প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৫বর্ষ- ৬ষ্ঠ সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৫, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৭ হিজরী, অগ্র-পৌষ ১৪২২ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়
তুমি যেখানেই যেয়ে তোমার জীবনে অন্ধকার
দেখতে পাও তোমার নিজের মধ্যে সুপ্ত আলোর
জন্য তোমাকে কী করতে হবে
১. অঝোর কান্না এবং ভগ্নহৃদয়কে স্মরণ কর
জনৈক শিক্ষিত ব্যক্তি বলেছিল, যদি তুমি বিশ্বাস কর সময়ের সাথে তোমার চুক্তি রয়েছে। যেমন, এটা এমন জিনিস যেটা হবে তোমার যাবতীয় চাওয়ার একমাত্র পথ এবং তুমিই শুধুমাত্র দিতে পার যা তুমি চাও এবং প্রত্যাশা কর। অতঃপর এটা তোমার মধ্যে এমন মানসিকতা সৃষ্টি করবে যা তোমার লোভ-লালসার লাগাম টেনে ধরবে। সবসময় তুমি যা প্রত্যাশা কর তা পাও না অথবা তুমি যখন কোনো কিছু চাও অথবা তোমার উদ্দেশ্যের মধ্যে বাঁধা বিপত্তি এসে পরে।
কিন্তু তুমি যদি সচেতন হও তাহলে বিকল্প কিছু চিন্তা করবে। মাঝে মাঝে তুমি যা চাও তা পাও আবার কখনো নাও পেতে পার এবং এটা ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিবে যে, জীবন সবসময় তোমাকে পুরস্কার দিবে না। অতঃপর এই ব্যাপারটা ভুলে যাবে; বরং এটা ভাববে যে, এটা পরবর্তীতে আবার ফিরে আসবে এবং এটাই সমগ্র আদম সন্তানের জীবনের পরিক্রমা। সে রাজপ্রাসাদে বাস করুক আর পাহাড়ের গুহায় বাস করুক, সে গগনচুম্বী অট্রালিকায় থাকুক আর খোলা মাঠে থাকুক। অতএব তোমার লোভকে নিয়ন্ত্রণ কর এবং চোখের পানিকে মুছে ফেল। কেননা, তুমিই একমাত্র দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়ছ এমন নয় এবং তোমার সমস্যাগুলো নতুন নয়।
বন্ধ কর তোমার পাপের অনুশোচনা
এবং স্মরণ কর তোমার ভালো কার্যকলাপের
যা দ্বারা তুমি পাপকে মুছে ফেলতে যাচ্ছ।
দুর্যোগ এলেই মানুষ আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে
২. আয়েসী ও সীমালংঘনকারিরা সুখী নয়
ঐ সকল লোকদের দিকে তাকিও না যারা চাকচিক্যের জীবন-যাপন করে এবং সীমালংঘনকারী। তোমরা আল্লাহর অনুকম্পা এবং দয়ার মুখাপেক্ষী, তোমরা হিংসুক নও। সেই সকল লোক যারা শুধুমাত্র খেয়াল এবং আকাঙ্খাকে চরিতার্থ করে এবং এগুলোর মধ্যে শান্তি অনুসন্ধান করে, যদিও এটা অনুমোদিত না; নিষিদ্ধও না। তথাপিও তারা সুখী নয় বরং যারা অতি কষ্টসাধ্য এবং দুঃখের মধ্যে জীবন যাপন করে, তাঁরা আল্লাহর রাস্তা থেকে পথভ্রষ্ট হয় না এবং আল্লাহর হুকুমকে অকমান্য করে না এবং আল্লাহর ইচ্ছায় মানুষ শান্তি খুঁজে পায়। তাই এমনটা মনে কর না যে, যারা চাকচিক্য এবং বিলাসবহুল জীবন যাপর করে তারা সুখী এবং তুষ্ট। মূলত তারা আদৌ সুখী না। কিছু গরিব নারী আছে যারা জীর্ণ-শীর্ণ কুঁড়ে ঘরে বাস করে তাঁরা তাদের চেয়ে উত্তম এবং সুখী, যারা পালঙ্কের খাটে ঘুরায়, রেশমী বস্ত্র পরিধান করে, কারুকার্য করা সুউচ্চ দালানে বসবাস করে। কেননা, গরিব নারী যিনি মহান প্রশংসিত আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং তাঁর ইবাদত করে। সে তার চেয়ে উত্তম যে আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ হয়ে ধ্বংসের পথে চলে গিয়েছে।
সুখ তোমার মধ্যে নিহিত রয়েছে তোমার
উচিত তোমার মধ্যে তোমার সুপ্ত চেষ্টাকে
আলোকিত কর।
হে নবী! জেনে রেখো, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই। (সূরা মুহাম্মদ : আয়াত ১৯)
৩. আল্লাহর পথই সর্বশ্রেষ্ঠ পথ
সুখ কী? টাকা-পয়সা, সামাজিক পদ মর্যাদা, বংশ এইগুলোর মধ্যে কি সুখ পাওয়া যেতে পারে? এর অনেক উত্তর আছে, চলুন আমরা এই নারীর সুখের দিকে খেয়াল করি।
একজন লোক তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত ছিল এবং বলছিল: আমি তোমার জীবনকে অসহ্য করে তুলতে যাচ্ছি। স্ত্রী শান্তভাবে উত্তর দিল। তুমি এটা করতে পার না। সে বলল, কেন পারি না?, স্ত্রী বলল, যদি সম্পদ এবং স্বর্ণালংকারের মধ্যে শান্তি খুঁজে পাওয়া যেত, তাহলে তুমি তা থেকে আমাকে বঞ্চিত করতে এবং আমার কাছ থেকে তা সারিয়ে নিতে। কিন্তু এটা সুখ নয়, যার ওপর তোমার এবং অন্য কারো নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমি শান্তি খুঁজে পাই আমার বিশ্বাসের মধ্যে এবং আমার বিশ্বাস আমার মনের মধ্যে এবং একমাত্র আল্লাহ ছাড়া এর ওপর কারো কোনো ক্ষমতা নেই। এটা হচ্ছে সত্যিকারের সুখ, সুখ হচ্ছে বিশ্বাস, স্বয়ং ব্যক্তি ছাড়া কেউ এই সুখ অনুভব করতে পারে না। যার মন এবং আত্মা আল্লাহর ভালবাসায় পূর্ণ হয়। সেই সত্ত্বা যার সুখের ওপর সত্যিকারের নিয়ন্ত্রণ আছে, সেই সত্ত্বা হচ্ছে মহান রাব্বুল আলামিন। তাই তাঁর ইবাদত এবং আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর কাছে সুখ প্রার্থনা করা। সুখ অনুসন্ধানের একমাত্র রাস্তা হলো সত্যধর্ম গ্রহণ করা, যা মহান আল্লাহ তায়ালা তার শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। যদি কেউ এই পথকে খুঁজে পায়। যদি সে কুঁড়ে ঘরে, রাস্তার পার্শ্বে ঘুমায় এটা তার জন্য কোনো ব্যাপারই হবে না এবং সে এক টুকরো রুটি খেয়েই সন্তুষ্ট থাকবে। সেই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। কিন্তু যেই ব্যক্তি আল্লাহর পথ থেকে বিমুখ হয়ে গেল, তার সমস্ত জীবন দুঃখে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাবে। তার সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে। তার চেষ্টা ব্যর্থতায় পরিণত হবে এবং তাঁর জীবন শেষ হবে লজ্জা এবং অবমাননায়।
আমাদের টাকার প্রয়োজন যাতে আমরা জীবন
যাপন করতে পারি এর অর্থ এই নয় যে, আমরা
টাকার করুণায় বেঁচে আছি।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা এবং কল্যাণ ভিক্ষা চাচ্ছি
৪. যখন কোনো কিছু বহন করা কঠিন হয়, তখন আল্লাহর মুখাপেক্ষী হও
ইবনে আল-জাওযী বলেছিলেন কিছু কিছু জিনিস আমার জন্য প্রচণ্ড দুঃখ এবং হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমি গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করেছিলাম যে, কোন উপায়ে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু আমি কোনো রাস্তা খুঁজে পাইনি। অতঃপর কুরআনের এই আয়াতটি আমার দৃষ্টিতে পড়ল অতপর যখন তারা তাদের (ইদ্দতের) সেই নির্ধারিত সময়ে (শেষে) উপনীত হয়, তখন তাদের হয় সম্মানজনক পন্থায় (বিয়ে বন্ধনে) রেখে দেবে, না হয় সম্মানের সাথে তাদের আলাদা করে দেবে (উভয় অবস্থায়ই) তোমাদের মধ্যে থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ লোককে তোমার সাক্ষী বানিয়ে রাখবে। (সাক্ষীদেরও বলো), তোমরা শুধু আল্লাহর জন্যেই (এ) সাক্ষ্য দান করবে; যারা আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচার দিনের ওপর ঈমান আনে, তাদের সবাইকে এর দ্বারা উপদেশ দেয়া হচ্ছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্যে (সংকট থেকে বের হয়ে আসার) একটা পথ তৈরি করে দেন। (সূরা ত্বালাক : আয়াত ২)
উল্লেখ্য যে, জ্ঞানী মানুষদের জন্য তাকওয়া এমন একটি উপায় যা সবকিছুকে উত্তমরূপে পরিণত করে। যেমন বিপদ শুধু মানুষের পাপের প্রতিফল হিসেবে আসে। এটা শুধুমাত্র মানুষের অনুশোচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। দুঃখ, কষ্ট এবং বেদনা সবকিছু আমাদের দ্বারা সংঘটিত পাপের শাস্তি। যেমন ইবাদত বন্দেগী কম করা, কোনো মুসলমানের গীবত করা, পর্দাকে অবহেলা করা, অথবা হারাম কাজ করা । যেই ব্যক্তিই আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে চলে, সর্বময় ক্ষমতাধর আল্লাহতায়ালা নাফরমানির প্রতিফল দিয়েছেন। সেই একক সত্তা যিনি শান্তি সৃর্ষ্টি করেন তিনিই সবচাইতে উদার, সবচাইতে দয়ালু। তাই কীভাবে আপনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সুখ চাইতে পারেন? যদি মানুষের সুখের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকত তাহলে পৃথিবীতে কোনো দুঃখী এবং বঞ্চিত মানুষ সুখী হতে বাকি থাকত না।
সব ধরনের নিরুৎসাহিত চিন্তাগুলোকে ছুঁড়ে ফেলে দাও যা তোমাকে অসহায় করে ফেলে এবং সফলতার প্রতি মনোনিবেশ কর, তাহলে তুমি কখনো ব্যর্থ হবে না।
আমি তাই চিন্তা করি যা আমার বান্দা চিন্তা করে
৫. প্রতিদিন নতুনভাবে শুরু কর
মহান প্রশংসিত আল্লাহর কাছ থেকে দূরে থাকা শুধুমাত্র অশুভ ফলই বহন করা। বুদ্ধিমত্তার উপহার, সৌন্দর্য এবং জ্ঞান সবকিছুই বিপদের দিকে ধাবিত হবে এবং হারিয়ে যাবে যদি তারা আল্লাহর নির্দেশনা থেকে দূরে থাকে এবং তারা আল্লাহর আশির্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়। অতএব, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তার কাছ থেকে দূরে থাকার পরিণাম সম্পর্কে সচেতন করেছেন।
যদি আপনি রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটতে থাকেন এবং একটি গাড়ি আপনার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে এবং আপনি অনুভব করতে পারছেন যে, গাড়িটি আপনাকে আঘাত করে মেরে ফেলবে। আপনার দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তেমনিভাবে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া বান্দাদেরকে এই জাতীয় ধ্বংসাত্মক ঘটনার সম্মুখীন করে সচেতন করে দিতে চান। তাই আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তারা একমাত্র আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা খুঁজে পায় অতএব, তোমরা (এ সবের আসল স্রষ্টা) আল্লাহ তায়ালার দিকেই ধাবিত হও; আমি তো তাঁর পক্ষ থেকে (আগত) তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট সতর্ককারীমাত্র। তোমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য কাউকে মাবুদ বানিয়ে নিয়ো না; আমি তো তোমাদের জন্যে তাঁর (পক্ষ) থেকে একজন সুস্পষ্ট সাবধানকারী মাত্র। (সূরা জারিয়াত : আয়াত ৫০-৫১)
আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হলে একজন ব্যক্তিকে নতুনভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। তার জীবনকে পুন:সংগঠিত করা প্রয়োজন, তাঁর এবং তাঁর স্রষ্টার মধ্যে সম্পর্ককে আরো উন্নত করা এবং আরো ভালো কাজ সম্পাদন করা, এটা একটি নতুন চুক্তি শুরু করা যা নতুনভাবে তার জীবনে যোগ হবে নিম্নলিখিত দোয়ার মাধ্যমে:
আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতাতু আবুউ লাকা বি নিমাতিকা আলাইয়া ওয়া আবুুউ লাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।
অর্থ : (হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রভু এবং আপনি ছাড়া প্রথিবীতে আর কোনো স্রষ্টা নেই। আপনি আমায় সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সর্বাত্তক বিশ্বাস এবং আস্থা আপনার ওপর রাখার চেষ্টা করি এবং আপনি আপনার ওয়াদাকে ভঙ্গ করেন না। আমি আপনার কাছে আমার সকল পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আমার পাপ এবং আমার ওপর আপনার রহমতকে স্বীকার করছি। তাই আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। কেননা, আপনি ছাড়া ক্ষমা করার কেউ নেই। (সূরা দাউদ : হাদীস-৫০৭২)
যদি তুমি তোমার কাজে ব্যর্থ হও,
তোমার হতাশ হওয়া উচিত হবে না,
দুঃখিত হয়ো না এবং উপায় খুঁজে
পাওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ো না।
তোমার হাসি তোমার বোনের নিকট বদান্যতা
৬. নারীরা হলো আকাশের তারকার মতো
একজন সঠিক আদর্শ মুসলমান নারী এমন হবেন যিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর হুকুম মান্য করবেন। অতঃপর তিনি তাঁর স্বামীর সাথে উত্তম আচরণ করেন এবং তার কথা মান্য করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই জাতীয় নারীর ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে তাদেরকে আদর্শ স্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, সকলের এই জাতীয় নারী প্রত্যাশা করা উচিত। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কোন নারী শ্রেষ্ঠ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সেই নারী সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যে নারী তার স্বামীকে সুখী রাখে। যখন সে তার দিকে চায় (শারীরিক চাওয়া), যে তার স্বামীর কথা মান্য করে, এবং যে তার স্বামীর কোনো কিছু অপচয় করে না এবং তার সম্পদ অপছন্দ এবং বিরোধিতা করে না। মহান প্রশংসিত আল্লাহ তায়ালা নিম্নলিখিত আয়াতটি নাযিল করেন।
হে ঈমানদার লোকেরা! অবশ্যই (আহলে কিতাবদের) বহু পণ্ডিত ও ফকির-দরবেশ এমন আছে, যারা অন্যায়ভাবে সাধারণ মানুষের ধন-সম্পদ ভোগ করে। এরা (আল্লাহর বান্দাদের) আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে; (এদের মাঝে) যারা সোনা-রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে এবং (কখনো) তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তুমি তাদের কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও। (সূরা তওবা : আয়াত-৩৪)
সেই নারী যে তার স্বামীকে সুখী রাখে যখন তার স্বামী তার দিকে তাকায়, তাঁর স্বামী যখন যা কিছু বলে তা সে মান্য করে, এবং সে তাঁর স্বামীর কোনো কথায় বিরোধিতা করে না এবং সে এমন কোনো কাজ করে না যা সে তার ব্যাপারে অপছন্দ করে অথবা তার সম্পরে ব্যাপারেও। একবার উমর (রা) হাঁটছিলেন এবং তাওয়ান (রা) তাঁকে অনুসরণ করছিল। উমর (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই পংক্তি আপনার সাথিদেরকে দুঃখিত করেছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছুর কথা বলবো না, যা মানুষের সম্পদ? একজন নেক নারী যিনি তাঁর স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখে যখন তাঁর স্বামী তাঁর দিকে তাকায়, যখন তাঁর স্বামী তাঁকে যা বলে সে সব কিছু মেনে নেয় এবং যদি তাঁর স্বামী তাঁর কাছ থেকে দূরে কোথাও যায় সে বিশ্বস্ত হয় (অর্থাৎ নিজের হেফাজত করে)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো নারীর বেহেশতে যাওয়ার সম্পূর্ণ নির্ভর করে তাঁর স্বামীর সন্তুষ্টির ওপর অর্থাৎ স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশতে। উম্মে সালামা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : যখন কোনো নারী মৃত্যুবরণ করে এবং তার স্বামী তাঁর ওপর সন্তুষ্ট থাকে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। তাই এই রকম নারীদের অনুসরণ করলে সুখী হতে পারবে।
প্রথম সারিতে তোমার জন্য একটি ঘর আছে
যা দেয়া হবে তোমার সবচাইতে শ্রেষ্ঠ নিপুণ সকল
কার্যকলাপের জন্য।
বেঁচে থাকতেই সুখী হও
৭. হারাম কাজ করা থেকে মৃত্যু অনেক শ্রেয়
হাদীস অনুসারে যা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত তিনজন ব্যক্তির ব্যাপারে যারা সারারাত একটি পর্বত গুহায় অবস্থান করেছিল, অতঃপর পর্বত থেকে একটি পাথর গুহার মুখে এসে পড়লো এবং গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তাই তারা মহান আল্লাহর কাছে তাদের পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনা করতে লাগল এবং তাদের ভালো কাজের কথা স্মরণ করতে লাগল। তাদের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি বলতে লাগল: ‘হে আল্লাহ! আমার একটি চাচাত বোন ছিল সে সব মানুষের চাইতে আমাকে বেশি ভালোবাসতো। অন্য একটি বর্ণনায় আছে, অন্য যে কোনো মানুশের চেয়ে আমি তার ভালবাসায় সবচাইতে বেশি আসক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি তার কাছে কুপ্রস্তাব নিয়ে হাজির হলাম সে আমার কুপ্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করল, এক বছরের মধ্যে সে নিঃস্ব এবং গরীব হয়ে গেল। তাই সে আমার কাছে আসল এবং আমি তাকে একশত বিশ দিনার দিলাম এই শর্তে যে, সে আমার কুপ্রস্তাবে রাজি হয়ে আমার সাথে যিনায় লিপ্ত হবে। কিন্তু যখন আমি তার চার জানুর ওপর বসলাম, সাথে সাথে সে আমাকে বলল, আল্লাহকে ভয় কর এবং বেআইনীভাবে আমার সাথে যিনা কর না। এই মেয়েটি ধার্মিক ছিল এবং প্রাথমিকভাবে তার সাথে অপকর্ম করতে দেয়নি, কিন্তু যখন সে নিদারুণ প্রয়োজন, দারিদ্রতার কারণে, তাঁর কোনো উপায় ছিল না, কিন্তু সে সমগ্র ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহকে স্মরণে রেখেছে, এবং তাকে বলেছিল আল্লাহকে ভয় করতে। মনের মধ্যে এই শক্তিশালী বিশ্বাসের অনুভূতি তাকে মনে করিয়ে দিয়েছিল। যে যদি সেই লোক তাকে চায় তাহলে তাকে সঠিক পদ্ধতিতে বিয়ে করা উচিত অন্যথায় যিনা সংঘটিত হবে। এই কথাই তাকে নিরুৎসাহিত করে এবং দয়াময় আল্লাহ তায়ালার কাছে অনুশোচনা প্রার্থনা করে এবং সেটাই ছিল কারণ যা সেই দিন পাথরের টুকরাটিকে গুহার বন্ধ মুখ থেকে সরে গিয়েছিল।
কীভাবে ভয়ের সাথে সহাবস্থান করতে হয় তা শেখো
এবং এটা ভয়কে অদৃশ্য করে দিবে।
তোমার জীবন হচ্ছে তোমার চিন্তার ফল
৮. উৎসাহমূলক বাণী
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন
বিত্তশালী ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী (স্ত্রীদের) খোরপোষ দেবে; আবার যে ব্যক্তির অর্থনৈতিক সংগতি সীমিত করে রাখা হয়েছে সে ব্যক্তি ততোটুকু পরিমাণই খোরপোষ আদায় করবে যতটুকু আল্লাহ তায়ালা তাকে দান করেছেন; আল্লাহ তায়ালা যাকে যে পরিমাণ সামর্থ্য দান করেছেন তার বাইরে কখনো (কোনো) বোঝা তার ওপর তিনি চাপান না। (আল্লাহর ওপর নির্ভর করলে) আল্লাহ তায়ালা (তাকে) অচিরেই অভাব-অনটনের পর স্বচ্ছলতা দান করবেন। (সূরা ত্বলাক : আয়াত ৭)
হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, (ধৈর্য্যরে এ কাজে) একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা কর, (শত্রুর মোকাবেলায়) সুদৃঢ় থেকো, একমাত্র আল্লাহকেরই ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হতে পারবে। (সূরা আলে ইমরান : আয়াত ২০০)
আমি অবশ্যই (ঈমানের দাবিতে) তোমাদের পরীক্ষা করব, (কখনো) ভয়-ভীতি, (কখনো) ক্ষুধা-অনাহার, (কখানো বা) তোমাদের জান মাল ও ফসলাদির ক্ষতি সাধন করে (তোমাদের পরীক্ষা করা হবে যারা ধৈর্যের সাথে এমন মোকাবেলা করে); তুমি (সে) ধৈর্যশীলদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দান কর।
যখন তাদের ওপর (কোনো) পরীক্ষা এসে হাযির হয় তখন তারা বলে, আমরা তো আল্লাহর জন্যেই, আমাদের তো (একদিন) আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। (সূরা বাকারা : আয়াত ১৫৫-১৫৬)
অর্থ : তিনিই (আল্লাহ তায়ালা) তারা যখন (বৃষ্টির ব্যাপারে) নিরাশ হয়ে পড়ে তখন তিনি বৃষ্টি প্রেরণ করেন এবং (এভাবেই) যমীনে তিনি তাঁর রহমত বিস্তৃত করে দেন; (মূলত) তিনিই অভিভাবক, (তিনিই) প্রশংসিত। (সূরা আশ শুরা : আয়াত ২৮)
(হে নবী! এদের) বলে দাও, হে আমার বান্দারা যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের মালিককে ভয় কর, যারা এ দুনিয়ায় কোনো কল্যাণকর কাজ করবে তাদের জস্যে রয়েকছে (পরকালেও) মহাকল্যাণ (থাকবে), আল্লাহ তায়ালার যমীন অনেক প্রশস্ত; (উপরন্তু) ধৈর্যশীলদের পরকালে অপরিমিত পুরস্কার দেয়া হবে। (সূরা যুমার : আয়াত ১০)
আর যখন (স্মরণ কর) যুন্নুন (এর কথা), যখন সে রাগ করে নিজের লোকজনদের ছেড়ে বের হয়ে গিয়েছিল, সে মনে করেছিল আমি (বুঝি) তাকে ধরতে পারব না। (অতঃপর আমি যখন তাকে সত্যি সত্যিই ধরে ফেললাম), তখন সে (মাছের পেটের) অন্ধকারে বসে আমাকে (এই বলে) ডাকল, হে আল্লাহ তায়ালা! তুমি ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, তুমি পবিত্র, তুমি মহান, অবশ্যই আমি সীমালংঘনকারিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছি। (সূরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৭)
কুরআন আপনাকে সুখ, শান্তি এবং নিশ্চয়তার দিকে আহ্বান করে এবং আপনার প্রভুর ওপর আস্থা সৃষ্টি করার জন্য ডাকে। আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে নিদারুণ যন্ত্রণা দেয়ার জন্য সৃষ্টি করেননি; বরং তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পরীক্ষা করার জন্য । পরিশুদ্ধ করার জন্য এবং শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য। আল্লাহ তায়ালা একজন ব্যক্তির কাছে তার বাবা মায়ের চেয়ে বেশি সাহায্যপ্রবণ এবং দয়ালু। তাই সকল আরাম এবং শান্তি তাঁর কাছ থেকে আসে। আল্লাহই হতে পারেন প্রশংসনীয় এবং গৌরবোজ্জ্বলময়। তাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন, আর কুরআন পাঠ করুন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অনুসরণ করুন।
সবচাইতে খারাপটির জন্য প্রস্তুত হও
তাহলে কোনটি ভালো তা অনুভব করতে পারবে।
এটাই একজন নারীর জন্য যথেষ্ট সম্মান যে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মা এক জন নারী ছিলেন
৯.জ্ঞান হলো সর্বাত্মক দয়ালু যা দুঃখকে দূর করে
সর্বাত্মক দয়ালু আল্লাহ তায়ালার জ্ঞান লোভকে দূর করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা সবচাইতে বেশি উদার এবং দয়ালু। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাদের চাওর্য়া তুলনায় অনেক বেশি দিয়ে থাকেন এমনকি চাওয়ার পূর্বেও দেন। তিনি তাঁর বান্দাদের অনেক ছোট ছোট আমলগুলোকে অনেক বেশি করে আমলনামায় লিপিবদ্ধ করেন। তিনি ক্ষমা করেন এবং তাঁর বান্দাদের অসংখ্য পাপ মোচন করে দেন।
এই আকাশমণ্ডলী ও ভূমণ্ডলের যতো কিছু রয়েছে সবাই নিজ নিজ প্রয়োজন তাঁর কাছেই চায়। (আর) তিনি প্রতিদিন (প্রতিমুহূর্ত) কোনো না কোনো কাজে তৎপর রয়েছেন। (সূরা আর রাহমান : আয়াত ৮৭)
আল্লাহ তায়ালা অমনোযোগী নন, তিনি কখনো ক্লান্ত হন না। তিনি তাঁদেরকে ভালবাসেন যারা তার কাছে চাওয়ার ব্যাপারে নাছরবান্দা এবং তিনি তাঁর কাছে চাওয়াকে বেশি পছন্দ করেন। তিনি তার বান্দাদের প্রতি অনেক দয়ালু হন যখন তাঁর বান্দারা নিজেদের প্রতি দয়ালু হয়। তিনি তার বান্দাদেরকে নিরাপদ রাখেন যখন তাঁর বান্দারা নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে না পারে। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে দয়া দেখান যখন তাঁর বান্দারা নিজেদের প্রতি দয়া দেখায় না। কিভাবে হৃদয় আল্লাহকে ভালবাসতে পারে না। যখন আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তাদেরকে ভালো কাজের জন্য দিক নির্দেশনা দেয় না।
যখন আল্লাহ ছাড়া তাদের খারাপ কাজকে কেউ ক্ষমা করে না, যখন কেউ তাদেরকে প্রার্থনার উত্তর দেয় না, তাদের পাপকে ক্ষমা করে না, তাদের ভুল-ভ্রান্তিগুলোকে গোপন করে না, তাদের হতাশাকে দূরীভূত করে না, যখন নিদারুণ হতাশায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সাহায্য আসে না এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তাদের প্রতি দয়া এবং উদারতা দেখায় না? মহান প্রশংসিত আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি অবশ্যই দয়ালু, যারা তার কাছে দয়া প্রার্থনা করে তিনি তাদের প্রতি সবচাইতে উদার যারা তার কাছে উদারতা চায়। তিনি তাদের ওপর সবচাইতে বেশি ক্ষমতাধর যারা তার মুখাপেক্ষী হয়, তিনি তাদের সবচাইতে বেশি রক্ষণাবেক্ষণ করেন যারা তার প্রতি আস্থা রাখে। একজন মা তার সন্তানের প্রতি যতটুকু দয়াপ্রবণ আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের প্রতি তার চেয়ে বেশি দয়াপ্রবণ। যখন কোনো ব্যক্তির একমাত্র সম্বল তার একটি উট যেটি সে মাঠে চড়াতে গিয়ে খালি ময়দানে হারিয়ে যায়। যখন এই ব্যক্তি তার উটকে না পেয়ে মারা গেছে মনে করে তীব্র হতাশ হন। অতঃপর সেটি পাওয়ার পর যতটুকু খুশী হন; যখন কোনো বান্দা আল্লাহর নিকট অনুশোচনা ব্যক্ত করে তখন আল্লাহ তায়ালা তার চেয়ে বেশি আনন্দিত হন।
তোমার সিদ্ধান্তকে সুখ অর্জন করার চেষ্টা করতে দাও এবং এটার মধ্যেই সুখের অভিজ্ঞতা নিহিত
(একইভাবে) আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্যে ফেরাউনের স্ত্রীকে (অনকুরণযোগ্য) এক উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন, (সে প্রার্থনা করেছিল) হে মালিক! জান্নাতে তোমার পাশে তুমি আমার জন্যে একখানা ঘর বানিয়ে দিয়ো, আর (দুনিয়ার এ ঘরেও) তুমি আমাকে ফেরাউন ও তার (যাবতীয়) কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচিয়ে রেখো, তুমি আমাকে উদ্ধার কর এ যালেম সম্প্রদায় (এর যাবতীয় অনাচার) থেকে। (সূরা তাহরীম : আয়াত ১১)
১০. একটি রহমতের দিন
চেষ্টা কর, যখন ফজরের নামায আদায় কর, নতজানু হয়ে কিবলার দিকে ফিরে দশ বা পনের মিনিট প্রার্থনা কর এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। আল্লাহর কাছে একটি ভালো দিন প্রত্যাশা কর, একটি সুখের দিন, একটি সফলতার দিন। এমন একটি দিন যেখানে কোনো দুর্যোগ, স্বল্পতা অথবা কোনোরূপ সমস্যা থাকবে না, যেই দিনটি উত্তম, কল্যাণে এবং যথার্থভাবে পরিপূর্ণ হয়। যেই দিনটিতে কোনো দুঃখ ক্লান্তি এবং হতাশা থাকবে না। কেননা, কেউ একজন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে পারেন তাহলে নিশ্চিত আল্লাহর রহমাতে আপনাকে একটি ভালো,কল্যাণময়, স্বার্থক একটি দিনের জন্য প্রস্তুত করুন। যদি আপনার কোনো কাজ থাকে তাহলে অল্প সময়ের জন্য বসুন। এটা উপদেশ যে, টেপ রেকর্ডার অথবা রেডিও থেকে সুমধুর কিছু বাণী শুনলেন এবং সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করলেন। যখন আপনি এমন বাণী শুনেন, তখন আপনার মনের মধ্যে যত ধরনের হতাশা এবং সন্দেহ আছে সব ধুয়ে বিদূরীত হয়ে যাবে। এবং আপনাকে আগের চেয়ে বেশি প্রফুল্ল করে তুলবে।
এমন কোনো ব্যাপারে উদ্ধিগ্ন হবেন না, যা আপনি সম্পাদন করতে পারেন না; বরং উন্নতির জন্য সময় ব্যয় করুন যা আপনি উন্নতি করতে পারেন।
