প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৬, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৭ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

আল্লামা ইমাম নববী (রা) বলেন : হিংসা অর্থ হলো, কোন ব্যক্তিকে যে অনুগ্রহ দান করা হয়েছে তা ধ্বংস কামনা করা। তা দুনিয়ার অনুগ্রহ হতে পারে কিংবা দ্বীনের অনুগ্রহ হতে পারে। মহান আল্লাহ্র বাণী : তবে কি তারা অন্যান্য মানবদের প্রতি শুধু এ জন্যই হিংসা পোষণ করে, আল্লাহ্ তাদেরকে বিশেষ অনুগ্রহ প্রদান করেছেন। (সূরা নিসা : ৫৪) (রিয়াদুস সালেহীন)

হিংসা-বিদ্বেষ অসচ্চরিত্রের দোষ এবং মানবতার জন্য একটি মারাত্মক ক্ষতিকর বিষয়। হীন মানসিকতা, সম্পদের মোহ, পদমর্যাদার লোভ থেকেই হিংসা বিদ্বেষের জন্ম হয়। হিংসুটে ব্যক্তি কাউকে কোনো নিয়ামতে অভিসিক্ত দেখলে অন্তরে জ্বালা অনুভব করে। অন্যের সুখ-শান্তি, সম্পদ বিন করে নিজে এর মালিক হওয়ার কামনা ও বাসনা করাকে হিংসা বলা হয়। ইসলামী শরীয়াতে এ ধরনের হিংসা হারাম। ব্যক্তির চরিত্র গঠনে হিংসা-বিদ্বেষ বিরাট প্রতিবন্ধকতা সৃি করে। এতে মানুষে মানুষে ঝগড়া-বিবাদ সৃি হয়। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ন হয় এবং বিপর্যয় দেখা দেয়।

হিংসার কারণ বহুবিদ। যেমন : শত্র“তা, অহংকার, পরশ্রীকাতরতা, নিজের অসদুদ্দেশ্য ন হওয়ার আশংকা, নেতৃত্বের লোভ, অনুগত লোকদের যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে যাওয়া এবং কোন সুযোগ-সুবিধা হাসিল হওয়া, ব্যক্তি বা গোীর নীচুতা বা কার্পণ্য ইত্যাদি। এ সকল কারণে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির প্রতি হিংসা করে থাকে।

হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা হিংসা হতে দূরে থেক। কেননা হিংসা মানবের উত্তম গুণসমূহকে এমনিভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যেমনিভাবে আগুন শুকনা কাঠ জ্বালিযে ফেলে। অথবা তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাঠের বদলে শুকনো ঘাসের কথা বলেছিলেন। (আবূ দাউদ)

কোনো কিছু নিয়ে হিংসা করতে নেই। জীবন তো আল্লাহ্র দান। শারীরিক সৌন্দর্য, চারিত্রিক মাধুর্য, ধন-সম্পদ, ইজ্জত-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি সব কিছুই মহান আল্লাহ্র দেয়া নিয়ামত। এ জন্য আল্লাহ্র শুকরিয়া আদায় করতে হবে।নিজের যা কিছু আছে তা নিয়েই খুশী থাকতে হবে।অপরের দিকে তাকিয়ে হিংসার আগুনে জ্বলে-পুড়ে লাভ কি?

আল কুরআনুল কারীমে যেসব বস্তু থেকে মহান আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করার তাকিদ রয়েছে, তন্মধ্যে হিংসা একটি। ইরশাদ হয়েছে : এবং (আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি) অনি থেকে হিংসুকের যখন সে হিংসা করে। (সূরা আল ফালাক : ০৫)

সংঘাতপূর্ণ জীবনে অনেক মানুষ আমাদেরকে ক দেন, হক্ব ন করেন, ক্ষতি করেন বা শত্রতা করেন। অনেকে অকারণেও এগুলি করেন। এদের প্রতি বিদ্বেষ ও শত্রতা থেকে হৃদয়কে কিভাবে বিরত রাখবে? আসলে বিষয়টি কঠিন বলেই তো সাওয়াব বেশি। তবে চো করলে তা কঠিন থাকে না। মানবীয় স্বভাবের কারণে আমাদের মনে বিশেষ মুহূর্তে ক্রোধ, ক বা বিরক্তি আসবেই। তবে মনটা একটু শান্ত হলেই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মনের মধ্য থেকে এই অনুভূতি দূর করার চো করতে হবে। আল্লাহর কাছে নিজের জন্য ও যার কর্মে বা ব্যবহারে আমরা ক পেয়েছি তার জন্য ইস্তিগফার করতে হবে ও দুআ করতে হবে।

প্রয়োজনে নিজের হক্ক রক্ষার জন্য চো করতে হবে। তবে অধিকার আদায়ের চো বা কর্ম আর মনের হিংসা ও শত্র“তা এক নয়। এক ব্যক্তি আমার অধিকার ন করেছেন, আমি তার নিকট থেকে আমার অধিকার আদায়ের চো করছি। কিন্তু তার সাথে আমার কোনো শত্র“তা নেই। আমি আমার অধিকার ফেরত পাওয়া ছাড়া তার কোনো প্রকার অমঙ্গল কামনা করি না। বরং আমি সর্বদা তার জন্য দুআ করি।