প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১১ম সংখ্যা, মে ২০১৭, রজব-শাবান ১৪৩৮ হিজরী, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ….’ সংখ্যায়

২০১৭ইং পাকশি মাহফিলে পাগড়ি দিয়ে মোয়াল্লিমের দায়িত্ব অর্পণ করলেন ফুরফুরার গদ্দিনশীন পীরসাহেব শায়েখ আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী সাহেব

কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক আকিদা (বিশ্বাস) নিয়ে শত শত বছর ধরে সারা বিশ্বব্যাপী আল্লাহর দীন ইসলামের আলো মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে চলেছেন ফুরফুরার পীর-মাশায়েখগণ।

ফুরফুরার পীর-মাশায়েখগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রধান সাহাবী ও মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর বংশধর।

তাঁরা আরব থেকে বাগদাদ, বাগদাদ থেকে খোরাশান, খোরাশান থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদ মেদিনিপুরসহ বিভিন্ন এলাকা হয়ে পশ্চিমবাংলার হুগলী জেলার ফুরফুরায় এসে পৌঁছেছেন। এলাকার পর এলাকা ইসলামের খেদমত করতে করতে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। সকল বাতেল পথ ও মতের বিরুদ্ধে প্রায় ৭০০ বছর যাবত ভারতবর্ষ সহ সারাবিশ্বে আল্লাহর দীন ইসলামের খেদমতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে চলেছেন যা আজও চলমান রয়েছে। ইনশাআল্লাহ হকের উপর কিয়ামত পর্যন্ত এ দীনি খেদমত চলমান থাকবে। তাঁরা মুসলিম জাতির ঈমান, আমল, আক্বিদা, আখলাক-চরিত্র সংশোধন করে সত্যিকার হাকিকতে ইনসান গড়ে তুলছেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেখতে দেখতে আলহামদু-লিল্লাহ পাকশি বার্ষিক ওয়াজ ও ইসালে সওয়াব মাহফিল ২০১৭ হয়ে গেল।

১৫ ফেব্রুয়ারি মাহফিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১৪ ফেব্রুয়ারি মাহফিল শুরু হবার আগের দিনই দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ পাকশি ময়দানে এসে উপস্থিত হয়ে যান। এতোলোকের সমাগমের কারণেই ১৪ই ফেব্রুয়ারি বাদ মাগরিব হযরত গদ্দীনশীন পীর সাহেব হুজুর যিক্র ও তালীম দিয়ে মাহফিলের উদ্দেশ্যে সফরে চলে যান। এরপর রাত ১০টা পর্যন্ত আলোচনা, ওয়াজ মাহফিল চলতে থাকে।

পরের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ফুরফুরা দরবারের পীর-মাশায়েখ, আওলাদ, আলেম-ওলামাগণের আগমনে পাকশি ময়দান আল্লাহর দিনের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। সারাদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইয়েরা এই আলোয় নিজেদের ঈমানকে আলোকিত করার জন্য যেন ঈমানের চার্জ নিতে আসেন। হযরত গদ্দীনশীন পরীসাহেব হুজুর আল্লামা শাইখ আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দীকি আল কুরাইশী সাহেব প্রতিদিন বাদ মাগরিব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত মোতাবেক তালিম দিয়ে, ওয়াজ ও নসীহতের মাধ্যমে মানুষদের সত্যিকার হাকিকতে ইনসান গড়ে তোলার বয়ানে কুরআন ও সুন্নাহর পরিপূর্ণ দিক-নির্দেশনায় দীনের আলো ছড়াতে থাকেন। এই আলো থেকে চাতকের ন্যায় সারাবছর প্রতিক্ষমান ঈমানদারেরা নিজেদের ঈমানকে পরিপূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহর আলোচনা থেকে চার্জ করিয়ে নেন।

মাহফিলের প্রতিদিনই বাদ ফজর ফুরফুরা দরবারের মুরব্বী মেজ হুজুর পীর মাওলানা আবু ইব্রাহিম মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ সিদ্দীকি আল কুরাইশী সাহেব তালিম দেন ও যিক্র করান। এই তিন-চার দিন ফুরফুরার হুজুরদের আওলাদগণ, খোলাফা, আলেম, ওলামাগণ ওয়াজ ও নসীহত করেন। সম্পূর্ণ পাকশি ময়দান যেন আল্লাহর দীনি আলোচনায় জান্নাতি পরিবেশে রূপান্তরিত হয়।

গদ্দীনশীন হযরত পীর সাহেব হুজুরের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী মাহফিল শুরুর ২-৩ মাস পূর্বেই খুলনা বিভাগীয় মুবাল্লেগ সুফি হাজী মো. হারুনুর রশীদ সাহেব ও হযরত মাওলানা গোলাম মোস্তফা (চাঁদ হুজুর) উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের অসংখ্য মুবাল্লেগদের দল নিয়ে এবং পাকশি দাওরায়ে হাদীস মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সাহেব ও ওনার সঙ্গে উক্ত মাদ্রাসার সকল শিক্ষকমণ্ডলী এবং ছাত্ররা ২-৩ মাস পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ মুসলমানের অবস্থানের উপযোগী করে তোলা হয় আল্লাহর রহমতে। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম দিকে বিশাল প্যান্ডেল, প্রসাবখানা, পায়খানা, বিশেষ করে এত লক্ষ লক্ষ মানুষের খানা পৌঁছানোর জন্য গোলাম মোস্তফা চাঁদ হুজুর মোবাল্লেগ ভাইদের ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রায় ৩,০০০ (তিন হাজার) কর্মীর সমন্বয়ে গঠিত সেবক দল নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে এই লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে খানা পৌঁছে দেন। রাত-দিন ভাগে ভাগে, দলে দলে সকল খেদমত আঞ্জাম দেন।

এই সকল খেদমতে যারা নিজেদেরকে বিলীন করে দিয়ে রাত-দিন কাজ করতে থাকেন তারা হলেন বড় বড় আলেম, ওলামা, পীর মাশায়েখ, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, কৃষক, মজুর সহ সকল স্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা জবানে যিকর, শরীরে ঈমানী শক্তি নিয়ে ঈমানকে নিজের আমলকে আল্লাহর মোহাব্বতে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে রুহের খোরাক নিয়ে কলবকে আল্লাহ ওয়ালা বানাবার জন্য বেকারার হয়ে উঠেন। নিজে নেয়ামত পেয়ে স্বাদ মজা উপলব্ধি করে জান্নাতের অধিকারী হবার স্বাদ বুঝে সকলের জন্য চেষ্টা করে শ্রম দেন যাতে সকল মানুষ জান্নাতী হয়ে স্বাদ পায়। আল্লাহ পাক যাতে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন, কঠিন বিপদের দিনে, এজন্যই এতো প্রচেষ্টা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেখে যাওয়া দীন ইসলামের খেদমতে নিজেকে শামিল করিয়ে জীবনকে ধন্য করে কবরে শুবার জন্য খেদমত করা।

আল্লাহর অসংখ্য বান্দার জবান থেকে বলতে শুনেছি ভাই অমুক অমুক বিষয়ে আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি প্রতিক্ষায় ছিলাম কবে পাকশি যাবো? কবে পীর সাহেব হুজুর হতে আমার সমস্যার বিষয়ের প্রশ্নগুলোর সমাধান করিয়ে নিবো, বিষয়টি হুজুরের নিকট পেশ করে বুঝে নেব। আল্লাহর শুকরিয়া আমি পাকশি এসে, আমি দারুসসালামে এসে হুজুরের কাছে আমার সমস্যার কথাগুলো বলার পূর্বেই আমি বাদ মাগরিব গদ্দীনশীন হুজুরের তালিমে বসে তালিম ও কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক হুজুরের আলোচনা শুনে তালিম ও আলোচনা থেকেই আমার মনে জমাট বাঁধা প্রশ্নগুলোর একে একে উত্তর পেয়ে গেলাম। আল-হামদুল্লিাহ্ আল্লাহ পাকের শান বুঝা মুশকিল!

মরহুম গদ্দীনশীন পীর হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহহার সিদ্দীকি আল কুরাইশী (রহ.)-এর তালীম ও ওয়াজের মাধ্যমে এবং তাঁর দাদা মোজাদ্দেদে জামান ফুরফুরার পীর হযরত মাওলানা আবুবকর সিদ্দীকি (রহ.) এবং তার বড় সাহেবজাদা জানেশীন সরাসরি গদ্দিনশীন পীর হযরত মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী (রহ.) তাঁদের ওয়াজে-তালিমে ও একই অবস্থা হতো। আলহাম্দুলিল্লাহ আল্লাহর দীন ইসলাম সম্পর্কে, মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে প্রশ্নকারী প্রশ্ন করার আগেই আল্লাহর রহমতে আহলে হক খাঁটি পীর-মাশায়েখ, আলেম, ওলামাদের ওয়াজ ও নসিহতের মধ্যেই তার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যান।

গদ্দিনশীন পীর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী সাহেবের পিতা মরহুম গদ্দিনশীন পীর আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী (রহ.) বলতেন, হ্যাঁগো যে সাপের মাথায় মণি থাকে তার মণির আলোয় এলাকা আলোকিত হয়ে যায়। সব সাপের মাথায় কি মণি থাকে! হ্যাঁ বাবা আল্লাহ পাক গদ্দিনশীন বানিয়েছেন, মণি আমার কাছে। আল্লাহ পাক আলোও আমাকে দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।

আমার জীবদ্দশায় আমার সাথে আল্লাহ হারা বান্দাদের যোগাযোগ করিয়ে দেন আল্লাহর দীনের আলো দিয়ে, কুরআন-সুন্নাহর আলো দিয়ে তাদের আলোকিত করে, আখলাক-চরিত্র সুন্দর করে, হাকিকতে ইনসান (সত্যিকার মানুষ) বানাবার চেষ্টা করবো ইনশা-আল্লাহ।

আমার ইন্তেকালের পরে তো আমার কাছে আনলে হবে না। হ্যাঁ গো বাবা আমার দাদা আমার আব্বাকে গদ্দিনশীন করে গেছেন। আমার বাবা আমাকে গদ্দিনশীন করেছেন, আমি আমার বড় ছেলে মেশকাতকে আমার জায়গায় কাজ করার জন্য গদ্দিনশীন করে গেলাম, তাকে নিয়ে কাজ করবেন। আল্লাহ পাক আমাকে নিয়ামত দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।

২০০৫ ইং সালের অক্টোবর মাসে কথা প্রসঙ্গে মরহুম গদ্দিনশীন পীর সাহেব হুজুর (রহ.) একদিন বললেন, বাবা আমি যতদিন বেঁচে আছি কাজ করে যাবে, এরপর তোমার বড়ভাই যেভাবে বলেন সেভাবে করবে (অর্থাৎ বর্তমান গদ্দিনশীন পীর সাহেব হযরত মেশকাত হুজুরের কথা বলেছিলেন)।

বাবারা আপনারা আল্লাহর দীন ইসলামের জন্য কাজ করে যান। ফুরফুরা হক, এর আলো আল্লাহ জ্বালিয়েছেন। মসজিদে গিয়ে নামায পড়বেন। একেক ওয়াক্ত একেক মসজিদে পড়বেন। ইমাম সাহেব হুজুর সালাম ফিরাবার পর দাঁড়িয়ে যাবেন। মুসল্লি ভাইদের দাওয়াত দিয়ে দিবেন। ওমুক দিন, ওমুক তারিখে ফুরফুরা হুজুরের মাহফিল আপনাদের দাওয়াত রইলো। চেষ্টা করেই দেখেন না, কত কেউ না হক নিয়ে কতভাবে চেষ্টা করছে, প্রচার প্রসার করছে, আপনি কি হকের দাওয়াত দিতে পারবেন না? হাঁকার দিয়ে হুজুর বলে উঠলেন আরে মিয়া “নেহি চলেগা তো যিনকা মাল উনকো দে দেঙ্গে”। মানুষ পঁচা মাছ হেকে বিক্রি করছে আর আপনি টাটকা মাছ বেঁচতে পারছেন না?

আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানিতে ফুরফুরা দরবারের মাধ্যমে আল্লাহর দীন ইসলামের খেদমতে শত শত বছর ধারাবাহিকভাবে বাংলা-ভারত সহ সারাবিশ্বে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক মানুষের আমল-আখলাক গঠন করা অর্থাৎ এককথায় একটি মানুষ তার সারাজীবনের দীন, দুনিয়া ও আখিরাত পরিপূর্ণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত মোতাবেক যাতে পরিচালনা করে নিজেকে সাড়ে তিন হাত মাটির কোলের বাসিন্দা বানাতে পারেন, তার কবর, হাশর, মিজান, পুলসিরাত, কিয়ামতের মাঠের হিসাব-নিকাশ সহজ হয়ে মানুষটি যাতে শিরকমুক্ত ঈমান আক্বিদা নিয়ে নেক আমল করে কাল কিয়ামতের মাঠে হাসিমুখে আল্লাহর দরবারে বিনা হিসাবে জান্নাতুল ফেরদাউসের অধিকারী হতে পারেন সে চেষ্টাই বংশগতভাবে ফুরফুরার হুজুরগণ বিশেষ করে গদ্দিনশীন হুজুরগণ এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিয়ামত পর্যন্ত এ দীনি খেদমত আল্লাহ পাকই জারি রাখবেন ইনশাআল্লাহ।

তবে অত্যন্ত নেয়ামতপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এ দরবারে এসে দরবারে ফুরফুরার হক খেদমতের সাথে একত্রিত হয়ে আল্লাহর দীন ইসলামের খেদমত করতে করতে নিজেদের জীবন গঠন করার সাথে সাথে আল্লাহহারা বান্দা-বান্দিদের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত থেকে আল্লাহ পাকের কালামুল্লাহ শরীফের বাণী ‘ইন্নি জায়েলুন ফিল আরদি খলিফা’ এই আয়াতের দায়িত্ব যারা সঠিকভাবে পালন করেছেন তাদেরকে ফুরফুরা দরবারের গদ্দিনশীন পীর সাহেব হুজুরগণ যুগে যুগে খেলাফত ঘোষণা করে তাদেরকে দীনের বড় বড় দায়িত্ব অর্পণ করে বিভিন্ন স্থানে খানকাহ, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, ঈদগাহ, কুতুবখানা, ওয়াজ মাহফিল প্রতিষ্ঠা, কুরআন শিক্ষা, নামায শিক্ষা, মাসলা-মাসায়েল শিক্ষা ইত্যাদি দীনি তালিম শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, ত্রৈমাসিক, বার্ষিক মাহফিলের আয়োজন সহ অসংখ্য কিতাবাদী গদ্দীনশীন হুজুরগণ সহ পীর মাশায়েখ গণ ও খলিফা আলেম-ওলামাদের মাধ্যমে যুগোপযোগী সংস্কারমূলক কেতাবাদী ছাপিয়ে সারা পৃথিবীব্যাপী পৌঁছে দিয়েছেন।

বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে অনলাইন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফুরফুরার গদ্দিনশীন হযরত পীর সাহেব হুজুরের শতাধিক ওয়াজ মাহফিল সারা পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকে শুনে নিজের আমল আখলাক পরিবর্তন করে সঠিক দিনের উপর জীবনকে চালাতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। দুনিয়ার যে কোন প্রান্তেই আপনি থাকেন না কেন ইন্টারনেটের অনলাইনে ণড়ঁঞঁনব এ ভঁৎভঁৎধসবফরধ, ভঁৎভঁৎধ.পড়স, ভ ভঁৎভঁৎধঢ়রৎ সার্চ করে অথবা ফুরফুরার গদ্দিনশীন পীর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী লিখে হুজুরের ওয়াজ বের করে শুনতে পারবেন। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ পাকের শুকরিয়ার সাথে জানাচ্ছি লক্ষ লক্ষ মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকেও ওয়াজ শুনে দীনি দাওয়াত পাচ্ছেন, কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক নিজের আমল গড়ে তুলছেন।

খেলাফত দিয়ে ফুরফুরার গদ্দিনশীন পীর সাহেব হুজুরগণ দীনের কাজ সম্প্রসারণ করে আসছেন। এলাকার পর এলাকা আল্লাহর দীন ইসলামের খেদমত আবাদ করে চলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর ২০১৭ ইং সনে পাকশিতে ফুরফুরা দরবারের গদ্দিনশীন পীরসাহেব হুজুর ৭ জনকে মোয়াল্লিমের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার বাদ ফজর ফুরফুরা দরবারের গদ্দিনশীন পীর আল্লামা শাইখ আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী আল কুরাইশী সাহেব সংক্ষিপ্ত জিকিরের তালিম দিয়ে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে সারাবিশ্বের মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বিশেষ করে ফুরফুরার মুরিদদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন। সকলকে উদ্দেশ্য করে হুজুর বলেন, সকলের সাথে সুন্দর ও সৎ আচরণ করবেন। হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষ, অহংকার, জাগতিক সম্মান, টাকা-পয়সা, লোভ থেকে মনকে পবিত্র রাখার জন্য সর্বদা চেষ্টা করবেন। হাসি-তামাশা, গল্প-গুজবে সময় নষ্ট করবেন না, নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করবেন। সাথে সাথে অর্থ বোঝার জন্য চেষ্টা করবেন। তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন সহ অন্যান্য ভালো ভালো তাফসীর আছে পড়বেন। আলেমদের থেকে বুঝে নেবেন। হাদীসের কিতাব রিয়াজুস সালেহীন পড়ার অভ্যাস করবেন। আমার তত্ত্বাবধানে বেশ কিছু বই প্রকাশ করা হয়েছে এ বইগুলো আপনারা নিয়ে যাবেন। নিজেরা পড়বেন ছেলে-মেয়েদের পড়াবেন। বইগুলো মা-বোনদেরকে পড়তে ও আমল করতে বলবেন। বিশেষ করে আক্বিদা শিক্ষা বইটা সবাই নিয়ে যাবেন। ছেলেমেয়েদের আক্বিদা ঠিক হওয়া দরকার। যারা বায়াত মুরীদ হলেন অবশ্যই সাথে করে আল মুর্শিদ নিয়ে যাবেন। ২৪ ঘণ্টার আমল ওযীফা ও নামায শিক্ষাটা নিবেন। পর্দার বই নিয়ে যাবেন। গুনাহ মাফের আমল, হকের ব্যাপারে বান্দর হক সৃষ্টির সেবা ও সুন্দর আচরণ বইটা নিয়ে যাবেন।

মুনাজাতের পূর্বে কিছু সময় ফুরফুরার খলিফা মোবাল্লিগ, মুয়াল্লিম, মুরিদদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দিক নিদের্শনামূলক আলোচনা পেশ করেন।

ফুরফুরা দরবারের খলিফা মোবাল্লেগ মুরিদদের সন্তানেরা যাদের বাপ দাদারা ফুরফুরা দরবারের সাথে নেসবত রেখে আল্লাহর দ্বীন ইসলামের খেদমতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তাদের সন্তানরা এখনও ফুরফুরা দরবারের সাথে নেসবত রেখেছেন। পাকশি ও দারুসসালাম মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে আলেম হয়েছেন দরবারের সাথে সম্পর্ক রেখে ইসলামের খেদমতের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন এমন সাতজনকে পাকশি মাহফিলে আগত লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সামনে মুয়াল্লিমের দায়িত্ব অর্পণ করেন গদ্দিনশীন পীর সাহেব হুজুর।

নিজ হাতে পাগড়ী পড়িয়ে দেন এবং বলেন, তাদের মুয়াল্লিমের দায়িত্ব অর্পণ করা হলো, তাদের আপনারা নিয়ে যাবেন। আপনাদের এলাকায় তালিম, তরবিয়ত দেওয়ার জন্য, কুরআন শিক্ষা, নামায শিক্ষা, শরীয়তের হুকুম-আহকাম শিক্ষা, যিক্র আজকার, দু’আ-দরূদের তালিম শিক্ষার জন্য ইনাদের দায়িত্ব অর্পন করা হলো। মোবাল্লিগ ভাইদের সাথে সহযোগী হিসাবে কাজ করবেন।

গদ্দিনশীন পীর সাহেব হুজুর হাঁকার দিয়ে বলেন, খবরদার টাকার মোহে পরে যাবেন না, যদি টাকার মোহে পড়েন সবশেষ হয়ে যাবে, মুয়াল্লিমের পদ বাতিল হবে।

পীর-মুরিদী সহজ জিনিস না, যদি টাকার তালে পড়েন টাকা হবে, কোন ফায়দা হবে না। শক্ত আওয়াজে হুজুর বলেন, খেলাফত কেটে যাবে, নেসবত কেটে যাবে, মুবাল্লিগের পদ বাতিল হবে, আখিরাতের ফায়দা কিছুই হবে না। আপনারা খেয়াল রাখবেন, মানহাজ ঠিক রেখে চলবেন আল্লাহ পাক বরকত দেবেন।

মানহাজ ঠিক রেখে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক কাজ করে যান। আমি আমার মুরব্বি মেজ চাচাজানদের সাথে পরামর্শ করেছি। আপনারা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যান। আল্লাহ পাক বরকত দেবেন।
যারা বাইয়াত মুরিদ হলেন একটা করে আল মুর্শিদ নিয়ে যাবেন।

বাইয়াত-মুরিদ হয়েছেন আমার সাথে সবসময় সাক্ষাৎ হচ্ছে না দীর্ঘসময় সোহবত পাচ্ছেন না। আমার তত্ত্বাবধানে ছাপা বইগুলো নিয়ে যাবেন।

নিয়ম মাফিক কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবনযাপন করবেন। ঈমান-আক্বিদা ঠিক রাখবেন। পাঁচওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করবেন, রোজার মাসে রোজা রাখবেন, অর্থ-সম্পদ টাকা-পয়সা হলে যাকাত দেবেন, হজ্ব করবেন। মেশওয়াক করবেন, নেসফেসাক জামা, টুপি, পাগড়ী পড়বেন, দাড়ি রাখবেন, বিড়ি-সিগারেট খাবেন না। ওযীফা, দু’আ-দরুদ ঠিক মতো আদায় করবেন। হালাল-হারাম বেছে চলবেন, সুদ-ঘুষ খাবেন না, সুন্নত মোতাবেক জীবনযাপন করবেন। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে তৌফিক দান করুন।

এভাবে হুজুর শেষ বয়ান পেশ করেন। এরপরই লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদেরকে নিয়ে আল্লাহর দরবারে কান্নার আহাজারির ভেতর দিয়ে হুজুর দীর্ঘ মোনাজাত করে মাহফিল সমাপ্ত করেন।
মোনাজাত শেষ করে হুজুর মাহফিলে আগত সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা ধীরস্থিরভাবে যাবেন, দেখে-শুনে গাড়িতে উঠবেন, সাবধান তাড়াহুড়া করবেন না।

যারা মুয়াল্লিমের দায়িত্ব প্রাপ্ত হলেন তাদের নাম ও ঠিকানা :

১. হাফেজ: মাওলানা কারী মো. আলীমুজ্জামান (আব্দুল্লাহ)
পিতা :মরহুম মো. রেজওয়ান সাহেব সাবেক খুলনা বিভাগীয় মুবাল্লীগ
গ্রাম : যোতপাড়া, পোস্ট : কমলাপুর, জেলা : কুষ্টিয়া।
বর্তমান কর্মরত : শিক্ষক ফুরফুরা দরবার পাকশী দারুস শরীয়ত রিয়াজুল জান্নাত খানকাহ কমপ্লেক্স দাওরায়ে হাদীস মাদ্রাসা সাবেক ছাত্র দারুসসালাম মাদ্রাসা এবং হিজবুল্লাহ হিযফুল ফুজুলের সাবেক প্রচার সম্পাদক।
মোবাইল : ০১৭২১-৩৩৯৯১২

২. মাওলানা চৌধুরী সাইফুল্লাহ জাকী আনসারী
পিতা : চৌধুরী মাও. মনিরুল ইসলাম আনসারী সাহেব, বগুড়া জেলা মুবাল্লিগ ও (কামদিয়া হুজুরের নাতি)
গ্রাম+পো: কামদিয়া (আনসারী ভবন),
উপজেলা : গোবিন্দগঞ্জ, জেলা : গাইবান্ধা।
সাবেক ছাত্র দারুসসালাম মাদ্রাসা
বর্তমান কর্মরতঃ গদ্দীনশীন পীর সাহেব হুজুরের ব্যক্তিগত সচিব ও নির্বাহী পরিচালক,তারবিয়াতুল মিল্লাত একাডেমি,
দারুসসালাম, ফুরফুরা দরবার, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭১২-৬২৯৪৩৩

৩. মাওলানা আব্দুল হাই মুহাঃ সাইফুল্লাহ
পিতা : মাওঃ আ.ন.ম. আকরাম হোসাইন সাহেব,নওগাঁ আলিয়া মাদ্রাসার মোহাদ্দেস ও সাবেক রাজশাহী বিভাগীয় মুবাল্লিগ নওগাঁ হুজুরের নাতী
ঠিকানা : উকিলপাড়া, নওগাঁ।
বর্তমান কর্মরত : খতিব, মসজিদুজ জু’ম্মা কমপ্লেক্স, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭১২ ৯৫৯৭০৬

৪. মাওলানা আব্দুল খালেক
পিতা মো. দমসের আলী
গ্রাম : মাদিয়া, পোস্ট : কামালপুর, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
বর্তমান কর্মরত : সহকারী শিক্ষক ফুরফুরা দরবার পাকশী দারুস শরীয়ত রিয়াজুল জান্নাত খানকাহ কমপ্লেক্স দাওরায়ে হাদীস মাদ্রাসা
মোবাইল : ০১৭১৭-৩২৬১৮৬

৫. মাওলানা মো. রাশেদুল ইসলাম
পিতা : মো. আব্দুর রহমান
গ্রাম : বাঘইল, পাকশী, ঈশ্বরদী, পাবনা।
সাবেক ছাত্র পাকশী মাদ্রাসা
বর্তমান কর্মরত : আরবী প্রভাষক কুওয়াতুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসা, কুষ্টিয়া। খতিব, নূর বাজার জামে মসজিদ, ঈশ্বরদী, পাবনা।
মোবাইল : ০১৯১৩-৩২৫৪৩৪

৬. মাওলানা মো. ওবাইদুল্লাহ
পিতা : মাস্টার মো. নূরুল ইসলাম সাহেব, ইউনিয়ন মুবাল্লিগ,
গ্রাম : পারশ্রীরাম, পোস্ট : কালিগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
সাবেক ছাত্র পাকশী মাদ্রাসা
বর্তমান কর্মরত : সহকারী সুপার আয়েশা ফুলজান মেমোরিয়াল দাখিল মাদ্রাসা, ঝিনাইদহ।
মোবাইল : ০১৭২১-৭১৭৮৮৯

৭. মাওলানা মো. ফখরুজ্জামান (ফিরোজ)
পিতা : মৃত : মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল আওয়াল সাহেব,বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় মুবাল্লিগ
গ্রাম : কুশোলনগর দক্ষিণপাড়া,
পোস্ট : কুশোলনগর, থানা : বকশীগঞ্জ, জেলা : জামালপুর।
সাবেক ছাত্র পাকশী মাদ্রাসা
মোবাইল : ০১৭৩৮-৯৭২৫২১