প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৬, রমাদান-শাওয়াল ১৪৩৭ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

আমাদের সমাজে পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের যে উন্মুক্ত পাবন প্রবাহিত, আদালতে দায়েরকৃত মোকদ্দমাসমূহ দ্বারা তার কিছুটা আঁচ করা যেতে পারে। তবে নিশ্চয়ই সে অনুমান হবে অপর্যাপ্ত এবং বাস্তব পরিমাণ থেকে অনেক কম। কেননা এমন অনেক বিবাদ রয়েছে যেগুলো আদালত পর্যন্ত গড়ায় না। কেননা আদালতের শরণাপন্ন হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় ও অর্থের নির্দয় ব্যবহার হয়, যে কারণে অনেক লোক আদালতের শরণাপন্ন হয় না। তার স্থলে উভয় পক্ষের প্রত্যেকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুপাতে প্রতিপক্ষকে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করতে থাকে। আর এভাবেই শত্র“তার আগুন প্রজ্জ্বলিত হতে হতে তা কয়েক পুরুষ পর্যন্ত গ্রাস করে ফেলে।

এসব কলহ-বিবাদের গভীরে তাকিয়ে দেখলে অর্থ ও যমীনকেই এর কার্যকর কারনরূপে দেখা যাবে। টাকা-পয়সা আর জায়গা-জমির বিবাদ বড় বড় পুরাতন সম্পর্ককেও চোখের পলকে ভস্ম করে ফেলে। এর কারণে অত্যন্ত ঘনি আদর্শ বন্ধুত্ব মুহূর্তের মধ্যে শত্র“তায় পরিণত হয়।

এ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে বহুবিদ কারণ রয়েছে। তবে এর অনেক বড় একটি কারণ পারষ্পরিক লেনদেনকে পরিষ্কার না রাখা। ইসলাম ধর্মের অত্যন্ত সোনালী একটি শিক্ষা হল এই-পরস্পরে বসবাস কর ভাইয়ের মত কিন্তু লেনদেন কর অপরিচিতের মত। এ কথার অর্থ এই যে, নিত্যদিনের জীবনে পরস্পরের সঙ্গে এমন আচরণ করবে যেমন এক ভাইকে অপর ভাইয়ের সঙ্গে করতে হয়। আচার-আচরণে নিজে ত্যাগ স্বীকার করে অপরকে প্রাধান্য দেবে। ভদ্রতা, উদারতা, সহনশীলতা ও হৃদ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। কিন্তু টাকা-পয়সার লেনদেন, জায়গা-জমির আদান-প্রদান ও অংশীদারিত্বের বিষয় এলে উত্তম সম্পর্ক থাকলেও তা এমনভাবে সম্পাদন করবে দুজন অপরিচিত ব্যক্তির যেভাবে সম্পাদন করে থাকে। অর্থাৎ কারবার ও লেনদেনের প্রতিটি বিষয় স্পষ্ট ও পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। কোন বিষয় যেন অস্পষ্ট না থাকে এবং কারবারের স্বরূপ যেন অস্বচ্ছ না হয়।
ভালবাসা, ঐক্য ও মধুর সম্পর্ক থাকা অবস্থায় যদি দ্বীনের এ মহামূল্যবান শিক্ষার উপর আমল করা হয় তাহলে পরিবর্তীতে আগত অনেক ফেৎনা ও ঝগড়া-বিবাদেরও পথ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ এ মূলনীতিটিকে যেভাবে এড়িয়ে চলা হয় তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত নিম্নে তুলে ধরা হল :

এক.

অনেক সময় একটি ব্যবসা প্রতিানে কয়েক ভাই বা পিতা-পুত্র সম্মিলিতভাবে কাজ করে থাকে। কোন প্রকার হিসাব-কিতাব ছাড়া প্রত্যেকে যৌথ ব্যবসা থেকে নিজ নিজ প্রয়োজন অনুপাতে ব্যয় করতে থাকে। ব্যবসায় কার কি অবস্থান, বেতনের ভিত্তিতে হলে তা কত, আর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হলে তা কি পরিমাণ এসবের কোন কিছুই চূড়ান্ত করা হয় না। প্রত্যেকেই নিজের ইচ্ছা বা বেতন ইত্যাদি নির্ধারণ করার কথা প্রস্তাব করলে তার এই প্রস্তাবকে ভালবাসা ও ঐক্যের পরিপন্থী মনে করা হয়।
কিন্তু নিত্যদিন প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে যে, এ ধরনের ব্যবসার পরিণতি সচরাচর এই হয়ে থাকে যে, পরস্পরের বিরুদ্ধে অন্তরে অন্তরে অসন্তোষ প্রতিপালিত হতে থাকে। বিশেষ করে অংশীদারদের বিয়ে-শাদী হয়ে গেলে প্রত্যেকে মনে করতে আরম্ভ করে যে, অন্যরা ব্যবসা দ্বারা অধিক সুবিধা লাভ করছে আর আমার উপর জুলুম করছে। বাহ্যত পরস্পরের মধ্যে পরিপূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা দৃষ্টিগোচর হলেও ভেতরে ভেতরে অসন্তোষের লাভা উত্তপ্ত হতে থাকে। অসন্তোষ অবিশ্বাসের সঙ্গে মিলে অবশেষে পর্বতাকার ধারণ করে। যখন এই আগ্নেয়গিরি বিােরিত হয়, তখন ঐক্য ও ভালবাসার যাবতীয় দাবি অথর্ব হয়ে পড়ে। মৌখিক বাদানুবাদ থেকে শুরু করে ঝগড়া-বিবাদ ও মামলা-মোকাদ্দমা কোনটাতেই তখন কুণ্ঠাবোধ করা হয় না। ভাইয়ে ভাইয়ে কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়। এক ভাই অপর ভাইয়ের মুখ পর্যন্ত দেখতে চায় না। যার আয়ত্বে ব্যবসার যে পরিমাণ অংশ চলে আসে, সে তার উপর ওঠে বসে নির্দ্বিধায় ন্যায়বিচারকে বলি দিতে থাকে। তারপর প্রত্যেকে নিজ নিজ আসরে পরস্পরের বিরুদ্ধে কুৎসা ও কুধারণার এমন পাবন বইয়ের দেয় যে, আল্লাহ তাআলা রক্ষা করুন। উপরন্তু বছর বছর ধরে যৌথ কারবারের কোন মূলনীতি নির্ধারিত ছিল না এবং কোন হিসাব কিতাবও ছিল না। যে কারণে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে পরষ্পরের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা সত্ত্বেও বিষয়টি এমন জটিল ও কঠিন আকার ধারণ করে দেখা যায় যে, ন্যায়সঙ্গত সমাধান করতে গিয়ে তার মাথা খুঁজে পাওয়াও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বার্থের দৃষ্টিতে ঘটনাকে বিশ্লে¬ষণ করতে থাকে। তখন সমঝোতার এমন কোন রূপরেখা খাড়া করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, যা সংশি¬ষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এসব ফেতনা-ফাসাদ বেশির ভাগ সময় ব্যবসা আরম্ভ করার সময় বা তার মধ্যে বিভিন্ন জনের অংশগ্রহণের সময় কারবারকে তার মূলনীতি অনুযায়ী চূড়ান্ত না করার কারণে জন্ম নিয়ে থাকে। প্রথম থেকেই যদি কোন ব্যক্তির কি অবস্থান, কার কি অধিকার ও কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ পরিষ্কার করা হত, আর এসব কিছু যদি লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা হত তাহলে অনেক বিবাদ এবং পরবর্তীতে উদ্ভূত অনেক জটিলতার পথ শুরুতেই বন্ধ হয়ে যেত। পবিত্র কুরআনে সর্বাধিক দীর্ঘ যে আয়াতটি রয়েছে, তাতে আল্লাহ তাআলা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত দান করেছেন যে, যখন তোমরা বাকিতে কোন লেনদেন করবে তখন তা লিখে রাখবে। (সূরা বাকারা : আয়াত ২৮২)
সাধারণত টাকা-পয়সা বাকি দেয়ার ব্যাপারে যখন এই তাগিদ রয়েছে তখন ব্যবসার মত জটিল কারবার লিখিত আকারে করার গুরুত্ব কত বেশি? এ নির্দেশ এজন্যই দেয়া হয়েছে যেন পরবর্তীতে ঝগড়া-বিবাদ ও মতবিরোধ সৃষ্টি না হয়। আর হলেও তা যেন ন্যায়নীতির সাথে সমাধান করা যায়।

এ কারণেই কোন ব্যবসাতে একাধিক ব্যক্তি কাজ করলে প্রথম ধাপেই তাদের প্রত্যেকের অবস্থান নির্ধারণ করা দরকার। এমনকি বাবার ব্যবসায় ছেলে অন্তর্ভুক্ত হলে সে ক্ষেত্রেও প্রথম দিনই চূড়ান্ত হওয়া দরকার যে, সে বেতনের ভিত্তিতে কাজ করবে, নাকি ব্যবসার নিয়মিত অংশীদার হিসেবে, নাকি শুধুমাত্র বাপের সাহায্যকারী হিসেবে। বেতনের ভিত্তিতে হলে তার বেতনের পরিমাণ নির্ধারিত হওয়া উচিত। এ কথাও সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা জরুরি যে, সে ব্যবসার মালিকানায় অংশীদার নয়। আর যদি তাকে ব্যবসায় মালিকানায় অংশীদার বানাতে চায় তাহলে শরীয়তের আইনে এর জন্য প্রথম শর্ত এই যে, ছেলের পক্ষ থেকে ব্যবসায় কিছু মূলধন অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। তার একটি পন্থা এও হতে পারে যে, বাপ তাকে কিছু নগদ অর্থ দান করবে। ছেলে ওই অর্থ দ্বারা ব্যবসার নির্দিষ্ট একটি হার ক্রয় করবে। দ্বিতীয়ত বিষয়টি লিখিত আকারে যৌথ কারবারের চুক্তিপত্ররূপে সংরক্ষণ করে রাখবে। চুক্তিপত্রে এ কথাও সুস্পষ্ট উলে¬খ থাকা জরুরি যে, লাভের কত শতাংশ কে পাবে? যেন পরবর্তীতে কোন প্রকার জটিলতা সৃষ্টি না হয়।

কোন অংশীদারকে যদি ব্যবসার কাজ অধিক করতে হয় তাহলে এ বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া উচিত যে, এই অধিক কাজ সে কি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে করবে, নাকি এর বিনিময়ে তাকে পৃথক পারিশ্রমিক দিতে হবে। যদি পৃথক পারিশ্রমিক দিতে হয় তাহলে সেই পারিশ্রমিক কি লাভের শতকরা অংশ বৃদ্ধি করে দেয়া হবে, নাকি নির্দিষ্ট বেতন আকারে। মোটকথা প্রত্যেক পক্ষের অধিকার ও কর্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার থাকা উচিত। এতে কোন প্রকার অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়।
মনে করুন, কোন ব্যবসায় যদি এ পর্যন্ত এসব বিষয় চূড়ান্ত করা না হয়ে থাকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব এসব বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরী। এ ব্যাপারে লজ্জা, উদারতা ও তিরষ্কার ও তাচ্ছিল্যকে প্রতিবন্ধক হতে দেয়া উচিত নয়। কারবারের এই স্বচ্ছতাকে ভালবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের পরিপন্থী মনে করা অনেক বড় ধোঁকা। বরং প্রকৃতপক্ষে ভালবাসা ও একতার স্থায়িত্ব এসব বিষয়ের জন্ম দিতে পারে। আর এজন্যই ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে যে, পরস্পর বসবাস কর ভ্রাতৃত্বের মত, আর লেনদেন কর অপরিচিতের মত।

দুই.

এমনিভাবে আমাদের সমাজে বিশেষত মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকদের মধ্যে নিজেদের মালিকানাধীন বাড়ি তৈরি করার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। সাধারণত এ ধরনের পরিবারে কোন বাড়ি নির্মাণ বা ক্রয়ের কাজ পরিবারের কয়েক সদস্য যৌথভাবে করে থাকে। বাবা বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে ছেলেরাও নিজ সামর্থ্য অনুপাতে তাতে নিজেদের অর্থ দিয়ে থাকে। কিন্তু সচরাচর কোনরূপ চিন্তা-ভাবনা না করে এবং অনেক সময় কোন হিসাব-কিতাব না রেখে এই অর্থ দেয়া হয়। অর্থাৎ এ কথা চূড়ান্ত করা হয় না যে, বাড়ি নির্মাণে ছেলে যে অর্থ দিচ্ছে এটা কি বাবার জন্য ছেলের পক্ষ থেকে হাদিয়া নাকি ঋণ; নাকি বাড়ির মালিকানায় অংশীদার হওয়ার জন্য সে এই অর্থ ব্যয় করছে? প্রথম অবস্থাতে সে বাড়ির মালিকানার অংশীদারও হবে না এবং বাপের কাছ থেকে এই অর্থ সে কোন সময় ফেরতও পাবে না।

দ্বিতীয় অবস্থাতে বাড়ির মালিক তো বাবা একাই হবে তবে ছেলের দেয়া অর্থ বাবার দায়িত্বে ঋণস্বরূপ থাকবে। তৃতীয় অবস্থাতে ছেলে প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ সেই বাড়ির মালিকানার অংশীদার হবে। বাড়ির মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে তার অংশের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকবে। মোটকথা প্রত্যেক অবস্থার দাবি ও ফলাফল ভিন্নরূপ। কিন্তু টাকা দেয়ার সময় এই তিন পন্থার কোনটিই চূড়ান্ত করা হয় না এবং টাকার পরিমাণও হিসাব করে রাখা হয় না; ফলে যখন বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি পায়, তখন পরষ্পরে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর যখন উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের পালা আসে তখন এই মতবিরোধ এক সমাধানহীন সমস্যার রূপ ধারণ করে। একে কেন্দ্র করে ভাইদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয় এবং একে কেন্দ্র করে ঝগড়া-বিবাদের কারণে বহু পরিবারের উপর এর সুদূরপ্রসারী কুপ্রভাব পড়ে। ইসলামী বিধানের উপর আমল করে নির্মাণ কাজের শুরুতেই যদি এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে নেয় হয় এবং তা লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা হয় তাহলে পারিবারিক এসব সমস্যার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

তিন.

পরিবারের বড় কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে শরীয়তের নির্দেশ এই যে, অনতিবিলম্বে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি শরীয়ত ঘোষিত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজে শরীয়তের এ হুকুম পালনের ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা প্রদর্শন করা হয়। অনেক সময় তো যে যেটা হাতে পায় নিয়ে চলে যায়। এক্ষেত্রে হালাল-হারামের পরোয়াও করা হয় না। আর অনেক সময় এমনও হয়ে থাকে যে, দুর্নীতি করা তাদের উদ্দেশ্য থাকে না কিন্তু অজ্ঞতা কিংবা অবহেলার কারণে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন করা হয় না। মৃত ব্যক্তি কোন ব্যবসা ছেড়ে গেলে সেই ব্যবসার দেখাশোনা ওই ছেলেই করতে থাকে, তার জীবদ্দশায় যে ছেলে করত। কিন্তু এ কথা চূড়ান্ত করা হয় না যে, এখন ব্যবসায় মালিকানা কার কি পরিমাণে হবে?

শরীয়ত ঘোষিত উত্তরাধিকারীদের অংশ কী হারে পরিশোধ করা হবে? ব্যবসায় যারা শ্রম দিচ্ছে তাদের শ্রমের বিনিময় কিভাবে পরিশোধ করা হবে? পরিত্যক্ত সম্পত্তির কোনটি কার অংশে আসবে। বরং কেউ যদি উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেও তাহলে তার প্রস্তাবকে দোষণীয় মনে করা হয়। এমন বলা হয় যে, মৃত ব্যক্তির কাফনও পুরাতন হয়নি, এখনি ভাগ-বাটোয়ারার চিন্তায় পড়েছে। অথচ এই বণ্টন শরীয়তের নির্দেশ মত বটেই। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ লেনদেনের দাবিও তাই। আর এদিকে দৃষ্টি না দেয়ার ফলাফল এই হয় যে, কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিজ নিজ পাওনা ও অধিকারের কথা স্মরণ হতে থাকে। ফলে পরস্পরের মধ্যে অসন্তোষ জন্মাতে থাকে। সময়ের ব্যবধানে পরিত্যক্ত সম্পত্তির মূল্যে আসমান যমীনের ব্যবধান সৃষ্টি হয়। তখন পূর্ব থেকে কোন বিষয় মীমাংসিত না থাকার কারণে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে। ফলে তার যথোপযুক্ত নিরসন করা কঠিন হয়ে যায়। আর এসবের শেষ পরিণতি ঝগড়া-বিবাদরূপে আত্মপ্রকাশ করে। শরীয়তের নির্দেশ অনুযায়ী যদি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে পরিত্যক্ত সম্পদ যথানিয়মে বণ্টন করা হয় এবং পরস্পরের সন্তুষ্টি ও একতার সাথে সব ব্যাপারে মীমাংসা হয়ে যায় তাহলে পরবর্তীতে বিবাদ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। এতে করে পারষ্পারিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব শক্তিশালী হয়।

এখানে আমি শুধুমাত্র সহজ সরল তিনটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরলাম। অন্যথায় সমাজের বিস্তৃত ঝগড়া-বিবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করলে দেখা যাবে যে, আমাদের সমাজে কারবার পরিচ্ছন্ন না রাখার এমন এক ব্যাধি সৃষ্টি হয়েছে যা ফেতনা-ফাসাদের অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করে রেখেছে। লেনদেন ও ব্যবসা-কারবার তা ছোট হক চাই বড় হোক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া উচিত। এভাবে একবার লেনদেনের শর্তসমূহ চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর পারষ্পরিক আচরণে একে অপরের সঙ্গে যত অধিক সদাচার করতে পারে ততই ভাল। আর পরস্পরে ভাইয়ের মত আচরণ কর আর লেনদেন কর অপরিচিতের মত এ কথার উদ্দেশ্যও এটিই।