প্রকাশিত হয়েছে: ‘৭৬বর্ষ- ৩য় সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৬, জিলকদ-জিলহজ ১৪৩৭ হিজরী, ভাদ্র-আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ’ সংখ্যায়

তোমরা যদি সত্যিই তার সব নিয়ামত গণনা করতে চাও,
তাহলে কখনোই তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না।
(সূরা ইবরাহীম : আয়াত -৩৪)

আল্লাহর ঐশী ইচ্ছা এবং বাণীকে বিশ্বাস করবে, তা খারাপ হোক আর ভালো হোক

সমস্ত ক্ষমতাধর মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
(সামগ্রিকভাবে গোটা) দুনিয়ার ওপর কিংবা (ব্যক্তিগতভাবে) তোমাদের ওপর যখনি কোনো বিপর্যয় আসে, তাকে অস্তিত্ব দান করার (বহু) আগেই তার বিবরণ একটি গ্রন্থে লেখা থাকে, আর আল্লাহ তায়ালার জন্যে এ কাজ অত্যন্ত সহজ। (আগেই লিখে রাখার এ ব্যবস্থাটি এ জন্যেই রাখা হয়েছে) যাতে করে তোমাদের কাছ থেকে যা কিছু (সুযোগ সুবিধা) হারিয়ে গেছে তার জন্যে তোমরা আফসোস না কর এবং আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মযা কিছু প্রদান করেছেন তাতেও যেন তোমরা বেশি হর্ষোৎফুল্ল না হও। আল্লাহ তায়ালা এমন সব লোকদের ভালবাসেন না যারা ঔদ্ধত্য ও অহংকার প্রদর্শন করে বেড়ায়। (সূরা হাদীদ : আয়াত – ২২-২৩)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন-
(ন্যায় প্রতিা ও অন্যায় নির্মূল করার জন্যে) যুদ্ধ তোমাদের ওপর ফরয করে দেয়া হয়েছে, আর সেটাই তোমাদের ভালো লাগে না। কিন্তু (তোমাদের জেনে রাখা উচিত) এমনও তো হতে পারে, যা তোমাদের ভালো লাগে না, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে কল্যাণ। আবার (একইভাবে) এমন কোনো জিনিস, যা তোমাদের খুবই ভালো লাগবে, কিন্তু (পরিমাণে) তা হবে তোমাদের জন্যে (খুবই) ক্ষতিকর। আল্লাহ তায়ালাই সবচাইতে ভালো জানেন, তোমরা কিছুই জানো না। (সূরা বাকারা : আয়াত -২১৬)
আল্লাহর বাণীকে বিশ্বাস কর, যা বিপদের মুহূর্তে তোমার মনের প্রশান্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যখন কেউ পরিপূর্ণভাবে বুঝতে অক্ষম যে, আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি অতি দয়ালু এবং তার জন্য সবকিছু সহজ করে দেন এবং তিনি সর্বজ্ঞানী এবং কিয়ামতের দিন তিনিই পুরষ্কার দাতা। তাই আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীল বান্দাকে তাঁর অফুরন্ত পুরষ্কারের ভাণ্ডার থেকে পুরষ্কার দান করেন। যদি আমরা চিন্তা করি এবং সেই অনুসারে কাজ করি, তাহলে এটা আমাদের বিপদের মধ্যে দুঃখ-হতাশাকে শান্তি এবং আনন্দে পরিবর্তন করে দেয়।

যা আামাদের হতাশাকে দূর করতে পারে এবং বিপদের প্রভাবকে হ্রাস করতে পারে নিম্নে তা বর্ণিত হলো-
১. মনে কর বিপদ যে বিপদ তার প্রকৃত কদায়ক ফল থেকে ভালো হতে পারে।
২. তাদের কথা চিন্তা কর, যারা এর চাইতে বড় বিপদের সম্মুখীন হয়েছে।
৩. তোমাদের প্রতি যে নিয়ামত রয়েছে তার দিকে তাকাও, অনেকে তা থেকেও বঞ্চিত।
৪. বিপদের সময় আশা-হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ কর না।
৫. অতঃপর করে সাথে অবশ্যই আরাম রয়েছে।
৬. নিশ্চয় করে সাথে আছে আরাম। (সূরা আত-তীন : আয়াত -৫-৬)

মানুষের মনের সুন্দর হাসিই অন্যদের কাছে সুখের বার্তা দেয়

আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কেউই সে ক্ষণটির উদঘাটন করতে পারবে না
(সূরা আন-নাজম : আয়াত -৫৮)

যা মানুষকে উন্নত করে তাই সবচাইতে ভালো জিনিস

মোস্তফা মোহাম্মদ বলেন- আমি একজন সুখী মানুষ। কেননা, আমি সাধারণ মানুষ এবং সাধারণ উপার্জন করি। আমার স্বাস্থ্য সাধারণ এবং আমার জীবন-যাত্রার মান সাধারণ এবং আমার সব কিছুই অল্প আছে। যার অর্থ আমার অনেক প্রণোদন আছে এবং সেটি হলো আমার জীবন। প্রণোদন হলো আমার মন এবং জীবন। যা সত্যিকারের সুখে ভরা, যার ওপর নির্ভর করে আমি আমার সুখকে ত্বরান্বিত করে থাকি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, আমার কথাগুলো পড়ে আল্লাহ যেন তাদের সাধারণ জীবন দান করেন এবং সবকিছুই স্বল্প দান করেন।
আমি সমস্ত ক্ষমতাধর আল্লাহর রহমতে সিক্ত। আমার মা তর্কশাস্ত্র সম্পর্কে যথে জানতেন না, কিন্তু তার উপস্থিত বুদ্ধি ছিল যথে। আমি এই ব্যাপারে পড়াশোনা ছাড়া যেই কথা বলতাম তিনি তা বুঝতে পারতেন। তিনি পূর্ণতা চাইতেন এবং পূর্ণতা অর্থ যথে চাওয়া, এবং সবকিছুই অল্প থাকা এবং অত্যাধিক মনের শক্তি থাকা।

ঝুলানো হাতি বা নকল হাসি কপটচারিতার লক্ষণ

প্রার্থনাই আমার আনন্দ

হতাশাবাদিরা হতাশার আবহাওয়া তৈরি করে

একজন ব্যক্তি সে তার সাথিদের ওপর তার মানসিকতার প্রভাব বিস্তার করে। যদি কেউ এমন ব্যক্তির বন্ধু হয় কিংবা জীবন সঙ্গী হয়, অথবা সহকর্মী হয়, তাহলে শান্তি, আনন্দময় এবং আশাবাদী, তার সঙ্গীর গুণে তার চরিত্রকে ভালো চরিত্রে রূপান্তর করবে। কিন্তু যদি সে হিংসুক এবং দুঃখী হয়ে জীবনের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়, সর্বদা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ এবং হতাশাবাদী হয়, তাহলে সে তার সঙ্গীর গুণে জীবনকে নিরানন্দ দুঃশ্চিন্তায় রূপান্তর করবে অনেকটা সংক্রামক রোগের মতো।
এটা যে শুধুমাত্র মানুষের মাধ্যমেই আক্রান্ত হবে ঠিক তা নয়, এটা বই, টিভি, রেডিও অনুান ইত্যাদি থেকেও হতে পারে। এ পৃথিবীতে কিছু সংখ্যক আশাবাদী এবং কিছু আছে হতাশাবাদী। কিছু দুঃশ্চিন্তাকে বাড়িয়ে দেয় এবং কিছু মনের শান্তিকে বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বই, কখনো বসন্ত কখনো হেমন্ত। যদি কোনো ব্যক্তি আশাবাদী বই পছন্দ করে এবং কাউকে উপহার দেয় এইভাবে যে, এটা তার জীবনে উৎসাহ উদ্দীপনা যেভাবে জীবন সফল ও স্বার্থক হবে এবং আত্মবিশ্বাসী হবে, তাহলে সে নিজেকে সুন্দরভাবে প্রতিতি করতে পারবে। কিন্তু যদি কেউ এমন বই পছন্দ করে যা মানুষের প্রকৃতি এবং মূল্যের ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত জীবন দুঃখময় এবং সন্দেহ সংস্কারকে আরো বাড়িয়ে দিবে। তারা জীবনের ব্যাপারে হতাশা ও দুঃখগ্রস্ত মানুষরূপে প্রতিতি হবে, তাহলে সে তাদের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবে অনেকটা স্বাস্থ্যবান লোকের কুরোগের মতো এবং যা তার জীবনকে ধ্বংস করে দিবে।

সুখের পথ তোমার সামনেই আছে তাই জ্ঞানের মাধ্যমে সেই পথকে অনুসন্ধান কর। সঠিক কাজ এবং ভালো মানসিকতা তোমার সকল কাজকে উন্নত করবে আর তুমি সুখী হবে।

তাই তিনি তাদের ওপর মানসিক প্রশান্তি দান করেন
(সূরা আল-ফাতহ : আয়াত -১৮)

অপূর্ণতার অভিযোগের ব্যাপারে সচেতন হও

একজন বৃদ্ধ জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন- যখন আমার বয়স ২০-৩০ বছর ছিল। তখন মজা করতাম কিংবা অভিযোগ করতাম। কেননা, আমি জানতাম না যে আমি সুখী। এখন আমার বয়স ৬০ বছরের ওপরে। এখন আমি পুরোপুরি জানি যে, ২০/৩০ বছর বয়সে আমি কত সুখী ছিলাম। এটা তখন বুঝতে না পারলেও এখন অনেক দেরিতে বুঝতে পারলাম। আমার আগের মত স্মৃতিশক্তি নেই এবং মেধার তীক্ষèতা আগের মতো নেই। সবকিছু কমে গেছে। যদি আমি সঠিক সময়ে বুঝতাম, তাহলে আমি আরো আনন্দের সাথে জীবন-যাপন করতে পারতাম। যখন আমি আমার যৌবনের সাথে অঙ্গীকার করি তখন অভিযোগের কোনো কারণ খুঁজে পাই না। যেটা আমি এখন দেখতে পাই যে, আমি তখন নিঃশেষিত।
প্রিয় পাঠক, আপনার প্রতি আমি বলি :
যদি আপনি আপনার সুখকে অবহেলা করে অন্য কোথাও খুঁজবেন যার অভাব আপনি আপনার সুখকে অবহেলা করবেন এবং এই ধরনের ক্ষেত্রে আপনি অপূর্ণতার অভিযোগকারিদের কাতারে পতিত হবেন। তাই আপনি অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না বর্তমানের এই দুঃসময় চলে না যায়। তারপর আপনি কাঁদবেন এবং অনুশোচনা করবেন যে, সেই সময়ে আপনি কত সুখী ছিলেন কিন্তু আপনি এটা অনুভব করতে পারবেন না। এখন আপনার কিছুই নেই সব হারিয়ে গেছে এবং মস্তিষ্ক দুর্বল ও অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

একজন নারী তার ঘরকে অসহ্য জাহান্নাম থেকে বেহেশতে পরিণত করতে পারে

আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর সন্তু থাকবেন
এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তু থাকবে

বেশিরভাগ সমস্যা ছোট কারণেই হয়ে থাকে

দুর্ভাগ্যক্রমে অনেক সময় সামান্য কারণে হাজার হাজার মানুষ তাদের সাধারণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরিবার ভেঙ্গে যায় এবং বন্ধুত্ব ন হয়ে যায় এবং মানুষজন অনিশ্চিয়তার গর্ভে হারিয়ে যায়। ডেল কার্নেগী এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেন যে, ছোট খাট জিনিস অনেক মানুষকে রাগিয়ে দেয়ার কারণ। ছোট জিনিসই বিবাহিত জীবনে স্বামী স্ত্রী উভয়কে পাগল করে দিতে পারে এবং এই পৃথিবীর অর্ধেক অন্তর্বেদনা এই কারণে সংঘটিত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞগণ এই ব্যাপারে নিশ্চিত হন যে, যারা ৪০ হাজারেরও বেশি বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে গবেষণা করেন, শিকাগোর বিচারক জোসেফ সাবাথ বলেন, আপনি সর্বদা দেখতে পারেন যে, ছোট ছোট বিষয় বিবাহ-বিচ্ছেদের পিছনে মূল কারণ। ফ্রাঙ্ক হোগান, নিউ ইয়ার্কের পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, ফৌজদারী আদালতে যত মামলা আসে তার অর্ধেক সংঘটিত হয় সামান্য কারণে। যেমন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, অনিচ্ছায় তুচ্ছ ব্যাপার, কটু কথা, আক্রমাণাত্মক দৃভিঙ্গি আর হীন মন মানসিকতার দরুণ। এই জাতীয় অতি অহেতুক গুরুত্বহীন ব্যাপারে হত্যা এবং অপরাধের মতো ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে। প্রকৃতগতভাবে অল্পকিছু মানুষ খারাপ এবং শয়তান প্রকৃতির হয় এবং এরাই পৃথিবীর অধিকাংশ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সরাসরি আমাদের শান্তি, গর্ব এবং মর্যাদাকে বিন করে দেয়।

সবচাইতে বড় দয়া একজন ভালো-মানুষের মনে থাকে যা তাকে এবং সকলকে সুখী করে