প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ- ৭ম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৭, সফর-রবি আউঃ ১৪৩৯ হিজরী,অগ্রহায়ন-পৌষ ১৪২৪বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

কুরআন কারীমে মুমিনগণকে বারবার তাওবা ও ইস্তিগফার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাওবা ও ইস্তিগফারের জন্য ক্ষমা, পুরস্কার ও মর্যাদা ছাড়াও জাগতিক উন্নতি ও বরকতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। অনুরূপভাবে বিভিন্ন হাদীসে ইস্তিগফারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইস্তিগফার আল্লাহর অন্যতম যিক্র। যিকরের সাধারণ ফযীলাত ইস্তিগফারকারী লাভ করবেন। এ ছাড়াও ইস্তিগফারের অতিরিক্ত মর্যাদা ও সাওয়াব রয়েছে। তাওবা ও ইস্তিগফারের ফযীলাত ও নির্দেশনা বিষয়ক কিছু হাদীস এখানে উল্লেখ করছি।

১. বান্দা তাওবা করলে আল্লাহ সীমাহীন খুশি হন

১.১ আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বান্দা আল্লাহর নিকট তাওবা করলে (পাপ থেকে ফিরে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করলে) আল্লাহ সামাহীন খুশি হন। তার খুিশর তুলনা, এক ব্যক্তি জনমানবশূন্য মরুভূমিতে থেমেছে। তার সাথে তার বাহন, যার পিঠে তার খাদ্য ও পানীয় রয়েছে। সে একটু বিশ্রাম করতে যেয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছে। ঘুম থেকে উঠে দেখে যে, তার বাহন হারিয়ে গিয়েছে। মরুভূমির প্রচন্ড রোদ ও পিপাসায় সে ক্লান্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুকে মেনে নিয়ে একসময় অবসাদে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে সে দেখতে পায় যে তার উট তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে সে এতই খুশি হয় যে, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার দাস, আমি আপনার প্রভু।’ আনন্দের আভিশয্যে সে ভুল করে ফেলে। উট ফিরে আসাতে এ ব্যক্তি যত আনন্দিত হয়েছে কোনো পাপী বান্দা পাপ থেকে ফিরে আসলে বা তাওবা করলে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। (বুখারী (৮৩-কিতাবুল দাআওয়াত, ৪-বাবুত তাওবা) ৫/২৩২৪ (ভারতীয়: ২/৯৩৩); মুসলিম (৪৯-কিতাব তাওবা, ১-বাবুল হাদ্দি আলাত তাওবা) ৪/২১০৪ (ভারতয়ি: ২/৩৫৪)

সুব’হা-নাল্লাহ! কত ভালোবাসেন আল্লাহ তার পাপী বান্দাকে!! এ সুযোগ শুধু পাপীদের জন্যই। আমাদের কি আগ্রহ হয় না যে মহান প্রভুকে এভাবে আনন্দিত করবো!

১.২ হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, আমি আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী আছি। (বান্দা আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা করবে আমি তার সাথে তেমন আচরণ করবো) আমি আমার বান্দার সাথে আছি- সে আমাকে যেখানেই স্মরণ করুক। (অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন) আল্লাহর কসম! নিঃসন্দেহ আল্লাহ বান্দার তাওবা দ্বারা ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক আনন্দিত হন, যে মরুভূমিতে তার হারানো বস্তু পেয়ে যায়। (অতপর আল্লাহ তা’য়ালা বলেন), যে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হবে, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হব। যে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হবে, আমি তার দিকে চারহাত অগ্রসর হব। এবং যদি সে আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই। (মুসলিম)

২. দিনে ৭০ বা ১০০ বার তাওবা করা

২.১ আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কসম! আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাওবা করি।” (বুখারি (৮৩-কিতাবুদ দাআওয়াত, ৩০-বার ইসতিগফারিন নাবিয়্যি) ৫/২৩২৪।)

২.২. আগার আল-মুযানী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : ‘হে মানুষেরা! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো। নিশ্চয়ই আমি একদিনের মধ্যে ১০০ বার আল্লাহর নিকট তাওবা করি বা ইস্তিগফার করি।’ (মুসলিম (৪৮-কিতাবুয যিক্র, ১২-বার ইসতিহবাবুল ইস্তিগফার ৪/২০৭৫ (ভারতীয় ২/৩৪৬।)

২.৩. হযরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পরিবারের লোকজনের সাথে অশালীন ভাষায় কথা বলতাম। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আশঙ্কা করছি যে, আমার জিহ্বা আমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তিনি ইরশাদ করলেন, তুমি ইস্তিগফার কেন করো না? আমি আল্লাহ তা’য়ালার কাছে প্রতিদিন একশবার ইস্তিগফার করি এবং তাওবা করি। (মুসতাদরাক হাকেম)

৩. গুনাহ স্বীকার করা

হযরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, বান্দা যখন গুনাহ স্বীকার করে-অতপর তাওবা করে, আল্লাহ তা’য়ালা তার তাওবা কবুল করেন। (বুখারী, মুসলিম)

৪. দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা আল্লাহ তাওবা কবুল করেন

হযরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা রাতে হাত প্রসারিত করেন, যেন দিবসে যারা গুনাহ করেছে তাদের তাওবা কবুল করতে পারেন এবং দিবসে হাত প্রসারিত করেন, যেন রাতে যারা গুনাহ করেছে তাদের তাওবা কবুল করতে পারেন-পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। (হাদীসটি সহীহ: মুসলিম হা/৭১৬৫; নাসাঈ)

৫. ক্ষমা করতে আল্লাহ পছন্দ করেন

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা গুনাহ না করতে তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে তুলে নিয়ে যেতেন এবং অন্য এক জাতি নিয়ে আসতেন, যারা গুনাহ করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতো। ফলে আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। (হাদীসটি সহীহ: সহীহ মুসলিম, হা/৭১৪০)

৬. তাওবাকারী নিষ্পাপ হয়ে যায়

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার কোনো গুনাহ নেই। (ইবনি মাজাহ)

৭. মুমিন গুনাহ করলে তৎক্ষণাত তাওবা করে নেয়

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মু’মিন ও ঈমানের দৃষ্টান্ত হলো, যেমন ঘোড়া তার নির্দিষ্ট স্থানে বাঁধা আছে (এবং তার পায়ে লম্বা রশি)। সে রশি যতটুকু লম্বা ততটুকু ঘুরতে থাকে। অতপর সে তার নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে আসে। অনুরূপ মু’মিন (ঈমানের দাবিসমূহ ত্যাগ করে) উদাসীন হয়ে গুনাহ করে বসে। এরপর ঈমানের (দাবীসমূহের) দিকে ফিরে আসে। সুতরাং তোমরা তোমাদের খাবার আল্লাহ ভীরুদেরকে খাওয়াও এবং তোমাদের দান বিশ্বাসীদেরকে দাও। (ইবনে হিব্বান)
হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রতিটি মানুষ পাপকারী এবং সর্বোৎকৃষ্ট পাপকারী ঐ ব্যক্তি যে অধিক তাওবা করে। (তিরমিযী, ইবনি মাজাহ)

৮. গোপন গুনাহর তাওবা গোপনে এবং প্রকাশ্য গুনাহের তাওবা প্রকাশ্যে

হযরত মু’আয ইবনি জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে বিশেষ উপদেশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করে চলো এবং প্রতিটি পাথর ও গাছের নিকট আল্লাহকে স্মরণ করো। যেকোনো গুনাহ করে বসলে তার জন্য নতুনভাবে তাওবা করো। অপ্রকাশ্য গুনাহের তাওবা অপ্রকাশ্যে এবং প্রকাশ্য গুনাহের তাওবা প্রকাশ্যে করো।’ (তাবরানী)

৯. গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর ভয় প্রবল হওয়া উচিত

হযরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হলো এবং বলতে লাগলো, হায় আমার গুনাহ! হায় আমার গুনাহ! একথা সে দু’বার কি তিনবার বললো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বল :

اللّٰهُمَّ مَغْفِرَتُكَ اَوْسَعُ مِنْ ذُنُوْبِیْ وَرَ حْمَتُكَ اَرْجٰی عِنْدِیْ عَمَلِیْ ــ

হে আল্লাহ! তোমার ক্ষমা আমার গুনাহের চেয়ে বিশাল এবং তোমার রহমত আমি আমার আমলের চেয়ে অনেক বেশি আশা করি।

তখন সে তাই করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পুনরায় বলো। সে পুনরায় বললো। তিনি বললেন, পুনরায় বলো। সে পুনরায় বললো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চলে যাও। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (আল-মুসতাদরাক লিল হাকিম)

১০. আল্লাহর ভয়ে গুনাহর জন্য কাঁদা

১০.১. হযত উকবা ইবনি আমির (রা.) বলেন, (একবার) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাত করে জিজ্ঞেস করলাম, মুক্তির পথ কী? তিনি বললেন, তুমি তোমার যবানকে নিয়ন্ত্রণ করো এবং তোমার ঘরই যেন তোমার জন্য যথেষ্ট হয় এবং তুমি তোমার গুনাহের জন্য কাঁদো। (আহমাদ, তিরমিযী)

১০.২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস (রা.) বলেন, দু’টি চোখ এমন আছে যাকে আগুন স্পর্শ করবে না- (অর্থাৎ, তা জাহান্নামের আগুন থেকে হিফাযতে থাকবে)। প্রথম এমন চোখ যা আল্লাহ তা’য়ালার ভয়ে কেঁদেছে। দ্বিতীয় এমন চোখ যা আল্লাহর পথে পাহারাদারী করা অবস্থায় রাত জাগরণ করেছে। (তিরমিযী)

১০.৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনি মাসউ’দ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে মু’মিন বান্দার চোখ হতে আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বেরিয়েছে-যদিও তা মাছির মাথা সমতুল্য হয়, অতপর তা চেহারা পর্যন্ত পৌঁছেছে, আল্লাহ তা’য়ালা উক্ত চেহারাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিবেন। (ইবনি মাজাহ)

১০.৪. একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পড়ছিলেন এবং কাঁদার কারণে তার সীনা মুবারক থেকে এমন আওয়ায অনুভূত হচ্ছিল, যেন চাকা ঘুরছে। কোনো কোনো বর্ণনাকারী বলেন, এমন আওয়াজ বের হচ্ছিল, যেন হাড়িতে পানি টগবগ করছে। (আবু দাউদ, নাসাঈ)

১০.৫. এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, হে লোক সকল! তোমরা কাঁদো। যদি কাঁদা না আসে, তাহলে কাঁদার ভান করো। কারণ জাহান্নামীরা জাহান্নামে এত অধিক কাঁদবে যে, তাদের চোখ হতে অশ্রু প্রবাহিত হওয়ার কারণে তাদের চেহারায় পানির স্রোতধারার ন্যয় গর্ত হয়ে যাবে। কাঁদতে কাঁদতে অশ্রু নিঃশেষ হয়ে যাবে, তখন অশ্রুর স্থলে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে এবং চোখ ক্ষত হয়ে যাবে। (আত্-তারগীব)

১১. ‘অমুককে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না’-বলা নিষেধ

হযরত জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জনৈক ব্যক্তি (কোনো এক অপরাধী সম্পর্কে) বলে দিল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ অমুক ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না। অথচ আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, তুমি কে, যে আমার নামে কসম খেয়ে বলছ-আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার (শপথকারী ব্যক্তির) আমল বরাবাদ করে দিয়েছি। (মুসলিম)

১২. গুনাহ প্রকাশ করাও গুনাহ

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রকাশ্য গুনাহকারীগণ ব্যতীত আমার সমস্ত উম্মাত ক্ষমাপ্রাপ্ত। মানুষের একটি বেপরোয়া ভাব এই যে, মানুষ রাতে পাপ কাজ করে, অতপর আল্লাহ তা গোপন করা সত্ত্বেও সে সকালে তা প্রকাশ করে বলে, হে অমুক! আমি রাতে অমুক অমুক পাপ কাজ করেছি। অথচ তার রাত এমন অবস্থায় অতিবাহিত হয়েছে যে, তার প্রতিপালক তা গোপন রেখেছেন। আর সে সকালে তার ওপর থেকে আল্লাহর গোপনীয়তার পর্দা অপসারিত করে ফেললো।’ (বুখারী, মুসলিম)

১৩. গুনাহর জন্য অনুতপ্ত হওয়াই তাওবা

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘অনুতাপই হচ্ছে তাওবা।’ (ইবনু মাজাহ হা/৪২৫২, আহমাদ হা/৩৬৬৮, ৪০১২, ৪০১৪। শায়খ আলবানী ও শু’আইব আরনাউত্ব বলেন: হাদীসটি সহীহ)

ইবনু ‘আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘পাপের কাফফারা হলো অনুতাপ।’ (আহমাদ হা/২৬২৩, ত্বাবারানী। শু’আইব আরনাউত্ব বলেন: হাসান লিগাইরিহি)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনি মা’কাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আমার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনি মাসউ’দ (রা.)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তাকে আমার পিতা প্রশ্ন করলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, অনুতপ্ত হওয়া তাওবা? তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি। (তারগীব)

১৪. ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ মুহূর্ত

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রতি রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তখন আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা’য়ালা সবচেয়ে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, কে আছ আমাকে আহ্বানকারী-আমি তার আহ্বানে সাড়া দেবো। কে আছ আমার কাছে প্রার্থনাকারী-আমি তাকে (তার প্রার্থিত বস্তু) দান করবো। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী-আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। (সহীহ বুখারী ১/৩৮৪, নং ১০৯৪, ৫/২৩৩০, নং ৫৯৬২, ৬/২৭২৩, নং ৭০৫৬, সহীহ মুসলিম ১/৫২১, নং ৭৫৮)

সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, অতপর আল্লাহ তা’য়ালা তার দু’হাত প্রসারিত করে বলেন, কে আছ ঐ সত্তাকে করযদানকারী যার কাছে সবকিছু আছে এবং যিনি অবিচারকারী নন। এভাবে সুবহি সাদিক পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন। (মুসলিম)

১৫. নামায পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন

হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর সিদ্দীক (রা.) আমাকে বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করবে, এরপর উঠে গিয়ে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে-(অর্থাৎ, সঠিকভাবে উযু করবে এবং গোসল ফরয হলে গোসল করে নিবে।) অতঃপর নামায পড়ে আল্লাহ তা’য়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তা’য়ালা অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন:

وَالَّذِيْنَ إِذَا فَعَلُوْا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوْا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوْا اللهَ فَاسْتَغْفَرُوْا لِذُنُوْبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا اللّٰهُ وَلَمْ يُصِرُّوْا عَلٰى مَا فَعَلُوْا وَهُمْ يَعْلَمُوْنَ

‘তারা কোনো অশ্লীল কাজে লিপ্ত হলে কিংবা কোনো অন্যায় কাজে জড়িত হয়ে নিজের প্রতি অবিচার করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (সূরা আলি-ইমরান : আয়াত ১৩৫)