প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৭বর্ষ ১ম সংখ্যা, জুলাই ২০১৭, রমজান-শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী, আষাঢ়-শ্রাবন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ ‘ সংখ্যায়

আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে মোরাকাবা বা ধ্যান ইসলামে একটি স্বীকৃত বিষয়। অন্য ধর্মগুরুরাও স্বীয় আত্মাকে বশীভূত করার লক্ষ্যে ধ্যান করে থাকেন। হিন্দুদের ‘যোগধ্যান’ ও বৌদ্ধদের ‘বিপাসনধ্যান’ এর অন্যতম। তবে ইসলামের মোরাকাবা বা ধ্যান এবং অন্য ধর্মের পণ্ডিতদের ধ্যানের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। কারণ মোরাকাবার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভ করা। আর হিন্দু যোগী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধ্যানের উদ্দেশ্য হলো, আত্মাকে বশীভূত করে জাগতিক কিছু অর্জন করা।

পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা ধ্যানের মৌলিক বিষয়গুলোকে নিরীক্ষণ করে দেখতে পেলেন যে এর মাধ্যমে মানসপটে যে বিষয় গেঁথে দেওয়া হয়, সকল অঙ্গপ্রতঙ্গ তাতে সাড়া দেয়। তারা ৬০-৭০ দশকে ধ্যানের ওপর ব্যাপক গবেষণা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে শারীরিক ও মানসিক উভয় রোগের নিরাময়ে ধ্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ধ্যানের এই প্রকারকে তাঁরা ‘মেডিটেশন’ নামে আখ্যায়িত করেন। বর্তমান বিশ্বের অনেক দেশেই রোগ নিরাময়ের মাধ্যমস্বরূপ মেডিটেশনের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের কোয়ান্টাম মেথড ব্যতিক্রমধর্মী এক মেডিটেশনের কথা বলছে। তারা মেডিটেশনের উৎপত্তির মূল গণ্ডিকে অতিক্রম করে এর মাধ্যমে জীবনের সর্বক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন। রোগ নিরাময়ের বিশ্বাসের স্থানে তারা ‘মুক্ত বিশ্বাস’ নামে বিভিন্ন কুফরী আকীদার প্রচার শুরু করেছে।

ব্যতিক্রমধর্মী এই মেডিটেশনের উদ্ভাবক হলেন কোয়ান্টাম মেথডের প্রধান গুরুজি শহীদ আল বোখারী মহাজাতক। যিনি প্রথমে জ্যোতিষী ছিলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি মূলত এ-জাতীয় মেডিটেশনের মূল আবিষ্কারক ডা. বেনসন বা ডা. ডিন অরশীনের বাতলানো ফর্মূলা থেকে সূত্র গ্রহণ করেন। অতঃপর এর সাথে নিজ গবেষণালব্ধ জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিভিন্ন দর্শন যুক্ত করে এই বিশেষ মেডিটেশন আবিষ্কার করেন।

তাঁর নব আবিষ্কৃত এই মেডিটেশনের প্রতি সব ধর্মের মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য, বিশেষত হিন্দু ও বৌদ্ধদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য তাদের ধর্মের বিভিন্ন রীতিনীতি ও আকীদা বিশ্বাসের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে।

সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, কোয়ান্টাম মেথড পশ্চিমা দেশের প্রচলিত মেডিটেশন নয়; বরং এটি একটি নতুন মতবাদ ও জীবনব্যবস্থার নাম। যার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও সব ধর্মের মিশ্রণ ঘটিয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে নতুন এক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে, ঠিক যেমনটা করেছিল বাদশা আকবর তার ভ্রান্ত ‘দ্বীনে ইলাহী’ আবিষ্কার করে।

প্রায় তিন যুগ পূর্বে ১৯৭৩ সালে তদানীন্তন ‘মাসিক ঢাকা ডাইজেস্ট’ পত্রিকায় অতন্দ্রীয় বিষয়ে শহীদ বাখারী লেখালেখির মাধ্যমে উক্ত প্রচেষ্টার গোড়াপত্তন করেন। ১৯৭৫ সালে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রায়’ এ বিষয়ে অনেকগুলো লেখা প্রকাশিত হয়। ১৯৮০ সালে তারা ঢাকার শান্তিনগরে সর্বপ্রথম অফিস খোলে। ১৯৮৩ সালে এই মেডিটেশনকে ব্যাপকভাবে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘যোগ মেডিটেশন কেন্দ্র’ স্থাপন করা হয়। ১৯৮৬ সালে এই কেন্দ্র ‘ যোগ ফাউন্ডেশন’ নামে পরিচিতি লাভ করে। অন্যদিকে মহাজাতক জনপ্রিয়তা লাভের উদ্দেশ্যে তাঁর আবি®কৃত মেডিটেশন সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লিখতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর উদ্দেশ্য সাধিত হয় এবং মানুষের মাঝে এ বিষয়ে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। এ সুযোগেই তিনি নিয়মিতভাবে ‘মেডিটেশন কোর্স’ চালু করে দেন।

১৯৯৩ সালের ৭ জানুয়ারি মেডিটেশনের প্রথম কোর্স শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে উক্ত মেডিটেশনের ৩০০-এর অধিক কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। মহাজাতক ‘আকবরী দ্বীনে ইলাহীর’ ন্যায় মেডিটেশনের নামে তাঁর ভ্রান্ত মতাদর্শের দীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন এবং সর্ব ধর্মের সমন্বয়ে গঠিত উক্ত ভ্রান্ত মতবাদের মাধ্যমে তিনি অবুঝ মুসলমানদের ঈমান হরণ করে চলেছেন।

আমাদের দেশের মুসলমানরা ধর্ম সম্পর্কে যতটা আবেগী, ততটা জ্ঞানী নয়। ধর্ম সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানও রাখে না, এ ধরনের মুসলমানের সংখ্যাও কম নয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জ্ঞানের দৈন্যতাকে পুঁজি করে যুগে যুগে অনেকেই মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে কোয়ান্টাম মেথড একই পথ অবলম্বন করে সুকৌশলে মুসলমানদের ঈমান-আকীদার মূলে আঘাত হানছে। অথচ ঈমান হলো এমন এক মহাদৌলত, যা বিশুদ্ধ থাকলে জান্নাতের নিশ্চয়তা রয়েছে, যদিও আমল ত্রুটিপুর্ণ হয়। পক্ষান্তরে যদি ঈমান ত্রুটিযুক্ত হয় তাহলে সারা জীবনের আমলও ফলপ্রসূ হয় না। তাই ঈমানের এই অমূল্য রতনকে সদা সব ধরনের কালিমা থেকে মুক্ত রাখা সকলের কর্তব্য।মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করার লক্ষ্যে আমরা এখানে কোয়ান্টাম মেথডের কিছু ঈমান বিধ্বংসী মতবাদ তুলে ধরছি।

১. অসীম শক্তির অধিকারী আমার মন, যা চাই তাই পাব, যা খুশি তাই নেব। এটি হলো কোয়ান্টাম মেথড কোর্সে ভর্তির পর সর্বপ্রথম পাঠ্য প্রত্যয়ন বাক্য। এটি হলো তাদের মূল চালিকাশক্তি, যা সম্পূর্ণরূপে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী। কেননা কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত মৌলিক একটি আকীদা হলো, একমাত্র আল্লাহ তা’আলার শক্তিই অসীম। তিনি ছাড়া আসমান-জমিনের সকল কিছুর ক্ষমতা সীমাবদ্ধ। সুতরাং মানব মনকে অসীম শক্তির অধিকারী বলা সুষ্পষ্ট কুফরী।
এ ছাড়া ‘যা চাই তাই পাব’- এ কথা সুস্পষ্ট তাকদীরের বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং কোরআন অস্বীকারের শামীল। কোরআন শরীফে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর যখন আপনি কোনো কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। আর আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন। (সুরা আলে ইমরান : ১৫৯, এ বিষয়ে আরো দ্রষ্টব্য: সূরা তাওবা : ৫১, সূরা তাগাবুন : ১৩ . সূরা ইসুফ : ৬৭, সূরা আল ফুরকান : ৫৮ ইত্যাদি)

সুতরাং প্রমাণিত হলো, ‘যা চাই তাই পাব’-এর মধ্যে আল্লাহ তা’আলার ওপর ভরসাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে যদি এভাবে বলা হতো, ‘যা চাই তাই পাব, যদি আল্লাহ চান’ তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না।

২. ‘যা চাই তাই পাব-এখানে প্রশ্ন হলো কে দেবে? এর উত্তর কোয়ান্টাম কণিকার ২৩৯ পৃষ্ঠায় এভাবে দেওয়া হয়েছে- কোয়ান্টামের মতে আল্লাহ/গড/ভগবান /প্রকৃতি যে কেউ দাতা হতে পারে।’
এখানে লক্ষণীয় হলো, আল্লাহর সাথে গড, ভগবান এবং প্রকৃতিকে দাতা হিসেবে মেনে নেওয়ার মাধ্যমে সুস্পষ্ট শিরক করা হয়েছে। আর শিরক দ্বারা ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। অতএব কোয়ান্টামের এই মতবাদ সম্পূর্ণ ঈমান বিধ্বংসী মতবাদ।

তাছাড়া ‘যা চাই তাই পাব’-কথাটি সম্পূর্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ পৃথিবীতে শতভাগ চাওয়া-পাওয়াতে পরিণত হওয়া অসম্ভব। যেমনটা আল্লাহ তা’আলা কোরআনে বলেছেন, ‘মানুষ যা চায় তাই কি পায়?’ (সূরা আন নাজম ২৪) মানুষের সকল চাওয়া যদি পৃথিবীতে পূর্ণ হতো, তাহলে তো পৃথিবীই জান্নাত হয়ে যেত। চাওয়ার সাথে পাওয়ার শতভাগ সংযোগ হবে জান্নাতে। সেখানেই মানুষের সর্বপ্রকারের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করা হবে। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আর তোমরা সেখানে যা চাইবে তা-ই পাবে।’ (সূরা হামীম সিজদা : ৩১)

৩. কোয়ান্টামের মতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইসলাম মোটকথা সকল ধর্মের মৌলিক শিক্ষা এক। কাজেই যেকোনো ধর্ম পালনই যথেষ্ট। সকল ধর্মই গ্রহণযোগ্য। (কোয়ান্টাম উচ্ছাস, পৃ. ৯) ইসলামে পূর্বের সকল নবী-রাসূল ও আসমানী কিতাবসমূহকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার পরও সকল ধর্ম গ্রহণযোগ্য থাকবে অথবা নিজ নিজ ধর্ম অনুসারে আমল কালে মুক্তি পাওয়া যাবে; বরং এই স্বীকৃতির অর্থ এই যে পূর্বের নবী-রাসূলগণ সত্য ছিলেন এবং তাঁদের যুগে তাঁদের কিতাবও সত্য ছিল। কিন্তু কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের সমস্ত আসমানী কিতাব রহিত হয়ে গেছে। তাই তো আল্লাহ তা’আলা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, ‘ যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কস্মিনকালেও তার পক্ষ হতে তা গ্রহণ করা হবে না, আর আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা আলে ইমরান : ৮৫)

যেখানে কোরআনে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হলো, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম পরকালীন মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয় সেখানে কোয়ান্টাম মেথড কিভাবে কোন অধিকারে অন্য ধর্মকেও গ্রহণযোগ্যতার সনদ দিচ্ছে? তা ছাড়া একই সময়ে একাধিক ধর্মকে গ্রহণযোগ্য বলা যুক্তিবিরুদ্ধ। কেননা ধর্ম হলো জীবনযাপনের জন্য একটি আসমানী সংবিধান। একই দেশে একই সময়ে একাধিক সংবিধান যেমন কার্যকর নয় তেমনিভাবে আল্লাহর জমিনেও একই সময়ে একাধিক ধর্ম বা সংবিধান গ্রহণযোগ্য নয়। যেহেতু সর্বশেষ আসমানী কিতাব কোরআনের মাধ্যমে শুধুমাত্র ইসলামকেই গ্রহণযোগ্য ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে, তাই অন্য সব ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ রহিত ও অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে। যেমন আল্লাহ ঘোষণা দিচ্ছেন, ‘কেবলমাত্র ইসলামই হলো আল্লাহর নিকট মনোনীত ধর্ম।’ (সূরা আলে ইমরান : ১৯)

কোয়ান্টাম মেথড অন্য ধর্মকে গ্রহণযোগ্য বলে নিজেদের ঈমান যেমন ধ্বংস করেছে, তেমনিভাবে এই মতবাদে দীক্ষিত করে সাধারণ মুসলমানদের ঈমানও নষ্ট করে যাচ্ছে।

৪. কোয়ান্টামের উদ্ভাবিত জীবনদৃষ্টির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘কোয়ান্টাম হচ্ছে সেই সায়েন্স অব লিভিং, যা বলে দেয় জীবনটাকে কিভাবে সুন্দর করা যায়। ভুল থেকে কিভাবে দূরে থাকা যায়। পাপ কত কম করা যায়। ভালো বা কল্যাণ, কত বেশি করা যায়। কোয়ান্টামের শিক্ষা ও ক্ষেত্রে নবী রাসূলদের যে শিক্ষা ওলী-বুজুর্গদের যে শিক্ষা, মুনি-ঋষিদের যে শিক্ষা, তা থেকে আলাদা কিছু নয় হাজার বছর ধরে তারা যে শিক্ষা দিয়ে এসেছেন, কোয়ান্টাম সে কথাগুলো বলছে। শুধু ভাষাটা আধুনিক। (হাজারো প্রশ্নের জবাব, মহাজতক ১/৩০১)

এখানে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করা হলো যে, কোয়ান্টামের শিক্ষা হলো, নবী-রাসূলদের তাওহীদি বাণী ও মুনি-ঋষিদের কুফরী মতবাদ সমন্বিত একটি রূপ। অতএব সবাধান হে মুসলিম ভাই। কোয়ান্টামে দীক্ষা লাভ করে নিজের ঈমান খোয়াবেন না।

নবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত জীবনব্যবস্থার ওপর সন্তষ্ট হতে না পারা কোয়ান্টামের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। স্বীয় বুদ্ধিমত্তার ওপর ভরসা করে বিভিন্ন ধর্মের নির্যাস আর বিজ্ঞানী থিওরির মিশ্রণ ঘটিয়ে সফলতার সূত্র আবিষ্কার করা তাদের সবচেয়ে বড় ভুল।

প্রকৃত মুসলমান হতে হলে বিধাতা হিসেবে একমাত্র আল্লাহ তা’আলার ওপর আস্থাশীল হতে হবে এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকেই একমাত্র পালনীয় আদর্শ মনে করতে হবে। সেই সাথে সর্বাস্থায় এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে সকল প্রশ্নের উত্তর, সকল সমস্যার সমাধান এবং সকল চাহিদা পূরণের দিকনির্দেশনা একমাত্র কোরআন ও সূন্নাহর মাঝে রয়েছে। একই সাথে কোরআন-সুন্নাহ প্রদত্ত জীবনব্যবস্থায় তুষ্ট থেকে তার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণে নিজকে তাতে সঁপে দিতে হবে। এ মর্মে আল্লাহ্ তা’আলা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমার ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।’ (সূরা মায়িদা : ৩)

সুতরাং প্রমাণিত হলো যে কোয়ান্টামের আবি®কৃত জীবন-বিজ্ঞানের অনুসরণ করার অর্থই হলো ইসলামের পূর্ণতাকে অস্বীকার করে একটি শিরকি ও কুফরী মতবাদ গ্রহণ করা, যা বেঈমান হওয়ার নামান্তর। তাই যারা না বুঝে ইতিমধ্যে কোয়ান্টামের আদর্শ গ্রহণ করেছেন কিংবা তাতে প্রবেশ করতে চাইছেন তারা এখনই সর্তক হোন। তাওবা করে সঠিক ইসলাম ধর্মে ফিরে আসুন এবং পূর্ণাঙ্গরূপে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলুন। প্রকৃত ইসলামের মাঝেই রয়েছে দুনিয়ার সফলতা ও আখিরাতের কামিয়াবী।

তাই আসুন, আমরা কোয়ান্টামসহ অন্য সব বাতিল মতবাদ পরিত্যাগ করি এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের চর্চা করি। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

বি. দ্র: : কোয়ান্টাম মেথডের আরো অনেক মতবাদ রয়েছে, যা কোরআন ও হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক। এখানে এর অধিক আলোচনা উপযোগী নয়। যাঁরা আরো বিস্তারিত জানতে আগ্রহী তাঁরা ব্রাউজ করুন।

http://monthlyalabrar. wordpress. com সংগ্রহ করুন ‘কোরআন হাদীসের আলোকে কোয়ান্টাম মেথড’ বইটি। (মুফতী মনসুরুল হক্ব)