমানদের মধ্যে যারাই তখন জীবিত থাকবে,তাদের উচিত সেখানে না যাওয়া বা স্বর্ণ দখলের কোন চেষ্টা না করা। কারণ, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ই বলে গেছেন- ওখানে যারা যাবে, তাদের ৯৯% নিহত হবে। ফিতনাটি এখনো অপ্রকাশিত। কবে নাগাদ হবে, আল্লাহই ভাল জানেন।
৫. ফুরাত নদীর পানি অধিকাংশই তুরস্ক এবং সিরিয়া থেকে আসে। বর্তমানে তুরস্ক এবং সিরিয়া ফুরাত নদীর উপর অনেকগুলো বাঁধ স্থাপন করেছে। বড় বড় ফ্যাক্টরি নির্মাণ করেছে। ফলে পানির প্রবাহ বহুলাংশে-ই হ্রাস পেয়েছে। এটাই হয়ত পরবর্তীতে স্বর্ণ-প্রকাশে মূল ভূমিকা হিসেবে কাজ করবে।
১১৩. পুরো আরব বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে এখন ফিতনা সৃষ্টি হবে
১. কিয়ামাতের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে-পুরো আরব বিশ্বে এমন ভয়াবহ সংঘাতের সৃষ্টি হবে, যদ্দরুন মাত্রাতিরিক্ত হত্যা- ঘটনা ঘটতে থাকবে।আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- “এমন ফিতনা সৃষ্টি হবে,যা পুরো আরব বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে। নিহত সকলেই জাহান্নামে যাবে। তরবারির তুলনায় মুখের কথা তখন বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হবে।” (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযীম, ইবনে মাজা)
২. পার্থিব অর্জন কিংবা ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে লড়াই করে নিহত হয়েছে বলে সকলেই জাহান্নামে যাবে।
যে কোন সংগ্রামের ক্ষেত্রে -আল্লাহর দ্বীন উঁচু করা, অত্যাচারীর পতন বা সত্যের সহায়তার নিয়ত থাকতে হবে। বিশৃঙ্খলা, সংঘাত কিংবা ক্ষমতার লোভে সংগ্রাম করলে জাহান্নাম-ই হবে তার ঠিকানা।
ফিতনার সময় বিধর্মীদের প্রচারিত কোন তথ্য বিশ্বাস করা কিংবা আগত তথ্যকে বিনা যাচাইয়ে অন্যের কাছে বর্ণনা করা থেকেও সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
১১৪. মুমিনগণের অপরিচিত হওয়া
কিয়ামাতের পূর্বে মুমিনগন সমাজে অপরিচিত বা অল্প বা একাকী হয়ে পড়বে। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- ইসলাম অপরিচিত ভাবে আরম্ভ হয়েছিল আবার তা অপরিচিতির দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। অতএব অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ। (মুসলিম,কিতাবুল ঈমান বাব বায়ন আন্নাল ইসলামা বাদায়া গারিবান)
১১৫. ঈমান-ইসলাম মক্কা-মদীনায় প্রত্যাবর্তন করা
কিয়ামাতের পূর্বে ঈমান-ইসলাম মক্কা-মদীনায় ফিরে যাবে। আব্দূল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেনঃ ইসলাম অপরিচিতভাবে আরম্ভ হয়েছিল আবার তা অপরিচিতির দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তা অবস্থান নিবে দু’মসজিদে (হারামাইন শরীফাইন) এর মাঝে যেমন সাপ তার গর্তে আশ্রয় নেয়। (মুসলিম,কিতাবুল ঈমান)
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ নিশ্চয়ই ঈমান মদীনায় প্রত্যাবর্তন করবে। যেমন সাপ তার গর্তে প্রত্যাবর্তন করে। (মুসলিম কিতাবুল ঈমান)
১১৬. রোমান (খৃষ্টান) সংখ্যাধিক্য ও আরব সংখ্যা হ্রাস
১. রোমক বলতে বর্তমান ইউরোপ-আমেরিকা উদ্দেশ্য। আসফার বিন রূম বিন ঈসা বিন ইসহাক বিন ইবরাহীম (আঃ)- এর নামানুসারে এদেরকে রোমক বলা হয়। হাদীসে এদেরকে -বনুল আসফার -বলেও সম্মোধন করা হয়েছে।
২. মুস্তাওরাদ ফাহরী থেকে বর্ণিত, একদা তিনি আমর ইবনুল আস (রাঃ) -এর সামনে বলতে লাগলেন- কিয়ামাতের পূর্বমুহূর্তে রোমক সম্প্রদায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে। আমর ইবনুল আস বললেন- ভেবে চিস্তে কথা বল। মুস্তাওরাদ বললেন- নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আমি যেমন শুনেছি, তেমন-ই বলছি। তখন আমর বলতে লাগলেন- তবে এটাও শুনে রাখ! রোমকদের মধ্যে চারটি ভাল গুণ-ও রয়েছে।
১। পতনের পর দ্রুত উঠে আসে
২। দরিদ্র, মিসকিন ও দুর্বলদের সহায়তায় তারা আগেভাগে এগিয়ে আসে
৩। ফেতনার সময় তারা দৃঢ় অবিচল থাকে
৪। রাজা-বাদশাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে । শেষোক্তটি সর্বোৎকৃষ্ট।” (মুসলিম)
৩. উম্মে শুরাইক (রাঃ) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন- “ দাজ্জালের ফেতনা থেকে বাঁচার লক্ষে মানুষ দূরের পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিবে। উম্মে শুরাইক বললেন- আরব জাতি সেদিন কোথায় থাকবে হে আল্লাহর রাসূল? উত্তরে বললেন- তারা তো সেদিন যৎসামান্য…!” (মুসলিম)
৪. রোমকদের সংখ্যাধিক্যের ব্যাখ্যায় অনেক উলামায়ে কেরাম বলেন- ইউরোপিয়ান ভাষা (ইংরেজী) বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। আরবী ভাষার প্রতি মানুুষের অনীহা সৃষ্টি হবে।
আরব জাতির ব্যাখ্যায় কোন কোন আলেম বলেন-আরবীতে কথা বলতে জানে- সবাইকে আরবী বলা হবে। মরুভূমিতে থাকে -সবাইকে বেদুইন বলা হবে।
