প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ ১২ম সংখ্যা, জুন ২০১৭, শাবান-রমজান ১৪৩৮ হিজরী, জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

তাহাদিগকে বলঃ না, আমার খোদার শপথ, তোমাদিগকে অবশ্যই পুনরুত্থিত করা হইবে১। পরে তোমাদিগকে অবশ্যই জানাইয়া দেওয়া হইবে তোমরা (দুনিয়ায়) কি কি করিয়াছ। আর এইরূপ করা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।

৮. অতএব ঈমান আন আল্লাহর প্রতি, তাহার রাসূলের প্রতি এবং সেই নূরের প্রতি যাহা আমরা নাযিল করিয়াছি২। যাহা তোমরা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে পুরোপুরি অবহিত।

৯. (এই বিষয়ে তোমরা টের পাইবে) যখন একত্রিত হওয়ার দিন তিনি তোমাদের সকলকে একত্রিত করিবেন৩। সেই দিনটি হইবে তোমাদের পরস্পরের হার-জিতের দিন৪।যে লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনিয়াছে ও নেক আমল করে, আল্লাহ তাহার গুনাহ ঝাড়িয়া ফেলিবেন এবং তাহাকে এমন সব জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন, যে সবের পীঠদেশে ঝর্ণা ধারা সদা প্রবাহমান থাকিবে। এই লোকেরা চিরকাল উহাতে থাকিবে। ইহাই বড় সাফল্য।

১০. আর যেসব লোক কুফর করিয়াছে এবং আমাদের আয়াতসমূহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করিয়াছে, তাহারা দোযখের অধিবাসী হইবে। উহাতে তাহারা চিরকাল থাকিবে। আর উহা নিকৃষ্টতম প্রত্যাবর্তনের স্থান।

১১. কোন বিপদ কখনও আসে না, কিন্তু আসে আল্লাহর অনুমতিক্রমেই। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে আল্লাহ তাহার দিলকে হেদায়াত দান করেন। আর আল্লাহ্ সব কিছু জানেন।

টীকাঃ
১ এখানে এ প্রশ্নওঠে, – একজন পরকাল অবিশ্বাসীকে আপনি পরকালের সংবাদ কসম খেয়ে দিন বা কসম না খেয়ে দিন- তাতে কি পার্থক্য আসে যায়? যখন সে ঐ জিনিস মানে না, তখন আপনি শপথ করে তাকে বলছেন বলে সে কেমন করে তা মেনে নেবে? এর উত্তর হচ্ছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাদের সম্বোধন করছিলেন, তারা ছিল সেই সব লোক যারা নিজেদের ব্যক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ কথা ভালোভাবে জানতো যে, তিনি সারা জীবনে কখনো মিথ্যা বলেননি, সুতরাং তারা মুখে তার বিরুদ্ধে যতই মিথ্যা অপবাদ রচনা করতে থাকুক না কেন, নিজেদের অন্তরের মধ্যে তারা ধারণাই করতে পারতো না যে- এরূপ সাচ্চা মানুষ কখনো খোদার শপথ করে এমন কথা বলতে পারে, যার সত্য হওয়া সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ও দৃঢ় প্রত্যয় না থাকে।
২ এখানে পুর্বাপর প্রসঙ্গ থেকে স্বতঃই একথা বোঝা যায় যে, “নূরের প্রতি যাহা নাযিল করিয়াছি”-এর অর্থ কুরআন। আলোক (নূর) যেরূপ নিজেই প্রকাশ পায় ও চারি পাশের সমস্ত জিনিসকে প্রকাশিত করে দেয় যা পূর্বে অন্ধকারের মধ্যে লুকায়িত ছিল, সেইরূপ কুরআন এমন একটি প্রদীপ যার সত্যতা স্বতঃই প্রকট, এবং তার আলোকে মানুষ সে সমস্ত সমস্যার প্রত্যেকটি বুঝতে ও সমাধান করতে পারে, যা বোঝার পক্ষে তার নিজের জ্ঞানের উপায় উপকরণ ও বুদ্ধি যথেষ্ট নয়।

৩ ‘ইজতেমার (একত্রীকরণ) দিন’-এর অর্থ- কিয়ামত। এবং সকলের একত্র করার অর্থ- সৃষ্টির আদি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার যত মানুষ পয়দা হয়েছে তাদের সকলকে একই সময়ে পুনরুজ্জীবিত করে একত্রিত করা।

৪ অর্থাৎ আসল হার-জিত কিয়ামতের দিন হবে। সেখানে গিয়ে জানা যাবে প্রকৃতপক্ষে কে ক্ষতিগ্রস্ত ও কে লাভবান হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে কে প্রতারিত হয়েছে ও কে বুদ্ধিমান ছিল, প্রকৃতপক্ষে কে নিজের সমস্ত জীবনের পুঁজি এক মিথ্যা কারবারে লাগিয়ে নিজেকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে এবং কে নিজের শক্তি, সামর্থ্য, চেষ্টা, সময় ও সম্পদকে লাভজনক ব্যবসায়ে নিয়োগ করে সমস্ত মুনাফা লুটে নিয়েছে- যা প্রথম ব্যক্তিও অর্জন করতে পারতো যদি সে দুনিয়ার হকীকত (প্রকৃত তত্ত্ব) বোঝার ক্ষেত্রে প্রতারিত না হত।