প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ ২য় সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৭, শাওয়াল-জিলকদ ১৪৩৮ হিজরী, শ্রাবন-ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়
তরীকতপন্থীদের পক্ষে ক্রোধ সম্বরণ করা অপরিহার্য কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা বলিয়াছেন- ‘উক্ত বেহেশত উহাদের জন্য প্রস্তুত করা হইয়াছে, যাহারা শান্তি ও দুঃখের সময় দান করে এবং ক্রোধ সম্বরণকারী ও লোকদের ত্রুটি মার্জনাকারী।’
আরও বলিয়াছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার সেবকদিগের সহিত নির্বোধ লোকেরা কথোপকথন করিলে তাহারা বলে-শান্তি হউক।’
হযরত ইবনে-আব্বাছ (রা.) এই আয়াতের তফসীরে লিখিয়াছেন, যাহারা ক্রোধের সময় ধৈর্য্য ধারণ করে এবং কেহ অনিষ্ট করিলে তাহার ত্রুটি মার্জনা করে, আল্লাহতায়ালা তাহাদিগকে রক্ষা করেন এবং তাহাদিগের শত্রুকে আত্মীয় বন্ধুরূপে পরিণত করেন। ইমাম বায়হাকী নিম্নোক্ত হাদীসগুলি বর্ণনা করিয়াছেন, ‘যেরূপ মাকালফল মধুকে নষ্ট করিয়া ফেলে, সেইরূপ ক্রোধ ঈমান নষ্ট করে।’
‘যে ব্যক্তি আপন ক্রোধ সম্বরণ করে, আল্লাহ তায়ালা বিচার দিবসে তাহাকে শাস্তি হইতে নিষ্কৃতি দিবেন।’
হযরত মুছা (আ.) বলিয়াছেন, হে আল্লাহ! আপনার সেবকদিগের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি অধিকতর সম্ভ্রান্ত?
তদুত্তরে আল্লাহ বলিয়াছিলেন, যে ব্যক্তি ক্ষমতাবান হওয়া সত্ত্বেও দোষ মার্জনা করে।
ছহীহ বোখারি ও মুসলিমে আছে,-‘মল্লযোদ্ধা (কুস্তিগীর) বীরপুরুষ নহে, যে ব্যক্তি ক্রোধের সময় আত্মসম্বরণ করিতে পারে, সেই ব্যক্তিই বীরপুরুষ।’
আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করিয়াছেন- ‘যে ব্যক্তি ক্ষতি সাধন করিতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ক্রোধ সম্বরণ করে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতে তাহাকে জগদ্বাসীদিগের সমক্ষে ডাকিয়া বলিবেন, ‘তুমি যে হুরটি পছন্দ কর, গ্রহণ কর।’
আবু দাউদ বর্ণনা করিয়াছেন, ‘নিশ্চয় ক্রোধ শয়তান কর্তৃক (প্রকাশিত হয়), শয়তান অগ্নি হইতে সৃজিত হইয়াছে, অগ্নি পানি দ্বারা নির্বাপিত হয়, তখন তোমাদের কেহ রাগান্বিত হয়, তখন ওজু করা কর্তব্য।’
তিরমিযী বর্ণনা করিয়াছেন, ‘তোমাদের কেহ দণ্ডায়মান অবস্থায় রাগান্বিত হইলে, তাহার উপবেশন করা উচিত, যদি ইহাতে রাগ সম্বরণ হয় তবে শুভ, নচেৎ তাহার শয়ন করা উচিত’।
আরও তিনি বর্ণনা করিয়াছেন, ‘হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রোধের বিষয় উত্থাপন করতঃ বলিলেন, এক প্রকার লোক হঠাৎ রাগান্বিত হয়। এবং হঠাৎ ক্রোধ সম্বরণ করে, এস্থলে একটি দোষের পরিবর্তে একটি গুণ। যে ব্যক্তি বিলম্বে রাগান্বিত হয় এবং অতি সত্ত্বর রাগ সম্বরণ করে, সেই ব্যক্তি তোমাদের মেেধ্য শ্রেষ্ঠতম। যে ব্যক্তি অতি সত্ত্বর রাগান্বিত হয় এবং বিলম্বে ক্রোধ সম্বরণ করে, সেই ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে অতি নিকৃষ্ট। তোমরা ক্রোধ করিও না, কেননা, উহা আদম-সন্তানের অন্তরে অগ্নিস্ফূলিঙ্গের তুল্য। তোমরা কি উক্ত ব্যক্তির শিরাসমূহস্ফীত ও চক্ষুদ্বয় রক্তবর্ণ হওয়ার দিকে দৃষ্টিপাত কর না? যে ব্যক্তি ক্রোধের অঙ্কুর বুঝিতে পারে, তাহার মৃত্তিকায় শয়ন করা উচিত।’
ইমাম গাজ্জালী বর্ণনা করিয়াছেন, হযরত এবনে ওমর (রা.) জনাব নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, কোন্ বস্তু আমাকে আল্লাহর কোপ হইতে নিষ্কৃতি দিতে পারে? তদুত্তরে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছিলেন, তুমি ক্রোধ করিও না।
হযরত একরামা বলিয়াছেন, আমি বলিলাম, হে রাসূলুল্লাহ! আপনি আমাকে এরূপ কার্যের সংবাদ প্রদান করুন, যাহা আমাকে বেহেশতে দাখিল করিতে পারে, তদুত্তরে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি ক্রোধ করিও না।
একজন খ্রিস্টান তাপস উপাসনা গৃহে থাকিতেন, শয়তান তাহাকে পথভ্রস্ট করার চেষ্টা করিয়াও বিফল মনোরথ হইল, এক সময় শয়তান তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া উচ্চশব্দে বলিতে লাগিল, তুমি দ্বার উদঘাটন কর, নচেৎ আমি অন্তর্হিত হইলে তুমি অনুতাপ করিবে, ইহাতে তাপস তাহার দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন না। তখন শয়তান বলিল, আমি হযরত ইছা (আ.) তাপস বলিলেন, যদি, তুমি ঈছা হও, তথাচ তোমার আগমনে আমার কি ফল হইবে? তুমি কি আমাকে এবাদতে সাধ্যসাধনা করিতে আদেশ কর নাই? আমাকে কেয়ামতের সংবাদ প্রদান কর নাই? যদি তুমি অদ্য আমার নিকট তদ্বিপরীত অন্য কোন ব্যবস্থা আনয়ন কর, তবে আমি উহা গ্রহণ করিব না। তখন সে বলিল, আমি নিশ্চয় শয়তান, তোমাকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করিয়া বিফল মনোরথ হইয়াছি, তুমি যাহা ইচ্ছা কর আমার নিকট জিজ্ঞাসা করিতে পারে, আমি উহার উত্তর প্রদান করিব।
তাপস বলিলেন, আমি তোমার নিকট কিছুই জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছা করি না। তৎশ্রবণে শয়তান পলায়ন করিল। তখন তাপস বলিতে লাগিলেন, আদম-সন্তানদের কোন্ কার্যে তুমি তাহাদের উপর অধিক পরাক্রান্ত হইতে পার? তদুত্তরে শয়তান বলিল, যে সময় মনুষ্য ক্রোধান্বিত হয়, সে সময় আমি সম্পূর্ণরূপে তাহার উপর আধিপত্য বিস্তার করিতে পারি।
ইমাম খোয়াইছামা বলিয়াছেন, শয়তান বলিতে থাকে, আদম সন্তান কিরূপে আমাকে পরাস্ত করিবে? যে সময় সে সুস্থ শরীরে থাকে, আমি নিকটে উপস্থিত হইয়া তাহার হৃদয়ে স্থান লাভ করি, যে সময় সে ক্রোধান্বিত হয় আমি উড্ডীন হইয়া তাহার মস্তকে আশ্রয় গ্রহণ করি।
যেরূপ একটি কূপের তলদেশে একটি ক্ষীণ জোতির প্রদীপ থাকে এবং কূপের উপরি অংশ ধুমে পরিপূর্ণ হইয়া যায়, এক্ষেত্রে ধূমের আধিক্য বশত নিম্নস্থ প্রদীপ ক্ষীণ জ্যোতিঃ পরিলক্ষিত হয় না, সেইরূপ মনুষ্যের জ্ঞান একটি প্রদীপস্বরূপ, ক্রোধের ধূম সমস্ত শরীর, মস্তক ও অন্তরে প্রবেশ করিলে জ্ঞানের ক্ষীণ প্রদীপটা আবৃত করিয়া ফেলে, সেই সময় মনুষ্য হতজ্ঞান হইয়া কটু কথা বলে, প্রহার করে, লম্ফ প্রদান করে, চক্ষু রক্তবর্ণ করে ও মুখ বিবর্ণ করে। সেই সময়ে মনুষ্যের ধৈর্যধারণ করা কর্তব্য।
ছহীহ বোখারি ও মুসলিমে আছে, ‘হযরত আয়েশা (রা.) বলিয়াছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওহোদের দিবস অপেক্ষা কটিনতর কোন দিবস আপনার উপর আসিয়াছিল কি না? তদুত্তরে তিনি বলিলেন, আমি কোরাইশগণ কর্র্তৃক সেইরূপ বিপন্ন হইয়াছি, যে সময় আমি পর্বতের ঘাঁটিতে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলাম, সেই দিবস সর্বাপেক্ষা কঠিন বিপদের সম্মুখীন হইয়াছিলাম। আমি এবনে আব্দে ইয়ালিলের নিকট আপন প্রেরিতত্ত্ব পেশ করিয়াছিলাম, সে আমার বাঞ্ছিত মত গ্রহণ করিল না। আমি কিংকর্তব্য বিমূঢ় হইয়া অধোমুখে পতিত হইলাম, করনোছ ছায়ালের ব্যতীত আমার চৈতন্যদয় হইল না।
তৎপরে আমি মস্তক উত্তোলন করিয়া দেখিলাম যে, একখণ্ড মেঘ আমার উপর ছায়া দান করিয়া রহিয়াছে, উহার মধ্যে হযরত জিবরাইল (আ.) দৃষ্টিগোচর হইলেন, তিনি উচ্চৈঃস্বরে বলিলেন, নিশ্চিয় আল্লাহ তায়ালা আপনার স্বজাতিবৃন্দের কথা ও তাহাদের উত্তর শ্রবণ করিয়াছেন, তিনি আপনার নিকট পবর্তমালার রক্ষক ফেশেতাকে প্রেরণ করিয়াছেন, আপনি তাহাদের সম্বন্ধে যাহা করার ইচ্ছা করেন করুন, উক্ত ফেরেশতার প্রতি আদেশ করুন। তৎপরে পর্বতমালার (রক্ষক) ফেরেশতা উচ্চৈঃস্বরে সালাম করিয়া বলিলেন, হে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আপনার স্বজাতির কথা শ্রবণ করিয়াছেন, আপনার কার্য সম্বন্ধে যাহা ইচ্ছা করেন, তবে আখশাব নামক পর্বতদ্বয়কে উক্ত কোরাইশদের উপর নিক্ষেপ করি। তৎশ্রবণে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, (না), বরং আশা করি যে, আল্লাহ তায়ালা তাহাদের ঔরস হইতে এক আল্লাহর উপাসক (এবাদতকারী) লোকের সৃষ্টি করিবেন।’
আরও উক্ত গ্রন্থদ্বয়ে আছে, ‘হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নবীর অবস্থা বর্ণনা করিতেছিলেন যে, তাহার স্বজাতি তাহাকে প্রহার করিয়া তাহার শরীর রক্তাক্ত করিয়াছিল, তিনি স্বীয় মুখমণ্ডল হইতে রক্ত পরিষ্কার করিতে করিতে বলিতেছিলেন, আল্লাহ তায়ালা, আমার স্বজাতিকে ক্ষমা করে, কেননা তাহারা অজ্ঞ।’ এই হাদীসে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের অবস্থা বর্ণনা করিয়াছেন।
ইমাম গাজ্জালী (র.) লিখিয়াছেন, ‘হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা শরীফ জয় করিয়া কাবাগৃহের প্রদক্ষিণ করিলেন, তৎপরে দুই রাক্য়াত নামাজ পড়িয়া উক্ত সম্মানিত গৃহের দ্বারদেশে হস্ত স্থাপন পূর্বক বলিলেন যে, কোরাইশগণ, তোমরা কিরূপ ধারণা কর? তাহারা বলিলেন, আমরা ভাল ধারণা করি, আপনি দাতা, ভ্রাতা, দানশীল, পিতৃব্য তনয়, আপনি এখন শক্তিশালী, (আমরা অক্ষম)। তৎশ্রবণে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যেরূপ আমার ভ্রাতা, (হযরত ইউসুফ আ.) (তদীয় ভ্রাতৃবর্গকে) বলিয়াছিলেন, সেইরূপ আমি বলি, অদ্য তোমাদের উপর কোন প্রকার ভর্ৎসনা নাই, আল্লাহ তায়ালা তোমাদিগকে ক্ষমা করুন।’
পাঠক, যে কোরাইশগণ হযরতের প্রতি বর্ণনাতীত উৎপীড়ন করিয়াছিল, হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে অকপটে ক্ষমা করিলেন।
মেশকাতে আছে, ‘এক ব্যক্তি হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-কে অকথ্য ভাষায় গালি দিতেছিল, জনাব হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্চর্যম্বিত হইয়া অল্প হাস্য করিতেছিলেন, যখন সে ব্যক্তি সীমা অতিক্রম করিয়া ফেলিল, তখন হযরত ছিদ্দিক (রা.) তাহার কতক কথার প্রতিবাদ করিলেন। ইহাতে জনাব নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হইয়া দণ্ডায়মান হইলেন। তদ্দর্শনে হযরত ছিদ্দিক (রা.) তাহার পশ্চাদ্ধাবিত হইয়া বলিলেন, হযরত উক্ত ব্যক্তি আমাকে কটুবাক্য বলিতেছিল, আপনি উপবিষ্ট ছিলেন। তৎপরে আমি তাহার কথার প্রতিবাদ করিলে, আপনি রাগান্বিত হইয়া উঠিয়া পড়িলেন। হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, (যতক্ষণ তুমি নিস্তব্ধ ভাবে বসিয়াছিলে, ততক্ষণ) তোমার সহিত একজন ফেরেশতা থাকিয়া কটু বাক্যগুলি উহার উপর নিক্ষেপ করিতেছিলেন, তৎপরে তুমি প্রতিবাদ করিলে শয়তান উপস্থিত হইল। তৎপরে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আবুবকর, তিনটি কথা অতি সত্য, প্রপীড়িত হইয়া আল্লাহর সন্তোষ লাভ উদ্দেশ্যে ধৈর্যধারণ করিলে, আল্লাহ তায়ালা তাহার পূর্ণ সাহায্য করেন। দ্বিতীয়-যে ব্যক্তি আত্মীয় ও দরিদ্রদের উপকারার্থে দান করে, আল্লাহ তায়ালা তাহার অর্থ বৃদ্ধি করিয়া দেন। তৃতীয়- যে ব্যক্তি অর্থ বৃদ্ধি করার মানসে ভিক্ষার দ্বার উদঘাটন করে, আল্লাহ তায়ালা তাহার অর্থ হ্রাস করিয়া দেন।
ছহীহ মুসলিমে আছে, ‘এক ব্যক্তি বলিল, হযরত! আমার কতকগুলি আত্মীয় আছে, আমি তাহাদের সহিত সন্ধি করিয়া থাকি, তাহারা আমার সহিত বিচ্ছেদ করিয়া থাকে, আমি তাহাদের উপকার করি, তাহারা আমার অপকার করয়া থাকে, আমি তাহাদের সম্বন্ধে ধৈর্যধারণ করি, তাহারা আমার সহিত অসদ্ব্যবহার করিয়া থাকে। তৎশ্রবণে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যদি তুমি এরূপ হইতে পার, তবে তুমি তাহাদের উপর উত্তপ্ত ভষ্ম নিক্ষেপ করিলে এবং যত দিবসে এ অবস্থায় থাকিতে পারে, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হইতে তোমার সহিত একজন সহায়তাকারী থাকিয়া তাহাদের অত্যাচার নিবারণ করিবেন।
ইমাম গাজ্জালী (রহমাতুল্লাহ) লিখিয়াছেন, যে সময় আল্লাহ তায়ালা জগদ্বাসীদিগকে কেয়ামতের দিবস একত্রিত করিবেন, সেই সময় একজন ঘোষণাকারী (ফেরেস্তা) ঘোষণা করিয়া বলিবেন, সদগুণসম্পন্ন ব্যক্তিগণ কোথায়? তখন অল্প সংখ্যক লোক দণ্ডাযমান হইয়া বেহেস্তের দিকে দ্রুতগামী হইবেন, ফেরেস্তাগণ তাহাদের সাক্ষাৎ হইয়া বেহেস্তের দিকে দ্রুতগামী হইবেন, ফেরেস্তাগণ তাহাদের সাক্ষাৎ পাইয়া বলিবেন, আমরা যে তোমাদিগকে বেহেশতের দিকে দ্রুত গমন করিতে দেখিতেছি। তোমাদের সদ্গুণ কি ছিল? তদুত্তরে তাহারা বলিবেন, যে সময় লোকেরা আমাদের প্রতি অত্যাচার করিত, সে সময় আমরা ক্ষমা করিতাম, যে সময় তাহারা আমাদের সহিত অভদ্রতা করিত, সেই সময় আমরা ধৈর্যধারণ করিতাম, তখন ফেরেশতাগণ বলিবেন, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ কর।’
পাঠক মনে রাখিবেন, কেহ কোন লোকের ক্ষতি সাধন করিলে উহা মার্জনা করা মহাসদ্গুণ। ইহাতে কোন সন্দেহ নাই কিন্তু কেহ শরীয়তের কোন ক্ষতি করিলে তৎসম্বন্ধে ক্রোধ প্রকাশ করা অপরিহার্য কর্তব্য।
ছহীহ বোখারী ও মুসলিমে আছে, ‘হযরত আয়েশা (রা.) বলিয়াছেন, আমি আমার বারান্দাকে পরদা দ্বারা আবৃত্ত করিয়াছিলাম, উক্ত পরদায় জীবের (অঙ্কিত) মূর্তি ছিল। হযরত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদেশ হইতে প্রত্যাগমন পূর্বক উহা দর্শনে ছিন্ন করিয়া ফেলিলেন এবং ক্রোধান্বিত হইলেন।’ ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, শরীয়তের ত্রুটির দর্শনে ক্রোধ প্রকাশ করা একান্ত কর্তব্য।
