প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৭, রমজান-শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
১২. আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের অনুসরণ কর। কিন্তু এই আনুগত্য ও অনুসরণ হইতে যদি তোমরা মুখ ফিরাইয়া লও, তাহা হইলে সুস্পষ্ট সত্য পৌঁছাইয়া দেওয়া ছাড়া আমাদের রাসূলের ওপর অন্য কোন দায়িত্ব নাই।
১৩. আল্লাহ্ তো তিনিই যিনি ছাড়া কেহই খোদা নয়। অতএব ঈমানদার লোকদের কর্তব্য একমাত্র আল্লাহরই উপর ভরসা রাখা১।
১৪. হে ঈমানদার লোকেরা, তোমাদের স্ত্রীগণ ও তোমাদের সন্তান-সন্তুতিদের মধ্যে কতিপয় তোমাদের শত্রু। তাহাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকিবে। আর তোমরা যদি ক্ষমা ও সহনশীলতার ব্যবহার কর ও ক্ষমা করিয়া দাও, তাহা হইলে আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল ও নিরতিশয় দয়াবান২।
১৫. তোমাদের ধন মাল ও তোমাদের সন্তান-সন্তুতি তো একটা পরীক্ষা বিশেষ। আর আল্লাহই এমন সত্তা, যাঁহার নিকট বড় প্রতিফল রহিয়াছে।
১৬. কাজেই তোমাদের মধ্যে যতটা সম্ভব হয় আল্লাহকে ভয় করিতে থাক। আর শুন ও অনুসরণ কর এবং নিজের ধন-মাল ব্যয় কর, ইহা তোমাদের জন্যই কল্যাণকর। যে লোক স্বীয় মনের সংকীর্ণতা হইতে রক্ষা পাইয়া গেল, শুধু সে-ই কল্যাণ ও সাফল্য-প্রাপ্ত হইবে।
১৭. তোমরা যদি আল্লাহকে র্কযে হাসানা দাও, তবে তিনিই তোমাদিগকে কয়েক গুণ বৃদ্ধি করিয়া দিবেন। এবং তোমাদের অপরাধসমূহ মা’ফ করিয়া দিবেন। আল্লাহ্ বড়ই মূল্য দানকারী ও অতীব ধৈর্যশীল।
১৮. উপস্থিত ও অদৃশ্য সব কিছুই তিনি জানেন, তিনি বড়ই প্রবল-পরাক্রন্ত-সর্বজয়ী, মহাবিজ্ঞানী।
টিকাঃ
১ অর্থাৎ ‘খোদায়ী’র সমস্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালারই হাতে। তোমরা ভাগ্যকে সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য বানাবার আদৌ কোন ক্ষমতা অন্য কারুর নেই। সুসময় আসতে পারে, তিনিই যদি তা নিয়ে আসেন, দুঃসময় কাটতে পারে, তিনিই যদি তা কাটিয়ে দেন। সুতরাং অকপট অন্তরে যে-ব্যক্তি আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য প্রভু বলে মান্য করে, তার জন্যে এ ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই যে, সে আল্লাহর উপর নির্ভর করে পৃথিবীতে একজন মু’মিনের ন্যায় এই দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে নিজের কর্তব্য সম্পন্ন করে যাবে যে- সর্বাবস্থায় কল্যাণ মাত্র সেই পথেই আছে যে পথ আল্লাহ তায়ালা প্রদর্শন করেছেন।
২ অর্থাৎ পার্থিব সম্বন্ধের দিক দিয়ে যদিও এরা তারাই যারা মানুষের কাছে প্রিয়তম, কিন্তু ধৈর্যের দিক দিয়ে এরা তোমাদের ‘শত্রু’। এ শত্রুতা এ হিসেবে হতে পারে যে তারা তোমাদেরকে সৎ ও পূণ্য কাজে বাধা দেয়, ও অসৎকাজের দিকে আকৃষ্ট করে, বা এ হিসেবে হতে পারে যে- তারা তোমাদের ঈমান থেকে রোধ করে ও কুফরীর দিকে আকর্ষণ করে, বা এই হিসেবে হতে পারে যে- তাদের সহানুভূতি কাফেরদের প্রতি থাকে। যাই হোক- এসব এমন ব্যাপার যার প্রতি তোমাদের সতর্ক থাকা আবশ্যক। এবং এদের ভালোবাসায় আবদ্ধ হয়ে নিজের পরিণাম বিনষ্ট করা উচিত নয়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে- তোমরা তাদেরকে শত্রু জ্ঞান করে তাদের সঙ্গে কঠোর ব্যবহার করতে থাকবে, বরং এর মর্ম মাত্র এই যে- যদি তাদের সংশোধন করতে না পারো তবে অন্ততঃপক্ষে নিজেদেরকে ভ্রষ্টতা থেকে বাঁচিয়ে রাখো।
